হাইকোর্ট সংবাদ

অভিষেক গুন্ডা সম্বোধনে কি জোড়া মামলা হতে চলেছে?

অভিষেকের ‘গুন্ডা’ সম্বোধনে কি জোড়া মামলা হতে চলেছে? 

মোল্লা জসিমউদ্দিন (টিপু),

সম্প্রতি ডায়মন্ডহারবারের তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘গুন্ডা’ সম্বোধন ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক আলোড়ন পড়ে যায়। যার রেশ পৌঁছেছে সর্বভারতীয় স্তরেরও। ইতিমধ্যেই বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কে তিনদিনের সময়সীমা দিয়ে লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছিলেন।যার সময়সীমা শেষ হয়ে গেছে। বিজেপির রাজ্য সভাপতির পাঠানো লিগ্যাল নোটিশের কোন প্রতুত্তর দেননি তৃণমূল সাংসদ। আগামী সোমবার কলকাতা হাইকোর্টে তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে মানহানি মামলা দাখিল করতে পারেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি। এইরূপ জানা গেছে বিজেপি সুত্রে। উল্লেখ্য, কলকাতা হাইকোর্টে সাংসদ – বিধায়কদের ফৌজদারি মামলার শুনানির জন্য আলাদাভাবে কয়েকটি বেঞ্চ চালু হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ আসানসোলের বিজেপি সাংসদ বাবুল সুপ্রিয়র বিরুদ্ধে মানহানি মামলা খারিজ করেছিল নব গঠিত কলকাতা হাইকোর্টের আলাদাভাবে গড়া বেঞ্চ। আগামী সোমবারে তৃনমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে যেমন মানহানি মামলা দাখিলের সম্ভাবনা রয়েছে। ঠিক তেমনি মধ্যপ্রদেশের ইন্দোরের বিধায়ক আকাশ বিজয়বর্গী ডায়মন্ডহারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে নিম্ন আদালতে মামলা দাখিল করতে চলেছেন। ইন্দোরের বিজেপি বিধায়ক আকাশ বিজয়বর্গীর আইনজীবী বিশ্বামিত্র ভার্গব সংবাদমাধ্যম কে জানিয়েছেন – ” মানহানি মামলা দাখিলের প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে রয়েছে, সোমবারই দাখিল হতে পারে মামলা টি “। সম্প্রতি ডায়মন্ডহারবারের তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ সহ এই রাজ্যের দায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক কৈলাশ বিজয়বর্গীর ছেলে আকাশ বিজয়বর্গী কে গুন্ডা সম্বোধন করেছিলেন। বিজেপির রাজ্য সভাপতি ইতিমধ্যেই তিনদিনের সময়সীমা জানিয়ে নিঃশর্ত ক্ষমাপ্রার্থনা চেয়ে লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছেন। তার সময়সীমা শেষ হয়ে গেছে। তবে কৈলাশ বিজয়বর্গীর ছেলে আকাশ বিজয়বর্গী কোন লিগ্যাল নোটিশ না পাঠিয়েই সরাসরি নিম্ন আদালতে মানহানি মামলা দাখিল করতে চলেছেন বলে জানা গেছে। রাজ্য রাজনীতিতে আইনী উত্তাপ শুরু হয়েগেছে শাসক বনাম বিরোধী দলের মধ্যে।যদিও ইতিপূর্বে বেশকিছু লিগ্যাল নোটিশ তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় পাঠিয়েছিলেন বিজেপির বেশ কয়েক জন কেন্দ্রীয় নেতাদের বিরুদ্ধে। সম্প্রতি দক্ষিণ ২৪ পরগণার সাতগেছিয়ায় রাজনৈতিক সভা সারেন ডায়মন্ডহারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে তিনি লাগাদার  ‘ভাইপো’ সম্বোধনে আক্রমনাত্মক হয়ে বিজেপি নেতাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হন। বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ সহ বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতা কৈলাশ বিজয়বর্গী সহ তাঁর ছেলে আকাশ বিজয়বর্গীর বিরুদ্ধে গুন্ডামী সহ মাফিয়ারাজের অভিযোগ তোলেন। সেদিনকার রবিবারসীয় সভায় তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন – “আমি নাম করে বলছি দিলীপ ঘোষ গুন্ডা,  কৈলাশ বিজয়বর্গীর ছেলে আকাশ বিজয়বর্গী গুন্ডা”। এইবিধ নানান মন্তব্য করে আইনী লড়াইয়েরও হুশিয়ারি দিয়েছিলেন অভিষেক। পাশাপাশি গতবারের ডায়মন্ডহারবার সাংসদ প্রয়াত সৌমেন মিত্রের অনুন্নয়ন সহ অনুপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। সেদিন রাতেই অবশ্য প্রয়াত কংগ্রেস নেতা তথা ডায়মন্ডহারবারের প্রাক্তন সাংসদ সৌমেন মিত্রের পুত্র রোহন মিত্র অভিষেকের এহেন মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করে সারদা – রোজভ্যালি সহ চিটফান্ডের দৌরাত্ম রুখতে দিল্লির সর্বপ্রথম দৃষ্টি আকর্ষণ করানো প্রসঙ্গটি তোলেন। ঠিক এইরকম পরিস্থিতিতে বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ তাঁর আইনজীবী পার্থ ঘোষের মাধ্যমে তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কে গুন্ডা সম্বোধনের বিরুদ্ধে লিগ্যাল নোটিশ টি পাঠিয়েছিলেন। তিনদিনের মধ্যে গুন্ডা মন্তব্য প্রত্যাহার সহ নিঃশর্ত ক্ষমাপ্রার্থনা না করলে মানহানি মামলার হুশিয়ারী দিয়েছেন দিলীপ ঘোষ। একজন সর্বভারতীয় রাজনৈতিক দলের দায়িত্বশীল রাজ্য সভাপতি সহ সাংসদের বিরুদ্ধে এহেন মন্তব্য ভূল বার্তা যাবে, তাই গুন্ডা সম্বোধনে ২৪ ঘন্টার মধ্যেই লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছিলেন দিলীপ ঘোষ। এইরুপ দাবি রাজনৈতিক মহলে। বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ সংবাদমাধ্যমে জানিয়েছেন –  ” ৭ কোটির বাড়িতে থাকিনা, আর গাড়ির কনভয়ে ২৫ টি গাড়িও থাকেনা আমার”।  লোকের বাড়িতে থাকি বলে জানিয়েছেন দিলীপ বাবু। রাজ্যপালের বিরুদ্ধে আরেক তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ফৌজদারি মামলা করার হুশিয়ারি সম্পর্কে দিলীপ ঘোষ বলেন – ” উনি আইন টাও ভালোমতো জানেন না, কেননা ভারতীয় সংবিধান অনুযায়ী রাস্ট্রপ্রতি – রাজ্যপালের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করা যায়না “। উল্লেখ্য, রাজ্যপালের এক টুইটার কে ঘিরে মামলার তদন্ত প্রক্রিয়া প্রভাবিত করার জন্য কলকাতা পুলিশের কাছে রাজ্যপালের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করার আবেদন জানিয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করেছিলেন একদা রিজওয়ানুর রহমান খুনের মামলায় আইনজীবী তথা তৃনমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। ঠিক এইরকম পরিস্থিতিতে আগামী সোমবার কলকাতা হাইকোর্টে বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ এবং মধ্যপ্রদেশের ইন্দোরের বিধায়ক আকাশ বিজয়বর্গী ইন্দোরের নিম্ন আদালতে তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে মানহানি মামলা করতে চলেছেন। এখন দেখার রাজনীতির ময়দানে বাকযুদ্ধ আদালতের এজলাসে সওয়াল-জবাবে দুপক্ষের আইনজীবীরা কিভাবে শুরু করেন, তা নিয়ে শুধু এই রাজ্য নয় সর্বভারতীয় ক্ষেত্রে তাকিয়ে ওয়াকিবহাল মহল । কেননা বিধানসভা নির্বাচন আসন্ন বাংলার বুকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *