গ্রীণ জোনে পর্যটন চালুর দাবি ‘নীল নির্জনে’র

প্রশাসন

জ্যোতিপ্রকাশ মুখার্জি


মানুষের ভ্রমণপিপাসু মনকে কাজে লাগিয়ে সারা বিশ্বের সঙ্গে ভারত তথা পশ্চিমবঙ্গেও বেড়ে চলেছে পর্যটন শিল্প। প্রাকৃতিক ও সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্যকে ব্যবহার করে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে নিত্য নতুন গড়ে উঠছে পর্যটন কেন্দ্র, পর্যটকদের জন্য হোটেল বা বিনোদন কেন্দ্র ইত্যাদি। আগত পর্যটকদের জন্য থাকছে সুলভ পরিবহন ব্যবস্হা ও ‘গাইড’।
আগে রাজ্যে পর্যটন কেন্দ্র বলতে মূলত দার্জিলিং বা দীঘাকে বোঝাত। কিন্তু এখন উত্তরবঙ্গ থেকে দক্ষিণবঙ্গ পর্যন্ত অসংখ্য পর্যটন কেন্দ্র গড়ে উঠেছে। প্রতিটি জেলায় গড়ে উঠেছে পর্যটন দপ্তর।
ঠিক একইভাবে দেশ বা বিদেশের বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্রে পর্যটকদের নিয়ে যাওয়ার জন্য রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে গড়ে উঠেছে অসংখ্য ‘ট্যুর এজেন্সি’। অর্থাৎ পর্যটন শিল্পকে কেন্দ্র করে যেমন বিপুল কর্মসংস্হান হয়েছে তেমনি সরকারের কোষাগারে আসছে প্রচুর বিদেশি মুদ্রা। আগামী দিনে এই শিল্পের ভবিষ্যতও উজ্জ্বল।
সারাবছর পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে অল্প বিস্তর ভিড় লেগে থাকলেও মূলত ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রতিটি পর্যটন কেন্দ্রে প্রচুর ভিড় হয়। এই সময় কোনো হোটেল ফাঁকা থাকেনা।অনেক হোটেলকে অস্হায়ীভাবে কর্মী নিয়োগ করতে হয়। চরম ব্যস্ত থাকতে হয় ট্যুর এজেন্সির অফিস কর্মীদের।
কিন্তু এবছর করোনা আতঙ্কে সব হিসেব পাল্টে গেছে। দেশ-বিদেশের সমস্ত পর্যটন কেন্দ্রগুলো বন্ধ। হোটেল ঘরগুলো ফাঁকা পড়ে আছে। ট্যুর এজেন্সির অফিসগুলো বন্ধ হয়ে গেছে। কাজ হারানোর আতঙ্ক গ্রাস করেছে বহু মানুষকে।এক কথায় পর্যটন শিল্প আজ চরম সংকটের মুখোমুখি।
কথা হচ্ছিল বর্ধমান শহরের ট্যুর এজেন্সি ‘নীল নির্জনে’র কর্ণধার শান্তনু পাঁজার সঙ্গে। তার অফিসে সাতজন কর্মী আছে। দেশ-বিদেশ মিলে তার সংস্থা সারাবছর ৪০-৫০ টি ট্যুরের আয়োজন করে থাকে। কিন্তু এবছর প্রায় শুরু থেকেই তার সংস্হাকে একের পর এক বুকিং বাতিল করতে হয়েছে। এমনকি নতুন বুকিং নিতে পারা যাচ্ছেনা। কর্মীদের বেতন দেওয়া কষ্টসাধ্য হয়ে উঠেছে। যেহেতু পর্যটন শিল্প প্রচুর কর্মসংস্হানের সুযোগ এনে দিয়েছে তাই তার অনুরোধ কিভাবে ধীরে ধীরে গ্রীণ জোন এলাকার পর্যটন কেন্দ্রগুলো স্হানীয় পর্যায়ে যথাযথ সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্হ্যবিধি মেনে চালু করা যায় তা নিয়ে সরকার চিন্তা ভাবনা করুক।তবে তিনি এটাও বলতে ভুললেন না – আগে মানুষের জীবন,তারপর ভ্রমণ।
একই সুর শোনা গেল বাঁকুড়ার ‘বনফুল’ পর্যটন কেন্দ্রের পরিচালকদের কণ্ঠে। সম্প্রতি পুরোপুরি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে ব্যবহার করে এই পর্যটন কেন্দ্রটি গড়ে উঠেছে।ভিড় ভালই হচ্ছিল। কিন্তু করোনার জন্য সব স্তব্ধ।যেহেতু বাঁকুড়া গ্রীণ জোনে আছে তাই কর্তৃপক্ষ চাইছে স্হানীয় ভাবে এটি চালু হলে ভালই হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.