প্রশাসন

সুস্বাস্থ্যের উপকারী কড়কনাথ মুরগীর পালন বাড়ছে সালানপুরে

কাজল মিত্র,


  রাজ্য সরকারের আত্মা প্রকল্পের সহযোগিতায় আল্লাডি আদিবাসী গ্রামের যুবকরা  নিজেদের স্বনির্ভর গড়ে তুলেছে। রাজ্য সরকারের সহযোগিতায় সালানপুর ব্লকের বিভিন্ন গোষ্ঠী গুলিকে স্বনির্ভর গড়ে তুলতে বিভিন্ন ভাবে সহযোগিতা করে চলেছে।এই গোষ্ঠী গুলোর মধ্যে পুরুষদের সাথে সাথে মহিলারাও এগিয়ে এসেছে ।ব্লকের বহু মহিলারাও নিজেদের সাবলম্বী গড়ে তুলতে মাশরুম চাষ করছে, তাছাড়া পুরুষেরা কড়কনাথ মুরগি চাষ করে বদলেছে নিজেদের দৈনন্দিন চাহিদা।এই কাজে সালানপুর ব্লকের আল্লাডি গ্রাম পঞ্চায়েতের আদিবাসী যুবকরা সালানপুর ব্লকের কৃষি দপ্তরের উদ্দোগে আত্মা প্রকল্পের সহযোগিতায় কড়কনাথ মুরগি চাষ করছে আর এই কাজে  উৎসাহ প্ৰদান করেছে আত্মা প্রকল্প৷ সালানপুর কৃষি দফতরের বিটিএম উদয়ন দাস বলেন -“আল্লাডি গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত আদিবাসী অধ্যুষিত গ্রামের কয়েকজন যুবক মিলে এই মুরগি চাষ শুরু করেন ৷তারা সালানপুর কৃষি দপ্তর থেকে প্রায়  ৩০০ টি মুরগির ছানা নিয়ে প্রথমে ফার্ম করে চাষ শুরু করে পরবর্তীকালে একটি বড় জায়গা ঘিরে মুক্ত আকাশের নিচে বর্তমানে মুরগিগুলি পালন করছেন ৷রাতে মুরগিগুলি থাকার জন্য একটি চাটাইয়ের ঘর বানিয়েছেন ওই যুবকরা “৷ তাঁদের কথায় এই মুরগিগুলি খুব পোষ মানে ৷মূলত মধ্যপ্রদেশে এই মুরগির চাষ হত ৷ সেখানে বেশ জনপ্রিয় এই মুরগি কুচকুচে কালো ৷ কোনও কোনও মুরগির গায়ে সোনালি রেখাও আছে ৷ এই মুরগির মাংস, ঝুঁটি ও কালো ৷ এমনকী এই মুরগির ডিমের রং সাধারণ মুরগির থেকে আলাদা ৷ তবে এই মুরগির মাংস ও ডিমে রয়েছে প্রচুর গুণাগুণ ৷ সালানপুরের সহ কৃষি অধিকর্তা রাজর্ষি বন্দ্যোপাধ্যায় জানান -“এই মুরগি যত দৌড়াদৌড়ি করতে পারবে তত তাড়াতাড়ি বেড়ে উঠবে । এই মুরগির চাষে লাভ অনেক বেশি । প্রায় ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা কিলো দরে এই মুরগি বিক্রি হয় । ডিমের দাম সাধারণের থেকে প্রায় তিন চার গুণ বেশি ।গবেষকদের মতে, এই মুরগির মাংসে প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে যা ক্যানসার আটকাতে সক্ষম ৷এই মুরগির মাংসে কোলেস্টরল অনেক কম হবার ফলে  হার্টের রোগী ও ডায়াবেটিসের রোগীদের জন্য অত্যন্ত উপকারী ৷সাধারণ পোলট্রি মুরগি বা দেশি মুরগির থেকে কড়কনাথ মুরগির স্বাদ একেবারেই অন্য। বর্তমানে এই মুরগি খেতে মানুষ খুব পছন্দ করে । এছাড়া বাজারে এই মুরগির ডিমের চাহিদা আছে যথেষ্ট ।তাছাড়া বিভিন্ন ধরনের সব্জি চাষ ও মৎস্য চাষ করেও বহু গোষ্ঠী নিজেদের স্বনির্ভর গড়ে তুলেছে ।মহিলারা মাশরুম চাষ করে বহু মহিলা টাকা উপার্জন করছে কারন মাশরুমের চাহিদাও রয়েছে প্রচুর ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *