মুখ্যমন্ত্রীর এনআরসি বিষয়ক সরকারি বিজ্ঞাপনে অন্তবর্তী নিষেধাজ্ঞা হাইকোর্টের

প্রশাসন

মুখ্যমন্ত্রীর এনআরসি বিষয়ক সরকারি বিজ্ঞাপনে অন্তবর্তী নিষেধাজ্ঞা হাইকোর্টের 

মোল্লা জসিমউদ্দিন



সোমবার দুপুরে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ মুখ্যমন্ত্রীর এনআরসি বিষয়ক সরকারি বিজ্ঞাপনে অন্তবর্তী নিষেধাজ্ঞা জারী করলো। গত ১৪ ডিসেম্বর মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যের শীর্ষ পুলিশ কর্তাদের পাশে বসিয়ে রাজ্যে এনআরসি  এবং ক্যাএএ নিয়ে যে ভিডিও বিজ্ঞাপন এবং পরবর্তীতে প্রিন্ট বিজ্ঞাপন করেছিলেন। তার উপর অন্তবর্তী নিষেধাজ্ঞা জারী করলো কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ। তবে এই মামলার পরবর্তী শুনানি অর্থাৎ ৯ জানুয়ারি এই সরকারি বিজ্ঞাপনের সপক্ষে রাজ্য সরকারের বক্তব্য শুনবে হাইকোর্ট। সেইসাথে কেন্দ্র এবং রেল দপ্তর কে হলফনামা পেশের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এদিন। যার রিপোর্ট পেশের সময়সীমা আগামী ৯ জানুয়ারি অবধি।  ‘এনআরসি এবং ক্যাএএ আইন মানছি না এবং এই রাজ্যে কার্যকর হবেনা’ এহেন মুখ্যমন্ত্রীর সরকারি বিজ্ঞাপনটি সমস্ত প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক, পোর্টাল সহ সোশাল মিডিয়ায় নিষেধাজ্ঞা জারী করা হয়েছে। এদিন রাজ্যের তরফে এজি কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চে শুনানিতে জানিয়েছেন – ‘গোটা রাজ্যে ইন্টারনেট পরিষেবা স্বাভাবিক’।অপরদিকে এনআরসি এবং ক্যাএএ আন্দ্রোলনের ফলে যেসব হিংস্বাত্মক ঘটনাগুলিতে রেলের সম্পত্তি নষ্ট হয়েছে, তার পূর্নাঙ্গ রিপোর্ট পেশ করতে বলা হয়েছে রেল এবং কেন্দ্র কে। সম্প্রতি দেশের সাংসদের দুটি কক্ষে ( লোকসভা ও রাজ্যসভা)  প্রথম পয্যায়ে এনআরসি এবং পরবর্তী পয্যায়ে ক্যাএএ আইন পাশ হয়। তা রাস্ট্রপ্রতির অনুমোদনে আইন হিসাবে মান্যতা পায়। তাই দেশের সাংসদ জনপ্রতিনিধিদের পাশ করা এই আইন কিভাবে এক রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তা মানছিনা এবং এই রাজ্যে কার্যকর হবেনা, বলেন তা নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চে ৮ টি মামলা দাখিল হয়। মূলত সরকারি খরচে কিভাবে মুখ্যমন্ত্রী এইধরনের বিজ্ঞাপন করলেন, সেইসাথে রাজ্যে বিভিন্ন প্রান্তে হিংসাত্মক ঘটনা গুলি মুখ্যমন্ত্রীর প্ররোচনায়  ঘটলো, এই দাবিগুলি কে সামনে রেখেই মামলা গুলি হয়। সেখানে প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চে  কে রিপোর্ট দিতে নির্দেশ জারী হয়। রাজ্য অবশ্য একপাতার রিপোর্ট পেশ করে। এতে চরম অসন্তুষ্ট হয় কলকাতা হাইকোর্ট। এরপরই আজ অর্থাৎ সোমবার রাজ্যের এনআরসি এবং ক্যাএএর বিরুদ্ধে   সরকারি বিজ্ঞাপনটি তে  অন্তবর্তী নিষেধাজ্ঞা জারী করা হল। আগামী ৯ জানুয়ারি এই মামলার পরবর্তী শুনানিতে রাজ্যের তরফে বিজ্ঞাপনটির সপক্ষে বক্তব্য শুনবে কলকাতা হাইকোর্ট। সম্প্রতি  কেন্দ্রীয় এক প্রতিমন্ত্রী যেখানে রেলের সম্পত্তির নষ্ট রুখতে হামলাকারীদের গুলি চালাবার হুশিয়ারী দিয়েছিলেন। বিজেপির এক সর্বভারতীয় নেতা এই রাজ্যে রাস্ট্রপ্রতি শাসন জারীর মত পরিস্থিতি হয়েছে বলে দাবি রাখেন। বাংলার এক বিজেপির সাংসদ আবার অশালীনতা ছাড়িয়ে পুলিশের গুলিতে ‘নিরোধ’ লাগানো আছে ক্যাব পরবর্তী হিংস্বা রুখতে বলে তির্যক অভিযোগ আনেন। রাজ্যের রিপোর্টে দেখা যাচ্ছে ১৩ ডিসেম্বর এর পর থেকে গোটা রাজ্যের ৭১৫ টি রেলওয়ে স্টেশনের মধ্যে মাত্র ৫ থেকে ৬ টি রেলওয়ে স্টেশন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শতকরা দশিভাগও ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি তাতে। ক্যাবের হিংস্বা নিয়ে ৬৪ টি মামলা দাখিল হয়েছে, যেখানে ৯৩১জন গ্রেপ্তার হয়েছেন। ক্যাবের হিংস্বায় রাজ্যের ভূমিকায় প্রশ্ন তুলে কলকাতা হাইকোর্টে ৮ টি মামলা দাখিল হয়েছে। বেশিরভাগই বিজেপির নেতা কর্মীদের দায়ের করা এইসব মামলা। উল্লেখ্য, বাংলার বিভিন্ন প্রান্তে বিশেষত মুর্শিদাবাদ, হাওড়া, পশ্চিম মেদিনীপুর সহ কলকাতার একাংশে ক্যাব বিরোধী আন্দ্রোলনকারীদের হাতে একের পর এক হিংস্বাত্মক ঘটনা ঘটে। এইসব আন্দ্রোলনকারীদের নিদিষ্ট কোন সংগঠন কিংবা রাজনৈতিক দলের পতাকা সেসময় ছিলনা বলে প্রকাশ। ইতিমধ্যেই ৩৮ টি সরকারি বাস ভাঙচুর হয়েছে। এর মধ্যে ১৪ টি সরকারি বাস পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। অনুরুপভাবে ৬০ টির মত বেসরকারি বাস ভাঙচুর হয়েছে। দক্ষিণপূর্ব এবং পূর্ব রেলের প্রায় ১০০ কোটি সম্পত্তি নষ্ট হয়েছে ক্যাব আন্দ্রোলন ঘিরে। মুর্শিদাবাদের বেলডাঙ্গা এবং হাওড়ার উলুবেড়িয়া স্টেশন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সবচেয়ে বেশি। ঠিক এইরকম পরিস্থিতিতে, চলতি মাসে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চে এক বিজেপি কর্মী সুরজিত সাহার পক্ষে আইনজীবী সুরজিত রায় চৌধুরী দ্রুত শুনানির আর্জি নিয়ে এক জনস্বার্থ মামলা দাখিল করেন। মামলাকারীর দাবি – “পশ্চিমবাংলা সরকারের  লোগো ব্যবহার করে রাজ্যের প্রধান অর্থাৎ মুখ্যমন্ত্রী কেন্দ্রীয় আইন মানবেন না বলে বিজ্ঞাপন চালাছেন, তা অসাংবিধানিক। কেন্দ্রীয় সরকারের বিরোধিতা করছেন। তাও বেআইনী।মুখ্যমন্ত্রীর এই কেন্দ্র বিরোধী অবস্থানের জন্যই রাজ্যজুড়ে হিংস্বাত্মক ঘটনাগুলি ঘটছে”। সোমবার দুপুরে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চে সরকারি বিজ্ঞাপনটি তে সাময়িক স্থগিতাদেশ জারী হল। সেইসাথে রেলের সম্পত্তি নষ্ট নিয়ে পূর্নাঙ্গ রিপোর্ট তলব করা হয়েছে রেল এবং কেন্দ্র থেকে। আগামী ৯ জানুয়ারি এই মামলার পরবর্তীশুনানি রয়েছে।                                                                                                                                                              

Leave a Reply

Your email address will not be published.