ক্রীড়া সংস্কৃতি

পশ্চিম বর্ধমান জেলার দুর্গাপুরে আন্তরিক পত্রিকার উদ্যোগ

নীহারিকা মুখার্জ্জী,


একঘেয়েমিকতার অন্ধকারে হতাশায় নিমজ্জিত মানুষের মনে আশার আলো সঞ্চার করে কাব্য চর্চা। করোনা আবহে লকডাউন জনিত কারণে সেই পথও ছিল বন্ধ। তারও মাঝে যেসব সাহিত্য গোষ্ঠী সমাজের প্রতি নিজেদের দায়বদ্ধতার পরিচয় দিয়ে গেছে এবং এখনো দিয়ে চলেছে তাদের অন্যতম হলো পশ্চিম বর্ধমানের দুর্গাপুরের ‘আন্তরিক’ সাহিত্য পত্রিকা গোষ্ঠী। উৎসব মরশুমে সাহিত্য, সংস্কৃতি ও সমাজ উন্নয়নের জন্য এই গোষ্ঠী অনন্য দৃষ্টান্ত স্হাপন করেছে যা শুধু সাহিত্য প্রেমীদের মনে নয় সমাজের বুকে আশার সঞ্চার করেছে।
করোনা স্বাস্থ্যবিধি মেনে ১৮ ই অক্টোবর এই গোষ্ঠী দুর্গাপুর বি-জোন বিদ্যাসাগর সংলগ্ন একটি সভাগৃহে শারদীয় ২০২০ সংখ্যা প্রকাশ করে। উপস্হিত প্রতিটি অতিথিকে একটি করে মোট ৫২ টি পাতাবাহার সম্মান, ৩৮ টি গাছ দিয়ে শারদ সম্মান জ্ঞাপন করা হয়। এদের মধ্যে চারজন করোনা যোদ্ধার পরিবার ও ছয়জন শিশু শিল্পীও ছিল। এই শুরু। তারপর একাধিক অনুষ্ঠান করে এই গোষ্ঠী।
দুর্গাপুজোর ঠিক আগে পত্রিকার সদস্যরা দুর্গাপুরের বিধাননগরের নিজস্ব অফিসে কবিতা, গান ও আবৃত্তির মাধ্যমে আগমনী অনুষ্ঠান করে।
এখানেই তারা থেমে থাকেনি। করোনা আবহে বাড়িতে বসেই মানুষ যাতে ঠাকুর দর্শন করতে পারে তার জন্য স্হানীয় একটি চ্যানেলকে সঙ্গী করে বেরিয়ে পড়ে পুজো পরিক্রমায় এবং করোনা স্বাস্থ্যবিধি মানার জন্য চারটি প্যাণ্ডেলকে ‘আন্তরিক’ শারদ সম্মান ও মানপত্র দেওয়া হয় ।
‘অন্তিম এতে’ বৃদ্ধাশ্রমে সদ্য প্রয়াত সাহিত্যিক ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়ের লেখা কবিতা, সংগীত ও কবিতা পাঠের মধ্যে দিয়ে কবিকে সম্মান জ্ঞাপন ও বিজয়া সম্মেলন পালন করা হয়। একইসঙ্গে বৃদ্ধাশ্রমের আবাসিক সহ প্রায় ৫০ জনের মধ্যাহ্নভোজনের ব্যবস্হাও করা হয়।
পত্রিকা গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে বিশিষ্ট কবি-সাহিত্যিক কৃষ্ণদেবকে শারদ সম্মান ও মানপত্র প্রদান করা হয়। প্রসঙ্গত কবি কৃষ্ণদেবের বয়স ৮০ বছরের বেশি এবং প্রায় ৬০ বছর ধরে তিনি কাব্য -সাহিত্য চর্চা করে চলেছেন। ঐ দিন পত্রিকা গোষ্ঠীর নবীন প্রতিভারা প্রবীণ কবির কাছে অনেক কিছু শেখার সুযোগ পায়। এইভাবে করোনা প্রায় ছয়টি অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে ‘আন্তরিক’ পত্রিকা গোষ্ঠী তাদের সামাজিক দায়িত্ব পালন করে।
অর্চনা সিংহরায়, মনোজ সিংহরায়, অর্পিতা ভৌমিক, অঙ্কিত ঘোষ, উমাশঙ্কর সেন প্রমুখ সদস্যদের সক্রিয় প্রচেষ্টা প্রতিটি অনুষ্ঠানের একটা আলাদা মাত্রা এনে দেয়।
সম্পাদিকা অন্তরা সিংহরায় বলেন- সাহিত্যের প্রতি আন্তরিক ভালবাসার জন্যই পত্রিকা প্রকাশ করে থাকি। নবীন কবি প্রতিভাদের উৎসাহ দেওয়ার জন্য স্হানীয়দের সহযোগিতায় রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে অনুষ্ঠানও করে থাকি। করোনা আবহে সেভাবে বাইরে যেতে না পারলেও করোনা বিধি মেনে ছোট ছোট অনুষ্ঠান করার চেষ্টা করেছি। মানুষের ভালবাসা ও পরিবারের সহযোগীতা নিয়ে আজ এবং আগামী দিনে এই পত্রিকা এগিয়ে চলবে।
রাণীগঞ্জের বিষ্ময়কর প্রতিভা কবি রাজা চৌধুরী একদিকে গীতিকার ও সুরকার। তিনি বললেন – ‘আন্তরিক’ গোষ্ঠী কাব্য জগতের গৌরব। এদের জন্যই এলাকার নবীন কবিদের প্রতিভার বিকাশ ঘটছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *