কুয়াশা ঢাকা জীবন

সাহিত্য বার্তা

কুয়াশা ঢাকা জীবন
স্বপ্না ব্যানার্জ্জী

আমি অপরূপা, আমি ষোড়শবর্ষীয়া,
আমি অনন্যা আমি এক আটপৌড়ে অহমিকা,
পরনে আমার লাল জরির বেনারসি শাড়ি,
দুই হাতের তালুতে আছে নিসর্গের ভরা যৌবন রাঙা মেহেন্দি,
হাতে কঙ্কন বালা বাউটি চুড়ি, গলায় গজমতি
আর ললন্তিকা আর পায়ের নুপুরের কিঙ্কিণী আওয়াজ
আমার সুউচ্চ কপাল আর খাড়া নাকের উপর
জ্বলজ্বল করছে একটা বড় লাল টিপ,
একদিন জনারণ্য হারিয়ে ফেলা সেই আমি,
নর রূপে নববধূর সাজে এক বুক ভালোবাসা
দুই হাতে লাল গোলাপ হাতে দণ্ডায়মান তোমার আশায়,
আজকের তরুণ তুমি তোমার উল্লাস ও কম নয়
নতুন জীবনের চলার আয়োজন কে বরন মালা হাতে
বরণ করবে তুমি, সম্মুখে তোমার ভাগ্য দ্বার,
আকাশ জুড়ে নীলের চাদর, সারা বাড়ি
আলো ঝলমল রোশনাই আর লোকজনের গমগম মুহূর্ত !
কি দিয়ে করবো তোমায় বরণ??
সেদিন ছিল আগুন ঝরা ফাগুন,
উল্লাসে অলিন্দে অপেক্ষায় ছিলাম আমি,
চঞ্চল পায়ে আনমনে অতি কাছে আসবে যখন
তখন আমার খোঁপার গোলাপ গভীর কোন
ভাবনার সমুদ্রে শুধু হাঁটবে আর হাঁটবে,
প্রহরের পর প্রহর গুনি, জানি তুমি আসবে,
ঘুমন্ত নগরী, বাস্তবের নিষ্ঠুরতা, আলো আঁধারির
মাঝে সংগ্রাম করতে করতে ঝিমিয়ে পড়েছে,
ভোর হয়ে এলো নির্ঘুম চোখে দেখি আকাশের
অন্ধকার টা কেটে গেছে দূর থেকে ভেসে আসে পাখির কূজন,
কেটে গেল অস্বস্তির ভুলে ভরা একটি রাত,
একটি সুখের স্বপ্ন তো আসতে পারতো আমার জীবনে,
আজ তা বাসি ফুলের মত,
আমি আজ ষোড়শবর্ষীয়া অভাগা নারী,
এক মুঠো সুখ পেতে চেয়েছিলাম, কুয়াশায় ঢেকে গেল জীবন !

Leave a Reply

Your email address will not be published.