কবিতার নাম – ব্যতিক্রম ধর্ষণ

সাহিত্য বার্তা

ব্যতিক্রমী ধর্ষণ
মধুরিমা মুখোপাধ্যায় রায়

তানিশা চুপ করে বসে আছে। সামনে মাধ্যমিক।
প্রস্তুতি যে খুব ভালো হয়েছে-তা নয়। আসলে হবে কি করে?-যেখানে মন আজ বিবেকের হাতে পরাজিত!
ভূগোল পড়াতে আসতো প্রসূন। গ্রামের দিকের ছেলে-নিতান্ত অভাবের সংসার তাই এম এ পড়তে পড়তে কটা টিউশুনি ধরেছে। তানিশাও তারমধ্যে একজন ছিলো।
সুদর্শন প্রসূন মুখ নীচু করে পড়ায়-
পড়া আর পড়ানো ছাড়া কিচ্ছু বোঝেনা যেন!
তানিশা তো বেশ সুন্দরী-যেন পাত্তাই দেয়না!
কিছুটা কিশোরী বয়েসের আবেগ আর কিছুটা জোর করে ভালোবাসা আদায় করতে একটা প্রেমপত্র প্রসূনের ব্যাগে গুঁজে দিলো তানিশা- সেদিন প্রসূন যখন টয়লেটে গিয়েছিলো-সেই ফাঁকে।
পরদিন প্রসূন এলো নিস্পৃহভাবেই। তানিশাকে আস্তে বললো-“এরকম আর করলে তোমার বাবাকে জানাবো কিন্তু !”
অপমানে আর প্রতিহিংসাতে তানিশা চেঁচিয়ে উঠলো-“বাবা স্যার আমার সাথে অসভ্যতা করছে”।
প্রসূন ওর বাবার হাতে প্রবল অপমানিত হোলো-সাথ বাদ গেলো টিউশুনি-ব্যাগে চিঠিটা প্রমাণ হিসেবে থাকলেও-প্রসূন নিশ্চুপ রইলো।

   তানিশা পরের দিন খবরকাগজে দেখলো প্রসূনের আত্মহত্যার খবরটা !

অনুশোচনায় হতবাক তানিশা!
আসলে সম্মান শুধু মেয়েদের না ছেলেদেরও তো আছে!এটাও ধর্ষণ তবে শরীরের নয় সম্মানের!
এখন অনেক চিন্তা তানিশার মাথাতে ঘুরপাক খাচ্ছে — প্রসূন এটা করলো কেন? তবে কি ও মনে মনে ওকে ভালোবাসতো- তাই অবসাদে এটা করেছে না কি টিচার হিসেবে বাইরে ওর বদনাম ছড়িয়ে পড়লে আর্থিক ও সম্মানের ক্ষেত্রে ক্ষতি ভেবে- ও এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে!
এখন আর ভেবে লাভ কি? কিশোরী বয়সে প্রেমের প্রত্যাখ্যানের এই সকরুণ পরিণতি- তানিশাকে হয়তো সারাজীবন বহন করতে হবে ।।

Leave a Reply

Your email address will not be published.