এনআরসিতে মুসলিমদের শুধু নয় বিপদ হিন্দুদেরও?

রাজনীতি

জাহির আব্বাস

বন্ধুরা, এবার সময় হয়েছে,এখনই লিখিত কিছু অর্ডার দিক কেন্দ্রীয় সরকার যে, এন আর সি হচ্ছে না। কিম্বা অবিলম্বে ওই কালা আইন প্রত্যাহার করে নিক।
এনআরসি হলে সত্যিই তো হিন্দু মুসলমান জাতি ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে বহু মানুষই বিপদে পড়বেন। কেন নাগরিকরা উটকো এই বিপদকে মেনে নেবেন এতদিন পর? কেন তাদেরকে আবার পরীক্ষা দিতে হবে, যাদেরকে তারা নির্বাচিত করলেন তাদের কাছে? এত সাহস পায় কোথা থেকে? দেশের মানুষ ছেড়ে দেবে? অত সহজ নয়! আজ আন্দোলনের ভয়ে তো তো করে একবার বলছেন এনআরসি হবে।আবার একবার বলছেন, হবে না! কেন এই দুমুখো কথা? প্রশ্ন তুলুন, এইসব বিষয়ে। তাহলে কি আন্দোলন কম হয়ে গেলে, তখন তারা বলবেন, এবার এনআরসি হবে। ধিক্কার!
আসল জায়গাটা ধরে যখন আমি আপনি যুক্তি সাজাচ্ছেন তখন ওই একগুঁয়ে অন্ধরা বলছেন, কারোর ভয় নেই, বিভ্রান্ত হবেন না। এনআরসি তে ভারতীয় নাগরিককে পরীক্ষা দিতে হবে! আর আপনারা বলছেন কারো ভয় নেই, বিভ্রান্ত হবেন না! আশ্চর্য!
আমাদের চোখে কয়েক লাখী-চশমা না থাকলেও চাক্ষুষ দেখতে পাচ্ছি, বহু বহু সাধারণ ভারতীয় নাগরিক হিন্দু মুসলিম জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে এনআরসির যাঁতাকলে(কাগুজে প্রমাণ না দিতে পেরে) ভয়াবহ বিপদে পড়বেই পড়বে। এখন তো আবার গণতন্ত্রের কন্ঠকে টুঁটি টিপে ধরা হচ্ছে। আন্দোলনের অধিকারকে অন্যায় ভাবে জোরপূর্বক কেড়ে নেওয়া হচ্ছে । এরা কি তাহলে জোর করে এন আর সি করবেন! আর আপামর ভারতবাসী তা চোখ বুজে মেনে নেবে? জেনে রাখুন,130 কোটির ভারতবাসীর হয়ত 30 কোটির ভোট পেয়ে আপনারা ক্ষমতায় এসেছেন। তাও যে 30 কোটি ভোট দিয়েছেন, তারাও তখন জানতেন না যে, ক্ষমতার অপব্যবহার করে এরাই আবার তাদেরকে এভাবে বিপদের সামনে দাঁড় করাবেন, এনআরসির যাঁতাকলে পিষ্ট করবে! 100 কোটির উপর আপনাদের ভাবনাকে চাপিয়ে দেবেন, আর 100 কোটি জনগন সুড়সুড় করে মেনে নেবে! এই আধুনিক যুগে! এত ক্ষ্যাপা ভাববেন না ভারতীয় জনগণকে! এত বোকা ভাববেন না, ভারতবর্ষের হিন্দু মুসলমানের ফুল বাগিচার নাগরিকদের! আন্দোলন তো হবেই! ধীরে ধীরে আপনাদের মত বদলানোর মত এদেরও আন্দোলনের ঝাঁজ ক্রমশ বদলে গিয়ে তীব্র থেকে তীব্রতর হবেই হবে! আর এহেন অসাংবিধানিক কালাকানুনকে প্রত্যাহার করে নিতে বাধ্য করাবেন আন্দোলনরত এই বীর সেনানীরা,সুস্থ চেতনা সম্পন্ন নাগরিকরা।
হাল ছাড়লে চলবেনা বন্ধুরা!সেইসব আশঙ্কিত সাধারণ ভারতীয় নাগরিকদের হয়ে আপনাদের চিন্তা ও যুক্তি উপস্থাপিত হোক দ্ব্যর্থহীনভাবে। যে যেখানে আছেন জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে প্রতিটা আন্দোলনে শামিল হন ও শান্তিপূর্ণ গণ আন্দোলনের মধ্য দিয়ে আশঙ্কার কালোমেঘকে কাটিয়ে দেওয়ার শপথ করুন। সেই সাথে শপথ নিন, দেশের অশুভ শক্তিকে মুছে দিতে।
কিসের এত অহমিকা! কিসের এত দম্ভ !পাই কোথা থেকে এই দম্ভ, অহমিকা! কে দিয়েছিল,কারা দিয়েছিল তাদের এই সাহস!বন্ধু, আমরা আমরাই !যাদেরকে পরীক্ষায় ফেলতে চাওয়া হচ্ছে, তারা, তারাই! আজ পিছিয়ে আসতে ইগোতে লাগছে! পিছিয়ে আসতে যদি না চান;তবে,জেনে রাখুন, এইসব এনআরসির পরীক্ষার্থীরা আপনাদের হিমালয়ের চূড়া থেকে সমুদ্রের গভীর তলদেশে তলিয়ে দিতে পারে।
জেনো বন্ধু,এনআরসির বিপদ কারোর একার নয়! এ বিপদ আমার আপনার সবার! এ বিপদ জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষের! সর্বোপরি,এ বিপদ আমার সে–ই বিশাল বড় ভারতবর্ষটার! অতএব আসুন, কোনো প্ররোচনায় পা না দিয়ে, কোন মিথ্যে আশ্বাসে ভুলে না গিয়ে, হাতে হাত রেখে বুক ভরা সাহস নিয়ে ঐক্যবদ্ধ হই ও শান্তিপূর্ণ গণআন্দোলন গড়ে তুলি।

Leave a Reply

Your email address will not be published.