বলগনায় মারধরের ঘটনায় গ্রেপ্তার দুই সুদখোর

পুলিশ

সুদিন মন্ডল


ঋণের পরিমাণ ছিল কুড়ি হাজার। মাত্র 11 মাসে তা সুদে-আসলে বেড়ে দাঁড়িয়েছে 98000 এ। এবং তা অনাদায়ে ঋণ গ্রহীতাকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে মারধর।এমনই অবাক করা মহাজনী অত্যাচারের ঘটনার সাক্ষী থাকল ভাতারের বলগোনা গ্রামের দাস পাড়ার মানুষজন ।হতভাগ্য ঐ ঋণ গ্রহীতার নাম কচি দাস। পেশায় ফুচকা বিক্রেতা। স্থানীয়সূত্রে জানা গেছে গতবছর অগ্রহায়ণ মাসে কচি দাস ওই গ্রামেরই পাশের পাড়ার যুবক শেখ জহিরুল ওরফে সান্টুর কাছে কুড়ি হাজার টাকা ধার নেয়। শর্ত ছিল পাঁচ মাসে 5000 টাকা করে শোধ করবে। কিন্তু পাঁচ মাস পেরিয়ে যাওয়া পরেও সান্টু জানায় তার ঋনের পরিমাণ কমেনি কারণ ওগুলো সুদের টাকা। ইতিমধ্যে কচি দাসের বাবা বলাই দাসের মৃত্যু ঘটলে দু-তিন মাস টাকা দেয়া বন্ধ থাকে‌ ফলস্বরূপ সেন্টু চৌধুরী দলবল নিয়ে এসে কচি দাসের বাড়িতে যে 19 বস্তা ধানের মড়াই ছিল সেই ধান বিক্রি করে টাকা বুঝে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ। সব মিলিয়ে কয়েক দফায় জাহিদুল চৌধুরী ওরফে সান্টু কে প্রায় 58 হাজার টাকা দেয়া হয় বলে কচি দাস জানিয়েছেন। তারপরেও ঋণের বকেয়া পরিমাণ থাকে 40000।

অভিযোগ, কচি দাস টাকা দিতে পারব না জানানোয় মঙ্গলবার সকালে সান্টু চৌধুরী তার বাড়িতে দলবল নিয়ে চড়াও হয়ে কচি দাসের স্ত্রী সন্তোষী দাস ও মা সাবিত্রী দাস কে মারধর করে এবং কচি দাস কে মারতে মারতে নিজের পাড়া তুলে নিয়ে যায়। । কচি দাসের স্ত্রী ও মা থানায় এসে এ কথা জানানোয় তড়িঘড়ি ভাতার থানার পুলিশ কচি দাসকে সান্টু চৌধুরীর বাড়ি থেকে উদ্ধার করে আনে। সেইসঙ্গে সান্টু চৌধুরী ও নয়ন শেখ কে অশান্তির অভিযোগে আটক করে আনে। পরবর্তীতে কচি দাসের অভিযোগের ভিত্তিতে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। ভাতার থানার ওসি প্রণব বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন বুধবার ধৃত ওই দুই যুবককে বর্ধমান আদালতে তোলা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.