বড়দিনে চুপি পাখিরালয়ে রেকর্ড ভীড়

প্রশাসন

বড় দিনে চুপি পাখিরালয়ে রেকর্ড ভীড়

দীপঙ্কর চক্রবর্তী

পূর্বস্হলীর চুপি কাষ্ঠশালীতে ছাড়ি নদীতে পরিযায়ী পাখি দেখতে পিকনিক করতে রাজ্যের বিভিন্ন জেলা থেকে বহু পর্যটক বড় দিন উপলক্ষে এখানে ভীড় করে।প্রতিবছর নভেম্বর থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত এখানে শীতের দেশ থেকে ৪০ প্রজাতির পাখপাখালি ভাগীরথীর জলাভূমিতে জড়ো হয়।এখানে জলের ছোট মাছ,গুগলী,জলের পোকা তারা খায়।ডিম পেড়ে বাচ্চা হয় আবার মার্চে গরম পরলে সদলবলে নিজ নিজ দেশো তারা ফিরে যায়।চীন,সাইবেরিয়া,আফগানিস্হান সহ বিভিন্ন শীতের দেশ থেকে এই সব পাখি এখানে আসে।
১৯৮৪ সালে বয়ে যাওয়া ভাগীরথী নদী আপন খেয়ালে দিক পরিবর্তন করে।ফলে কাষ্ঠশালীর আশপাসের নদীটি অশ্বখুড়াকৃতি আকার নেয়।জল স্হির আকার নেয়।এখানকার প্রাকৃতিক পরিবেশ।জলহাওয়া,পাখিদের উপযোগী নির্জন পরিবেশ ও পাখিদের খাদ্য এসবের জন্য প্রতিবছর হাজার হাজার দেশবিদেশের পাখপাখালী এখানে আসা শুরু করে।এলাকার মানুষ খেয়াল রাখে এখানে কেউ পিকনিক করতে এসে মাইক না বাজায়,পটকা না ফাটায় বা পাখি শিকার না করে।পক্ষী প্রেমী সন্জয় মাঝি বলেন আগে এখানে পাখি শিকার হোত আমি প্রশাশনকে জানিয়ে তা বন্ধ করেছি।এখানে গড়ে উঠেছে বনবিথী নামে সেচ্ছাসেবী সংগঠন।তারা পর্যটকদের মধ্যে প্রচার করে পাখিরা কি কি পছন্দ করে আর কি করে না।নবিবক্স সেখ,অচ্যিন্ত সিংহ,অনিম্দ দাসরা জানান এখানে বর্ধমান জেলাপরিষদ,বনদফতর,পূর্বস্হলী পন্চায়েত,২ নং ব্লকথেকে এখানে পাখি দেখার জন্য ওয়াচটাওয়ার,ঢালাই রাস্তা,পার্ক,গেষ্টহাউস,,পানীয় জল,শৌচাগার, অস্হায়ী খাবারের ষ্টল,হোটেল ব্যবস্হা করেছে। বনবিথী প্রতিবছর পাখি সুমারী করে আর পক্ষীদিবস পালন করে।প্রতিবছর ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারী পর্যন্তদূরদূরান্ত থেকে স্কুল থেকে পর্যটকরা এখানে আসে পাখি দেখতে আর পিকনিক করতে।থাকে নৌকার ব্যবস্হা।একটি নৌকায় তিনথেকে চার জন ঘন্টায় দেড়শো টাকায় ঘুড়িয়ে পাখিদেখাবে।তারাফিরে যাবার সময় তাঁতের গামছা,লুঙ্গী,শাড়ী পাবে,পাবে খেজুরের গুর আর অজস্র নার্সারী থেকে শীতের ফুলের চারা,টাটকা সব্জীও।শ্যামসুন্দর তলা থেকে নদীর ধার পর্যন্ত রাস্তায় মানুষের ঢল নামে।এরই মাঝে সাইকেল, মটরসাইকেল,মটরভ্যান চলাচল করে ফলে মহিলা,শিশু ও বয়স্কদের খুব অসুবিধা হয় দেখা গেল।আগেই এই সব যানবাহন আসা বন্ধ করা প্রয়োজন পুলিশের।পর্যটকরা নৌকা করে নদীতে ঘুরতে গিয়ে স্হির জলে মদের বোতল,প্লাষ্টিক,চায়ের কাপ,থালা ফেলছে এগুলোও বন্ধ হওয়া প্রয়োজন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.