রোহিঙ্গাদের নিয়ে অবস্থান জানতে কেন্দ্র ও রাজ্যের রিপোর্ট পেশের নির্দেশ হাইকোর্টের

প্রশাসন

মোল্লা জসিমউদ্দিন

মঙ্গলবার দুপুরে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সব্যসাচী ভট্টাচার্যের এজলাসে এক রোহিঙ্গা দম্পতি কে ফেরত পাঠানো বিষয়ক মামলা উঠে। যেখানে বিচারপতি নির্দেশ দিয়েছেন – ‘ এই মামলার নিস্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত রোহিঙ্গা দম্পতি কে বিতাড়িত করা যাবেনা ‘। সেইসাথে রোহিঙ্গাদের নিয়ে কেন্দ্রীয় এবং রাজ্যসরকারের কি অবস্থান?  তা জানাতে উভয় পক্ষকেই  আগামী ৮ জানুয়ারির মধ্যে হলফনামা পেশের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।আদালত সুত্রে প্রকাশ, ২০১৭ সালে মায়ানমার থেকে প্রাণভয়ে ভারতে চলে আসে এক রোহিঙ্গা দম্পতি। সেসময় উত্তর ২৪ পরগণা জেলা পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয় তারা। সংশ্লিষ্ট মহকুমা আদালতের নির্দেশে বেআইনী অনুপ্রবেশের দায়ে দু বছরের সাজা ঘোষণা হয়। দমদম কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারে তারা বিচারধীন বন্দি ছিলেন। সম্প্রতি এই রোহিঙ্গা দম্পতির সাজার মেয়াদ শেষ হলে রাজ্য সরকারের তরফে মায়ানমার সরকারের হাতে তুলে দেওয়ার বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। এই বিজ্ঞপ্তি কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দারস্থ হয় এই রোহিঙ্গা দম্পতি। মঙ্গলবার দুপুরে এই মামলার শুনানি চলে বিচারপতি সব্যসাচী ভট্টাচার্যের এজলাসে। সেখানে রোহিঙ্গা দম্পতির আইনজীবী বিচারপতির কাছে মানবিকতার অনুরোধে এই রোহিঙ্গা দম্পতি কে ভারত থেকে বিতাড়িত না করার আবেদন জানান। কেননা রোহিঙ্গা দম্পতি ওই দেশে গেলে তাদের মৃত্যু অনিবার্য। যেখানে আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আদালতে রোহিঙ্গাদের নিয়ে মামলা বিবেচনাধীন। সর্বপরি ‘ইউনাইটেড নেশন হাইকমিশনার ফর রিফিউজি’ সংস্থার তরফে এই রোহিঙ্গা দম্পতি কে পরিচয়পত্র দেওয়া হয়েছে। এইবিধ সওয়াল-জবাব শোনার পর বিচারপতি রাজ্য সরকারের জারি করা দেশ থেকে বিতাড়িত করার বিজ্ঞপ্তি খারিজ করে দেন। এই মামলা শেষ না হওয়া পযন্ত রোহিঙ্গা দম্পতি এদেশেই থাকবেন তা নির্দেশে উল্লেখ করেন বিচারপতি । সেইসাথে রোহিঙ্গাদের নিয়ে কেন্দ্রীয় এবং রাজ্য সরকারের কি অবস্থান তা লিখিতভাবে হলফনামা পেশের নির্দেশ দেন আগামী ৮ জানুয়ারির মধ্যে   । এছাড়া বিচারধীন রোহিঙ্গা দম্পতিদের সাথে আইনজীবীর সংশোধনাগারে সাক্ষাতের অনুমতি দেন বিচারপতি।                                                                                                                                                

Leave a Reply

Your email address will not be published.