ক্রীড়া সংস্কৃতি

সমাজসেবায় পাশে দাঁড়াচ্ছে ‘মেঠোপথ’

জ্যোতিপ্রকাশ মুখার্জি,


কেউ স্কুল শিক্ষক, কেউ বা কলেজ শিক্ষক অথবা গৃহ শিক্ষক। সঙ্গে আছে কলেজ পড়ুয়া ছাত্রী। প্রত্যেকের স্বপ্ন সমাজের স্বার্থে ভাল কিছু করা। স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার জন্য বছর দু’য়েক আগে জনা কুড়ি শিক্ষিত মানুষের হাত ধরে পূর্ব বর্ধমানের কালনা ১-নং ব্লকের কাঁকুড়িয়ায় গড়ে উঠল স্বেচ্ছাসেবী সংস্হা ‘মেঠোপথ’। ওদের আশা গ্রামের আলপথ ধরে তাদের স্বপ্নের উড়ান ‘মেঠোপথ’ একদিন পৌঁছে যাবে সাফল্যের রাজপথে।
‘মেঠোপথ’ এর প্রত্যেক সদস্য শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত। তাই গৃহশিক্ষা থেকে বঞ্চিত গ্রামের গরীব ছেলেমেয়েদের বিনা বেতনে শিক্ষা দেওয়ার জন্য নিজেদের আর্থিক খরচে গড়ে তুললেন শিক্ষাকেন্দ্র। প্রথম থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত ছাত্রছাত্রীরা সেখানে বিনা বেতনে শিক্ষা লাভের সঙ্গে সঙ্গে বিনামূল্যে শিক্ষা সামগ্রীও পায়। প্রত্যেক সদস্য সেখানে শিক্ষাদান করেন।
পুঁথিগত শিক্ষাদান করেই সদস্যরা থেমে থাকেন নি। ছেলেমেয়েদের আবৃত্তি পাঠ, নাটক ইত্যাদি বিষয়েও প্রশিক্ষণ দিতে থাকেন। যদিও করোনা আবহে এগুলো আপাতত বন্ধ আছে।
ইতিমধ্যে কাঁকুড়িয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের সংখ্যালঘু অধ্যুষিত ছোট্ট গ্রাম কৈলাশপুরে ঘটে যায় ভয়ংকর দুর্ঘটনা। গত কালীপুজোর পরের দিন সকাল দশটা নাগাদ এক বীভৎস অগ্নিকাণ্ডে পর পর চব্বিশটি বাড়ি ভস্মীভূত হয়ে যায়। অসহায় ভাবে চোখের সামনে নিজেদের ঘর জ্বলতে দেখে স্থানীয় মানুষ। ঘরের কোনো জিনিস পত্র অবশিষ্ট ছিল না। আজ কোনো রকমে প্লাস্টিকের ত্রিপল বা পাটকাঠির বেড়া দিয়ে বসবাস করছে তারা।
খবর পেয়েই এগিয়ে আসে ‘মেঠোপথ’। গৃহহারা মানুষদের আর্থিক সাহায্য করতে না পারলেও সেখানকার স্কুল পড়ুয়া ছোটো ছোটো বাচ্ছাদের হাতে লেখার জন্য তিনটি করে খাতা, পেনসিল বক্স, পেন, পেনসিল, মাক্স ও শীতের জন্য একটা করে বড়ো রুমাল তুলে দেন।
এইভাবেই কাঁকুড়িয়া গ্রামের ‘মেঠোপথ’ – এর কর্ণধার শান্তনু ত্রিবেদী সহ প্রদীপ দত্ত, তপন ঘোষ, বিপ্লব ভট্টাচার্য্য, অখিল মাজিলা, অন্বেষা পাল, অতনু পাল, রাজু দাস, দিলীপ পাকড়ে সহ অন্যান্য সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে এলাকার মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে চলেছেন।
কলেজ ছাত্রী অন্বেষা পাল বললেন – ছোট থেকেই মানুষের সেবা করার একটা সুপ্ত ইচ্ছা মনের মধ্যে ছিল। তাই সুযোগ পেয়ে পড়াশোনার পাশাপাশি সেবার কাজও করে চলেছি।
সংস্হার অন্যতম সদস্য বিপ্লব ভট্টাচার্য্য বললেন – আমাদের সদস্যরা শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত। তাই আমরা মূলত শিক্ষামুলক কাজ করে চলেছি। ভবিষ্যতে আমরা আমাদের কাজের পরিধি বৃদ্ধি করব। আমাদের লক্ষ্য সংশ্লিষ্ট এলাকার মানুষের সাহায্য নিয়ে একটি করে স্বেচ্ছায় রক্তদান শিবিরের আয়োজন করা।

One Reply to “সমাজসেবায় পাশে দাঁড়াচ্ছে ‘মেঠোপথ’

  1. অনেক আপ্লুত হলাম। সঙ্গে থাকুন। আমাদের “মেঠোপথ” যেন সামনের দিকে এগিয়ে যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *