বিধানসভা ভবনে পালিত হলো রবীন্দ্রজয়ন্তী

প্রশাসন

বিধানসভা ও বিধায়ক হস্টেলে রবীন্দ্রজয়ন্তী পালন

সুবল সাহা

‘যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে তবে একলা চলো রে’ – গান রচনা করে তিনি বহুজন, বহু সম্প্রদায়কে সাহস জুগিয়েছেন। তিনি বলে গেছেন, চিত্ত যেথা ভয় শূন্য উচ্চ যেথা শির, জ্ঞান যেথা মুক্ত, যেথা গৃহের প্রাচীর।

নরদেবতারে দু’বাহু বাড়িয়ে যিনি মহামানবের সাগরতীরে চিত্তকে জাগরিত করবার কথা বলে দুর্ভাগা দেশ থেকে সর্ব তুচ্ছ ভয়কে দূর করে দেবার জন্য মঙ্গলময়ের কাছে আবেদন রাখেন, তিনিই তো সকলের ভরসা- কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

তাঁর ১৫৯ তম জন্মজয়ন্তীতে এবছর ২৫শে বৈশাখ সাক্ষী থাকল অভিনব মুহূর্তগুচ্ছের, যখন সারা পৃথিবীতে ক্রন্দনরোল নিনাদিত হচ্ছে এক অজানা ভাইরাসের আক্রমণে। কিন্তু আপামর বাঙালি আঘাতে আঘাতে দীর্ণ হয়েও রবিঠাকুরের দর্শনের মাঝে খুঁজে পান সঞ্জীবনী সুধা তাই সরকারি বিধি নিষেধকে মান্যতা দিয়ে লকডাউন পালনের মাঝেও রবীন্দ্রজয়ন্তী পালনে কোনো কার্পণ্য দেখায়নি। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা সেই পথে হেঁটে কবিগুরুর প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলী নিবেদনে সেটাকে প্রমাণ করল।

৮ই মে রাজ্য বিধানসভায় ঐদিন ভাবগম্ভীর পরিবেশে উদযাপিত করা হয় রবীন্দ্রজয়ন্তীর সংক্ষিপ্ত অনুষ্ঠান। অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় কবির তৈলচিত্রে মাল্যার্পণ করেন। এরপর বিরোধী দলনেতা আব্দুল মান্নান, বিধায়ক অশোক দেব, সচিব অভিজিৎ সোম, বিশেষ সচিব ধৃতিরঞ্জন পাহাড়ী, যুগ্ম সচিব অরবিন্দ পঞ্চোধ্যায়, অন্যতম যুগ্ম সচিব তথা কমিটির আধিকারিক তুষার কান্তি নন্দী, ডেপুটি মার্শাল ভোলানাথ মুখার্জি সহ অন্যান্য আধিকারিকেরাও কবির চিত্রে মাল্যার্পণ করেন।

সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, পশ্চিমবঙ্গ ও ভারতবর্ষব্যাপী রবীন্দ্রজয়ন্তী অনুষ্ঠান ছাড়াও বিদেশেও যথাযোগ্য মর্যাদা সহকারে দিনটি পালিত হয়ে থাকে । এ বছর করোনার পরিপ্রেক্ষিতে লকডাউনের জন্য বড় মাপের আয়োজন সম্ভব না হলেও, ছোট আকারে সেটি পালিত হচ্ছে। বিধানসভার স্বল্প কর্মী ও আধিকারিকদের সাদর আগ্রহে অনুষ্ঠানের আয়োজনকে তিনি স্বাগত জানান।

বিরোধী দলনেতা আব্দুল মান্নান পরিস্থিতি বিচারকে মেনে নিয়ে লকডাউনকে সমর্থন করে বলেন, ধূমধাম করে রবীন্দ্রজয়ন্তী পালিত না হলেও অন্তর থেকে কবিগুরুকে শ্রদ্ধা নিবেদন করা কম মর্যাদার নয়। সোস্যাল ডিসট্যান্স বজায় রেখে আগত অধ্যক্ষ, বিধায়ক ও অন্যান্য কর্মীদের বিধানসভা চত্বরে অনুষ্ঠান পালনে তিনি সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন। এদিন অনুষ্ঠান্য চলাকালীন অধ্যক্ষের হাতে মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে একান্ন হাজার টাকার চেক তুলে দেন বিধানসভার মুখ্য সাংবাদিক রাজীব শরণ।

অন্যদিকে বিধায়ক হস্টেলেও রবীন্দ্রজয়ন্তী পালিত হয়। কবিগুরুর প্রতিকৃতিতে অধ্যক্ষ ও বিরোধী দলনেতা মাল্যদান করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। সেখানেও বিধানসভার সচিব, যুগ্ম সচিব, বিশেষ সচিব সহ বিধায়ক আলি ইমরান রমজও যথেষ্ট উদ্দীপনার সাথে কবিগুরুর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনে বিনম্রতা দেখান।

Leave a Reply

Your email address will not be published.