প্রশাসন

বীরভূমের ভীমপুর প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নেই কোন ডাক্তারবাবু, ৪৫ টি গ্রামের মানুষ বড়ই অসহায়

খায়রুল আনাম,

 

চিকিৎসক না থাকায় প্রায়ই  বন্ধ  প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র
         
গ্রামীণ স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর উন্নয়ন এবং স্বাস্থ্য রক্ষার বিষয়ে সরকারি ভাবে নানা কথা যেমন বলা হচ্ছে  তেমনি,  গ্রামীণ স্বাস্থ্য খাতে সরকারি খরচও বাড়ছে। কিন্তু তার সুবিধা গ্রামাঞ্চলের মুমূর্ষু মানুষ কতটুকু পাচ্ছেন, সে প্রশ্ন বার বার উঠলেও তার কার্যকরী কোনও উত্তর পাওয়া যায় না।         জেলা বীরভূমের প্রান্তসীমার পার্শ্ববর্তী মুর্শিদাবাদ জেলা লাগোয়া পাইকর থানার ভীমপুর প্রাথমিক  স্বাস্থ্যকেন্দ্রের উপরে  নির্ভর করেন বীরভূমের   আমডোল গ্রাম পঞ্চায়েতের   ২১ টি আর পার্শ্ববর্তী মুর্শিদাবাদ জেলার  ২৫ টি গ্রামের মানুষ। এই ৪৫ টি গ্রামের মানুষদের চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়ার জন্য  প্রায় চল্লিশ বছর আগে চালু হয়  ১০ শয্যার  ভীমপুর প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র। সেই সময় এই স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে প্রসব থেকে শুরু করে  ছোটখাটো অপারেশন-সহ অন্যান্য  চিকিৎসা পরিষেবা পাওয়া যেত। চিকিৎসক, নার্সদের থাকার জন্য কোয়ার্টারও রয়েছে।   চিকিৎসা পরিষেবা নিতে আসা দুই জেলার মানুষদের উপস্থিতিতে সর্বদাই গমগম করতো স্বাস্থ্যকেন্দ্র এলাকা।  কিন্তু বছর দশেক ধরে এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রটিতে কোনও চিকিৎসক নেই। বর্তমানে একজন ফার্মাসিস্ট ও একজন মাত্র স্টাফ নার্স কোনক্রমে বাঁচিয়ে রেখেছেন এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চিকিৎসা পরিষেবা।            কিন্তু এলাকার মানুষজনদের অভিযোগ, ওই  ফার্মাসিস্ট ও স্টাফ নার্স  প্রায়ই  স্বাস্থ্যকেন্দ্রে না আসার ফলে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি তালাবন্ধ অবস্থায়  থাকার ফলে যে টুকু স্বাস্থ্য পরিষেবা পাওয়া যেত তাও  প্রায়ই পাওয়া যায় না। গোটা স্বাস্থ্যকেন্দ্র চত্বর আগাছায় ভরে যাওয়ার ফলে, সর্বত্রই সাপ আর অন্যান্য প্রাণীরা নিরাপদে বাসা বেঁধেছে।  পরিত্যক্ত আবাসনগুলি চলে গিয়েছে নেশাখোরদের দখলে।  এখানে কোনও স্বাস্থ্য পরিষেবা  না মেলায়   এলাকার মানুষজনদের  ২০ কিলোমিটার দূরের  মুরারই-১  ব্লক গ্রামীণ হাসপাতাল  বা ১৬ কিলোমিটার দূরের  পাইকরে মুরারই-২ ব্লক  প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসা পরিষেবার জন্য যেতে হয়।  গুরুতর অসুস্থ মানুষজনদের নিয়ে অধিকাংশ সময়ই তাঁদের পরিবারের লোকজনেরা বড় কোনও হাসপাতালে যেতে পারেন না। এই এলাকার অধিকাংশ মানুষই দরিদ্র মজুর হওয়ার কারণে তাঁদের পক্ষে গাড়ি ভাড়া করে অন্যত্র চিকিৎসার জন্য যাওয়া সম্ভব না হওয়ার কারণে অনেক প্রাণই শেষ হয়ে যায় বিনা চিকিৎসায়।  এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে এলাকার মানুষজন  ‘স্বাস্থ্যরক্ষা কমিটি’ গঠন করে,  ভীমপুর  প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি  থেকে যথাযথভাবে   স্বাস্থ্য পরিষেবা পাওয়ার দাবিতে বিভিন্ন স্তরে আবেদনও জানান।  কিন্তু তাতেও কোনও ফল মেলেনি।  বিএমওএইচ ডা. কার্তিক পাত্র জানিয়েছেন, ফার্মাসিস্ট ও  নার্সের অনিয়মিতভাবেভাবে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যাওয়ার ব্যাপারে   তাঁর কাছে কোনও খবর নেই।  তবে, স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসকের অভাবের বিষয়টি স্বাস্থ্যকর্তাদের জানানো হয়েছে।  সিএমওএইচ  ডা. রবীন্দ্রনাথ প্রধান  জানিয়েছেন,  রাজ্য থেকে চিকিৎসক পাঠানো হলেও তাঁরা এখানে জয়েনই করছেন না।  এই অবস্থায় কী করার আছে।  চিকিৎসক পাওয়া গেলে অবশ্যই  ভীমপুর প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পাঠানো হবে ।।                   

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *