বর্ধমান রেলস্টেশনে ভবঘুরেদের নিয়ে বড়দিন পালনে ‘উড়ান’

প্রশাসন

জ্যোতিপ্রকাশ মুখার্জি

গতকাল(২৫/১২) দু:স্হদের কম্বল ও পথ শিশুদের টুপি দিয়ে আবার দৃষ্টান্ত স্হাপন করল ছাত্র-ছাত্রীদের দ্বারা পরিচালিত বর্ধমানের স্বেচ্ছাসেবী সংস্হা ‘উড়ান’।
প্রবল ঠাণ্ডায় অধিকাংশ মানুষ যখন চার দেওয়ালের মধ্যে লেপ-কম্বলের নীচে উষ্ণতা খোঁজে ওরা তখন বর্ধমান স্টেশনে ফাঁকা টিকিট কাউণ্টারের সামনে এক টুকরো ছেঁড়া কাপড়ের নীচেই খুঁজে নেয় উষ্ণতা। কেউবা ওভার ব্রীজ বা প্লাটফর্মের ‘সেডের’ নীচে প্রবল ঠান্ডার সঙ্গে লড়াই করে বেঁচে থাকে।ওরা ‘ভবঘুরে’। ওদের মাথার উপর ছাদ বা চারপাশে দেওয়াল নাই। সবদিন খাবারও জোটেনা। ‘বড়দিন’ এর খুশির আলোয় চারপাশ আলোকিত, ‘সান্তাক্লজ’ মার্কা টুপি পড়ে শিশুরা আনন্দে মাতোয়ারা তখন ঐ ‘ভবঘুরে’ শিশুরা অসহায় ভাবে ঘুরে বেড়ায়।তাদের মুখে হাসি ফোটানর জন্য এগিয়ে আসে বর্ধমান শহরের রসিকপুরের স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ‘উড়ান’। প্রসঙ্গত কয়েকদিন আগেই ব্লাড ক্যানসারে আক্রান্ত আট বছরের শিশু আরসাদের জন্যে অর্থ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে এই সংস্হার সদস্যরা পথে নামে।
গতকাল ‘উড়ান’ বর্ধমান স্টেশন চত্বরে থাকা প্রায় ৭৫ জন বয়স্কের হাতে কম্বল এবং ১০০ জন শিশুর হাতে ‘বড়দিন’ এর টুপি তুলে দেয়। এমনকি রাস্তার ধারে বসে থাকা কয়েকজনের হাতেও কম্বল তুলে দেয়। প্রায় ২৫০ জনের জন্য লুচি ও আলুর দমের ব্যবস্হা করে। কম্বল পেয়ে রাসমণি, চাঁদ, হাসানুররা খুব খুশি।তারা দু’হাত তুলে সংস্হার সদস্যদের আশীর্বাদ করে। টুপি পেয়ে গিরি, আবীর, আমিনাদের মুখে হাসির ঝিলিক খেলে যায়।
অসহায় মানুষের হাতে কম্বল তুলে দিতে পেরে সংস্থার সদস্য সামিম, আরফিন, আফসানা, সাবানা, আরফিনরা খুব খুশি। সামিমের বক্তব্য – পড়াশোনার সঙ্গে সঙ্গে সমাজের প্রতি দায়িত্ব পালনও আমাদের কর্তব্য। সাবানার বক্তব্য – এটাই হলো বর্ধমান শহরের বড় বৈশিষ্ট্য।সবাই আমরা সবার পাশে দাঁড়াই।

Leave a Reply

Your email address will not be published.