প্রশাসন

রবি মরশুমে সব জমিকেই বাংলা শস্যবিমার আনার প্রয়াস

খায়রুল আনাম (সম্পাদক সাপ্তাহিক বীরভূমের কথা )

 রবি মরশুমে সব জমিকেই বাংলা শস্যবিমার আওতায় আনার  চেষ্টা

         
আসন্ন রবি মরশুমে এগারোটি ফসলকে রাজ্য শস্যবিমার আওতায় রাখা হচ্ছে বলে কৃষি দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে। এই ফসলগুলির মধ্যে রয়েছে– বোরো ধান,  আলু, গম, ভুট্টা, ছোলা,  মুসুর, মুগ,  সরষে, তিল, বাদাম ও আখ।  এই এগারোটি শষ্যের মধ্যে কেবলমাত্র  আখ ও আলুর ক্ষেত্রে  প্রতি এক শতক জমির জন্য  কৃষককে মাত্র  ত্রিশ টাকা প্রিমিয়াম দিতে হবে। বাকি টাকা রাজ্য সরকার দিয়ে দিবে। বাকি ফসলের  বিমার প্রিমিয়ামের পুরো টাকাটাই রাজ্য সরকার দিয়ে দিবে। খরিফ মরশুমে কৃষকরা  সরাসরি বাংলা শস্যবিমার আওতায় চলে এসেছিলেন। সে ক্ষেত্রে  কৃষককে  ‘কৃষক বন্ধু’ প্রকল্পের মাধ্যমে এই প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল।   আগের খরিফ মরশুমে যে সব কৃষক   বিমাভুক্ত হয়েছিলেন,  তাঁদের এবার আর নতুন করে আবেদনও  করতে হচ্ছে না।  রবিতে কৃষকরা বাংলা শস্যবিমার   অন্তর্ভুক্ত হতে চাইলে তাঁরা এলাকার গ্রাম পঞ্চায়েতের  মাধ্যমে অন্তর্ভুক্ত হতে পারবেন। রাজ্য সরকারের ‘দুয়ারে সরকার’ প্রকল্পের মাধ্যমেও নাম অন্তর্ভুক্ত করার জন্য আবেদন করা  যাবে।          এবার খরিফ মরশুমে বাংলা শস্যবিমা প্রকল্পে রাজ্য কৃষি দফতর যে ভাবে সাড়া পেয়েছিলো, তা রবি মরশুমেও ধরে রাখতে  চাইছে কৃষি দফতর।  আর তারই পরিপ্রেক্ষিতে বিগত বছরের তুলনায় এবার বেশি সংখ্যক কৃষককে এর অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এজন্য ৫০ লক্ষ কৃষককে  আওতাভুক্ত করার লক্ষ্যমাত্রা রাখা হয়েছে। খরিফ মরশুমের তুলনায়  রবি মরশুমে চাষ হওয়া জমির পরিমাণ কম হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে, সেই নিরিখেই লক্ষ্যমাত্রা  রাখা হচ্ছে।  এবার খরিফ মরশুমে  ৬৭ লক্ষ কৃষক শস্যবিমা প্রকল্পে নাম অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন। রাজ্যে খরিফ মরশুমে  যেখানে ৪০ লক্ষ হেক্টরের বেশি জমিতে চাষ হয়ে থাকে সেখানে,  রবি চাষে জমির পরিমাণ  ৩০ লক্ষ হেক্টর।  বিগত রবি মরশুমে মাত্র  ২৩ লক্ষ হেক্টর জমিকে  শস্যবিমার আওতায় আনা সম্ভব হয়েছিলো।  এবার যাতে রবি চাষ হওয়া সব জমিকেই বাংলা শস্যবিমার আওতায় আনা যায়, সেই চেষ্টাই  শুরু করেছে রাজ্য কৃষি দফতর ।।      

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *