ঝুড়ি বেঁচে চলে সংসার, লকডাউনে অসহায় বার্ধক্য ভাতা থেকে বঞ্চিত এই দম্পতি

প্রশাসন

জ্যোতিপ্রকাশ মুখার্জি


লকডাউনের জন্য অধিকাংশ মানুষ আজ গৃহবন্দী। একাকিত্ব যাতে মনের মধ্যে হতাশা নিয়ে না আসে তার জন্য কেউ কেউ মেতে উঠেছে সৃষ্টি কর্মে। এর মাধ্যমে কেউ পাচ্ছেন আনন্দের খোরাক, কেউ বা আয়ের সুযোগ।
বীরভূমের রামপুরহাট থানার নারায়ণপুর অঞ্চলের কুসুমডৈ গ্রামের কাশীনাথ মণ্ডল (৭৫)। স্ত্রী আদুরী মণ্ডল (৭০) কে নিয়ে সংসার।একমাত্র সন্তান আলাদা থাকে।খড় ও টালির চালযুক্ত মাটির ঘরে বাস। সামান্য চাষযোগ্য জমি থাকলেও বয়স জনিত কারণে ঠিকমত চাষ করা হয়ে ওঠেনা।পরের উপর নির্ভর করতে হয়।স্বামী-স্ত্রী কেউই বয়স্ক ভাতা পাননা। বারবার পঞ্চায়েতে আবেদন করেও ব্যর্থ হয়েছেন। অর্থাৎ পুরোপুরি অভাবের সংসার। ঠিক এই পরিস্থিতিতে অতীতের শেখা বিদ্যা কাজে লাগাতে শুরু করলেন কাশীনাথ বাবু।
একটা সময় কাশীনাথ বাবু ঝুড়ি, মাছ ধরার খালুই বা আড়া, মই ইত্যাদি তৈরি করা শিখেছিলেন। এমনকি টুকটাক ছুতোর মিস্ত্রির কাজও করতেন। সবই ছিল সখের, পেশা হিসেবে গ্রহণ করেননি।কেউ ‘অর্ডার’ দিলে এবং অবসর থাকলে এইসব জিনিস তৈরি করে দিতেন।বিনিময়ে কিছু অর্থ উপার্জনও হতো।কৃষিপ্রধান এলাকা হওয়ায় কাশীনাথ বাবুর তৈরি জিনিসের কদরও আছে খুব। বিজয় মণ্ডল, তারাপদ মণ্ডল সহ অনেক গ্রামবাসীর বক্তব্য কাশীনাথ বাবুর তৈরি জিনিস খুব মজবুত হয়।এমনকি গৃহবধূরাও তার তৈরি ঝুড়ির প্রশংসায় পঞ্চমুখ।
এখন মাঠে কাজ নাই।লকডাউনের জন্য আত্মীয় -স্বজনের বাড়ি যাওয়ার উপায় নাই। হাতে অফুরন্ত সময়। একঘেয়েমি কাটাতে কাশীনাথ বাবু শুরু করলেন ঝুড়ি বোনা, খালুই তৈরি করা ইত্যাদি কাজ। মাঝে মাঝে আদুরী দেবীও স্বামীর সঙ্গে হাত লাগান। গত দু’মাসে তিনি অনেকগুলি ঝুড়ি,খালুই, মই ইত্যাদি তৈরি করে ফেলেছেন এবং সেগুলি বিক্রি করে বেশ কিছু অর্থ উপার্জনও হয়েছে।
কাশীনাথ বাবু বললেন – এসব কাজ হাতে ধরে কেউ শেখাননি। বাবা বা অন্যদের দেখেই শেখা। প্রতিবেশীদের অনুরোধে মাঝে মাঝে এগুলো তৈরি করে দিয়ে কিছু আয় হতো। এখন বয়স হয়েছে বলে মাঠে সেভাবে পরিশ্রম করতে পারিনা। তাই এই লকডাউনের সময় ‘অর্ডার’ না থাকলেও এগুলো তৈরি করে রাখছি। কিছু বিক্রি করে সংসারের খরচ মেটাচ্ছি।পরে লোকের চাহিদা অনুযায়ী এগুলো বিক্রি করা যাবে। তিনি আরও বললেন আবেদন করা সত্ত্বেও তারা স্বামী-স্ত্রী কোনো সরকারি ভাতা পাননা। এমনকি তার কোনো শিল্পীর পরিচয় পত্রও নাই। সংশ্লিষ্ট পঞ্চায়েত প্রধানের সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পারার জন্য তার কোনো মতামত জানতে পারা যায়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published.