প্রশাসন

সাড়ে ৫ কোটি অনুদানে রামপুরহাট মেডিকেলে মিটতে চলেছে পানীয়জলের সমস্যা

খায়রুল আনাম ,

 সাড়ে পাঁচ কোটি টাকার জল প্রকল্পে মেডিকেলে মিটতে চলেছে জলের সমস্যা
         
জেলা বীরভূমের মহকুমা শহর রামপুরহাটের  রামপুরহাট মহকুমা হাসপাতাল ধীরে ধীরে উন্নত হলেও,  হাসপাতালের ক্ষেত্রে অতি প্রয়োজনীয় পরিস্রুত পানীয় জলের সমস্যা মেটানো সম্ভব হয়নি।  এবার সেই সমস্যা মিটতে চলেছে বলে আশা করা হচ্ছে।        রামপুরহাট মহকুমা হাসপাতালকে ২০১৩ সালে স্বাস্থ্যজেলা হাসপাতাল স্তরে  উন্নীত করা হয়।  পরে এখানেই পঞ্চাশ  কোটি টাকা ব্যায়ে  আধুনিক মানের পাঁচতলা   সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল গড়ে তোলা হয়। পরে এই চত্বরেই গড়ে ওঠে  রামপুরহাট মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। আর এই মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল চালু হতেই  এখানে পরিস্রুত জলের সমস্যা প্রকটভাবে দেখা দিতে শুরু করে। একটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল চালু করার আগে কেন সেখানে পরিস্রুত জলের ব্যবস্থা করা হয়নি, সে প্রশ্ন এতটাই জোরালোভাবে উঠতে থাকে যে, তা নিয়ে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়তে হয় রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরকে। এখানে ভূগর্ভস্থ জল পাম্পের সাহায্যে তুলে তা বিভিন্ন বিভাগে সরবরাহ  করা হয়ে থাকে। গ্রীষ্মকালে ভূগর্ভস্থ জলে টান পড়ায়  সমস্যা আরও প্রকট হতে শুরু  করে। এদিকে মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল চালু হওয়ার পরে জলের চাহিদা উত্তরোত্তর বাড়তে থাকে।           এই পরিস্থিতি থেকে পরিত্রাণ পেতে  ২০১৭ সালে পার্শ্ববর্তী নলহাটির উপর  দিয়ে প্রবাহিত ব্রাহ্মণী নদী থেকে জলত্তোলন করে  তা রামপুরহাট হাসপাতাল ও  মেডিকেল কলেজ  হাসপাতালে   পাইপ লাইনের মাধ্যমে নিয়ে আসার একটি পরিকল্পনা হাতে নেয় জনস্বাস্থ্য কারিগরি দফতর।  কিন্তু সেই জল মজুত ও সরবরাহ করার জন্য যে রিজার্ভার নির্মাণের প্রয়োজন, তারজন্য প্রয়োজনীয় জমির ব্যবস্থা না করেই এই প্রকল্প হাতে নেওয়ায় প্রকল্প রূপায়নে সমস্যা দেখা দেয়।  দীর্ঘ এক বছর ধরে টানাপোড়েনের পরে ২০১৮ সালে জমির  সমস্যা মিটিয়ে এই প্রকল্পের কাজে হাত দেওয়া হয়। এজন্য জনস্বাস্থ্য কারিগরি দফতর  সাড়ে পাঁচ কোটি টাকা অনুমোদন করে।  এই প্রকল্পে নলহাটির ব্রাহ্মণী নদী থেকে জলত্তোলন করে তা রানিগঞ্জ–মোড়গ্রাম ১৪ নম্বর জাতীয় সড়কের পাশ বরাবর পাইপ লাইন বসিয়ে এগারো কিলোমিটার দূরের  রামপুরহাট হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনার প্রকল্প নেওয়া হয়।   সেই পাইপ লাইন এবং  ব্রাহ্মণী নদীর তীরে পাম্প হাউস  নির্মাণের কাজ ইতিমধ্যেই শেষ করা হয়েছে।   শুধুমাত্র বাকি রয়েছে হাসপাতাল চত্বরের রিজার্ভার নির্মাণের কাজ।  এখানকার হাসপাতাল চত্বরে  দেড় লক্ষ লিটার এবং মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে  দশ লক্ষ লিটার জল ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন রিজার্ভার নির্মাণ করা হচ্ছে।  জনস্বাস্থ্য কারিগরি দফতর আশা করছে যে, আগামী  বছরের প্রথম দিকে ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যেই এই হাসপাতাল ও রামপুরহাট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জল সরবরাহ শুরু হয়ে গেলে, দু’টি ক্ষেত্রেই পরিস্রুত জলের আর কোনও সমস্যা থাকবে না ।।   

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *