লকডাউনে গরীবির বাস্তবতা বড়ই অসহায়

প্রশাসন

ভাগ্যশ্রী তালুকদার


শ্রমের বাজারে বিশেষীকরণ বলে একটা বিষয় রয়েছে।সহজ কথায় একজন মানুষ একটি বিশেষ কাজের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এবং কাজটিতে তিনি দক্ষ।এতে উৎপাদনে মান এবং পরিমাণ বাড়ে। মানে আপনি যদি চেয়ারের পায়া বানানোয় দক্ষতার পরিচয় দেন,আমৃত্যু আপনি চেয়ারের পায়াই বানিয়ে যাবেন।তা বেশ কথা।বর্তমান পরিস্থিতিতে দেখা যাচ্ছে,এই প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শ্রমিকদের একটা বড় অংশ কাজ হারিয়ে গৃহবন্দী।এবং অনিবার্যভাবে পর্যাপ্ত খাদ্যের অভাবে ধুঁকছেন।না পর্যাপ্ত মানে মোটেই মাছ,মাংস,ডিম বা ফলে সাজানো শৌখিন “থালি”র কথা বলছি না,ন্যূনতম ভাত,ডালের অন্যায় রকম সংক্ষিপ্ততার কথা আমি বলছি।এখন প্রশ্ন হল, গরীবের কেতাবি সংজ্ঞা আমরা সবাই জানি এবং মানি যে ভারতের মতন উন্নয়নশীল দেশে গরীব থাকবে না হয় নাকি! তাই এই পোস্টের প্রয়োজন কি। প্রয়োজন বেশ কয়েকটি। যেমন ধরুন করোনা কবলিত সময়ে বা পরবর্তীতে একদল মানুষের মুখোমুখি আমরা হব যারা প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত,কর্মক্ষম কিন্তু কাজের অভাবে ধুঁকছেন।একদল মধ্যবিত্তও এই পরিস্থিতির শিকার, যাদের সংকটটা ঠিক এই মুহূর্তে দাঁড়িয়ে আপনি চোখে না দেখতে পেলেও সেটা ভয়াবহ এবং সুদূরপ্রসারী। এবার রয়েছেন আরেক দল মানুষ যাঁরা অনেকাংশে দিন আনি-দিন খাই।অর্থাৎ লকডাউনের মুহূর্ত থেকে এঁরা কর্মহীন এবং “অর্থহীন”ও বটে।গত মাসেই হয়ত ইনারা আপনার সাধের বাড়ির ইঁট গাঁথছিল,কিম্বা আমার আপনার শখের পোশাকে কাঁচ বসাচ্ছিল।তারপর হঠাৎ থেমে গেল পৃথিবী জোড়া কর্মময়তা।
আজকাল বাজারের কোণায় প্রচণ্ড রোদে ঝিমিয়ে যাওয়া কুণ্ঠিত যে মুখটা আপনি দেখেন,সেটা ওই শ্রমিক মানুষটার।তাঁর সামনে সাজানো উপাদানের স্বল্পতা দেখে পিছিয়ে যাবেন না।ওঁরা সবসময় মুখ ফুটে আপনাকে ডেকে উঠতে পারবেন না,কারণ এই বিশেষ ক্ষেত্রে তাঁর পেশাদারিত্বের অভাব।শুনলাম ১০ টাকায় ৬ টা লেবু বিক্রী হচ্ছে জগৎপুর বাজার এলাকায়(বড়লোকদের স্বর্গোদ্যান নিউটাউন এলাকার প্রায় কোল ঘেঁষা এলাকা)।ওই বাজারেরই সংকীর্ণ কোণাতেই আরেক জন কেবল কতগুলো কচু নিয়ে বসেছে শুধু এই কারণে যে ঘরে থাকলে ছেলেরা খেতে চাইছে!তাই কিনুন দয়া করে এঁদের থেকে।আর একেবারেই দরদাম করবেন না।কারণ এখন দামাদামিতে আপনার জিতে যাওয়ার সম্ভবনাই প্রবল।১০ টাকায় হয়ত ১০ টা লেবুই পেয়ে গেলেন!কিম্বা দু আঁটি শাক!পারলে একটু কিনুন,হয়ত সামান্য অ-দরকারেই।যে বাহারি কাবার বা ফুচকা আপনি খাচ্ছেন(ছবি সহ! যদিও রোজরোজ রান্নার পর অত ছবি তোলার শক্তি কি করে আসে সে বড় প্রশ্ন)তাতে দু চার ফোঁটা অতিরিক্ত লেবু-লঙ্কা স্বাদ বাড়াবে বই কমাবে না!
তাই পাশে দাঁড়ান।একদা কর্মী এই মানুষগুলো আপনার আমার সাহায্য ছাড়াই এতদিন লড়াই করেছে।আজো লড়ছে,তবে এই লড়াইয়ে আমাদের সুযোগ মিলেছে সামিল হওয়ার।তাই লড়াইয়ের শরীক হোন।এই খাদ্যাভাব সম্পূর্ণ মিটবে এতবড় আশাবাদী আকাঙ্ক্ষা আমার নেই।তবে এই রক্তাক্ত বর্তমান যখন আগামীর ইতিহাস হবে তখন এক মানবিক ইতিহাসের গল্প হোক।আগামী সেদিন যেন বলে- সমস্ত মানুষ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়েছিল।হাতে হাত রেখে ভালোবাসার ঘর গড়েছিল পৃথিবীর বুকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.