লেখাপড়া না জানা ব্যক্তির স্কুল গড়াতে কৃতজ্ঞ পূর্বস্থলী

প্রশাসন

দীপঙ্কর চক্রবর্তী

নিরক্ষর ব্যাক্তির স্বপ্ন স্বার্থক
লেখাপড়া না জানা একটি মানুষ।সেই তিনিই এগিয়ে এলেন এলাকার ছেলেমেয়েদের লেখাপড়া শিখিয়ে মানুষ করতে।তাঁরই দান করা জমিতে ১৯৫২ সালে গড়ে ওঠে পূর্বস্হলী ২নং ব্লকের পারুলিয়ায় একটি মাধ্যমিক ও দুটি প্রাথমিক স্কুল।তিনি মহেন্দ্রলাল সরকার।তাঁর স্ত্রীর নামে মাধ্যমিক স্কুলের নাম কুলকামিনী স্কুল।স্কুলের শুরুর দিনগুলো অবশ্য মোটেই ভালো ছিল না।সেই কথাই বার বার উঠে আসছিল স্কুলের একেবারে শুরুর দিকের শিক্ষক সুবোধ কুমার খাঁ এর কাছে।তিনি বলেন ধর্মদাস ব্যানার্জী,ব্রজেন্দ্র কুমার চক্রবর্ত্তী সহ আরো অনেকে মিলে পূর্বস্হলী,বেলগাছী,পারুলিয়া,তেলিনওপাড়া,মাদ্রা,বড়গাছী প্রভৃতি গ্রামে ঘুরে পড়ুয়া জোগার করতেন।বাবা মাদের বুঝিয়ে তবে সন্তানদের স্কুলে আনতেন।তখন অভিভাবকদের সামান্য বেতনই সকলে ভাগ করে নিতেন।তাঁদের সেই প্রচেষ্টা বিফল হয় নি।ক্রমে স্কুলের সুনাম চারিদিকে ছড়িয়ে পরতে শুরু করেছে।দূরদূরান্তের নানান গ্রাম থেকে পড়ুয়ারা এখানে আসতে শুরু করেছে।গুটিকয়েক ছাত্রছাত্রী নিয়ে শুরু হওয়া পারুলিয়া কুলকামিনী উচ্চ বিদ্যালয়ের বর্তমান পড়ুয়া সংখ্যা ২৫৫০।স্কুল কর্ত্তৃপক্ষের দাবি পড়ুয়ার চাপ থাকা সত্বেও তারা চেষ্টা করেন যাতে ভর্তি হওয়ার মনোবান্ছা নিয়ে এসে কেউ ফিরে না যায়।১৯৭৪ সালে মাধ্যমিক আর ২০০০ সালে স্কুল উচ্চমাধ্যমিকে পঠন পাঠনের অনুমোদন পায়।উচ্চ মাধ্যমিকে বিজ্ঞান ও কলা বিভাগে পঠন পাঠনের ব্যবস্হা রয়েছে।পড়াশুনার ক্ষেত্রে এই স্কুলের পড়ুয়াদের সাফল্য চোখে পড়ার মত।সাহাজদ্দিন শেখ ২০১৭ সালে কালনা মহকুমায় মাধ্যমিকে সর্ব্বোচ্চ নম্বর পায়।২০১৩ সালে মাধ্যমিকে যুগ্ম ভাবে রাজ্যের মধ্যে সৌরাশিস বিশ্বাস প্রথম হয়।অরিজিৎ গড়াই ২০১৬ সালে মাধ্যমিকে রাজ্যের মধ্যে একাূশ স্হান পায়,২০১২ সালে সৌরভ নন্দী ষোড়শ স্হান পায়।২০১৮ সালে অরিত্রিকা পাল মাধ্যমিকে ষষ্ঠ স্হান পায়।তবে শুধু পড়াশোনা নয়।খেলাধূলাতেও এই বিূ্যালয়ের পড়ুয়াদের কৃতিত্ব দেখার মত।স্কুলের ছাত্রী নুপুর সরকার ও পামলিকা দও বেশ কয়েকবার ক্যারাটেতে জাতীয় চ্যাম্পিয়ান হয়েছে।এরা দুজন সেরা কন্যাশ্রীর পুরস্কার পায় রাজ্য সরকারের তরফ থেকে।স্কুলের সহকারী প্রধান শিক্ষক সুব্রত সামন্ত বলেন পড়াশুনার সাথে সাথে এই স্কুলের ছাত্রছাত্রীরা খেলাধূলা,ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রেও স্কুলের সুনাম বাড়িয়েছে।আর তার বড় প্রমান ২০১৭ সালে পারুলিয়া কুলকামিনী উচ্চ বিদ্যালয় রাজ্য শিক্ষা দফতরের তরফে সেরা বিদ্যালয়ের শিরোপা পেয়েছে।স্কুলে বৃওিমূলক শিক্ষার ব্যাবস্হা আছে।বিজ্ঞান ও ভূগোলের পৃথক ল্যাবরেটরিও আছে।আছে কম্পিউটর শিক্ষার ব্যাবস্হস।নিয়মিত পদক্ষেপ নামে স্কুলের পত্রিকা প্রকাশ হয়।রয়েছে লাইব্রেরী ও অনুষ্ঠান মন্চ।স্কুলের বর্তমান ও প্রাক্তন ছাত্রছাত্রীরা জানান স্কুলের শিক্ষক শিক্ষিকাদের অবদান ভোলার নয়।পড়াশুনা,খেলা,সাংস্কৃতিক,সহ বিভিন্ন বিষয় আমরা স্যারদের কাছ থেকে অনেক ভাবে উপকৃত হই। পাশাপাশি শিক্ষা বিস্তারে এই স্কু আগামূ দিনেও একই ভাবে এগিয়ে যাবে।স্কুলের প্রধান শিক্ষক তথা পূর্বস্হলী উওরের বিধায়ক প্রদীপ কুমার সাহা এই স্কুলের প্রাক্তন ছাত্র।স্কুলের সাফল্যে তিনি অত্যন্ত গর্বিত।তবে সাপল্যের সব কৃতিত্ব তিনি দিতে চান সকল শিক্ষক শিক্ষিকা,পড়ুয়া,অভিভাবক, গ্রসমবাসীদের।এই সব শিরোপা ধরে রাকতে আমাদের দায়িত্ব আরো বেড়ে গেল।সকলে মিলে একসঙে কাজ করতে হবে।স্কুল পরিচালন সমিতির সভাপতি শ্যামসুন্দর ব্যানার্জী বলেন পড়ুয়ারা বিভিন্ন ক্ষেত্রে সাফল্যে স্কুলকে এগিয়ে নিয়ে গেছে তার ধারা পরবর্তী প্রজন্মের পড়ুয়ারা আরো বেশি করে এগিয়ে নিযে যাবে এই আশা।

Leave a Reply

Your email address will not be published.