সাহিত্য বার্তা

দয়িতার প্রতি অবলাকান্তের পত্র

দয়িতার প্রতি অবলাকান্তের পত্র
সখি,
শীতে তোমার খুব কষ্ট হচ্ছে, বুঝি।ঋতুচক্রের নিয়মে শীত তো আসবে। কিন্তু শীত কে চায়, বল। বসন্তের জন্যেই শীতেরপ্রতি এতো বিরাগ। বসন্ত আসে তার বাহন কোকিল কে সঙ্গী করে। কিন্তু শীত ঠান্ডায় জবুথুব করে দেয়। ঠান্ডায় হাত-পা জমে যায়। অবলাকান্তের এই চিঠি পড়তে তোমার হাত ঠান্ডায় ঠকঠক করে কাঁপবে।কিন্তু এই চিঠি পড়তে পড়তে একটু অতীতের কথা ভাব। ঠাকুরমা, মা দের সময়ে আগুন মালসার কি কদর! আগুন মালসায় গরম ভস্মে হাত পা সেকে গা গরম করতেন ।শীতের সকালে আগুন মালসার দখল নিয়ে ভাই-বোনদের মধ্যে চিরন্তনী ঝগড়া! তোমার খুব দুঃখ হচ্ছে! শীতের এমন উপসর্গ গুলি এক এক করে বিদায় নিয়েছে। সেই আগুন মালসা নেই, শীতের কাঁথা নেই, খেঁজুর গাছের রস নেই, নলেন গুড়ের গন্ধ নেই। শীত এখন বড় বিরক্তিকর, তাই না। সে আসার জন্যে আসে। এখন মোটা মোটা কম্বল আর জ্যাকেটে শীতের কনকনে ঠান্ডা কেড়ে নিয়েছে।পশ্চিমী পোশাকে শীত হার মেনেছে। সে কেবল ভয় দেখায় সেই উলঙ্গ ছেলেটিকে যে সকালে সূর্যের আলোর জন্য প্রার্থনা করে।

শীতের মিষ্টি রোদ গায়ে মাখতে মাখতে কোকিলের গান কি শুনতে পাওনা? বসন্তের মাহাত্বা উপলব্ধির জন্যে শীত চাই। শীত এলে বসন্ত আসে। তাই বলে বসন্ত এলে শীত কি আসবেনা? আসলে বসন্তে আনন্দে আহ্লাদিত হতে চাই। কিন্তু শীতে শীতকাতুরে হতে চাই না। সবাই আনন্দে বসেন্তের পিছনে ছুটে। কে সাধ করে দুঃখের পিছনে ছুটে শীত চায়? কিন্তু শীত লুকিয়ে যাকে বসেন্তের পূর্বরাগে।প্রেমের ছল ছাড়া আর কি! শীত তো ভাবায় কেন বসন্ত আসতে দেরি করে। শীতের গোলাপ কেন গন্ধ ছাড়ে ! লাল শালুকে কেন পুকুর ভরে! সকালে শিশির ভেজা পদ্ম কেন সূর্য দেখে নব বধুর মত লজ্জায় ঘোমটা টানে! অলি কেন পথ ভুলে গান ধরে! পদ্ম তখন গান শুনে ধীরে ধীরে ঘোমটা খোলে। বিরহ পর্ব শুরু হতে তখন ঢের বাকি। সবে শুরু হয়েছে অনুরাগের ছোঁয়া। পাতা খসানোর সময় শুরু হতে এখনও অনেক দেরি। শিশির ভেজা সিক্ত কমলিনী তুমি যে দুঃখি রাই।কৃষ্ণের বাঁশি তখনও কি বাজে! এখন শুধু অপেক্ষা।অপেক্ষার সময় তো এই ঋতু; অন্যথায় তোমার সময় কই? বিরহ জ্বালা সহ্য করতে হলে শীত চাই। ভালোবাসার দৃঢ আলিঙ্গনে বাঁধতে হলে শীত চাই-ই। ‘টাইটানিক’কে দেখলে না আটলান্টিক মহাসাগরে জাহাজ ডুবি; নায়ক জ্যাক বরফে ঠান্ডায় জমে গিয়েও নায়িকা রোজ কে ভেসে থাকা তক্তার উপর ধরে রাখল।প্রেমে হিমশীতল মৃত্যু ও হার মানে। মৃত্যুর পরেও ভালোবাসার হাত ধরে থাকে। প্রেমের জয় সর্বত, সদা। কি শীতে!কি বসন্তে! তুমি শুধু অপেক্ষা কর। অপেক্ষা কর হেমন্তের শিশির ভেজা ঘাসের গন্ধ নিয়ে।পদ্মের গন্ধে তাকে খুঁজে পাচ্ছনা। গোলাপের গন্ধে? অপেক্ষা কর-কর। সে আসবে -আসবেই।
তোমাকে নিয়ে যাবে বসন্ত উৎসবে। মিলন তিথিতে। তখন বনে পূর্নিমার চাঁদ উঠবে। নবরাগে বনতলে সবুজ পাতার নরম বিছানায়। ঘুম থেকে জেগে উঠে চোখ পড়বে বসন্তের চোখে। আনন্দে, লজ্জায়, ভালোবাসায় তোমার চোখের পাতা নত হবে। অবিশ্বাস্য হলেও বসন্ত এসেছে।আবির খেলবে না। বসন্ত আসবে আবির খেলবে না তাকি হয়।আবির খেলে তোমার মুখ লাল হয়ে উঠবে। আরোও রাঙিয়ে সোহাগে সে তোমার মুখ থেকে আবির ঝেড়ে দেবে। গোলাপের গন্ধ কি তখন পাবে না? রাগ-, অনুরাগে, মান-অভিমানে তোমার হৃদয় বীণা কি বেজে উঠবে না? সখি, ভালোবাসা, শুধু ভালোবাসা। এখনও করোনা যায়নি। শীতও জাঁকিয়ে আসছে। তুমি ভালো থাক। সাবধানে থাক। আবির খেলবে না।
ইতি
অবলাকান্ত
তারিখ-২৯-১১-২০২০
সুবল সরদার
মগরাহাট, হরিশংকরপুর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *