ভোটের আগে হাইকোর্টে আইনী স্বস্তি মিললো মুকুলের , দুশ্চিন্তায় শাসক শিবির

পুলিশ

মোল্লা জসিমউদ্দিন


আগামী ২৫ নভেম্বর রাজ্যের ৩ টি বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচন হতে চলেছে। এইসব আসনে ত্রিমুখী রাজনৈতিক লড়াই চললেও মুখোমুখি লড়াই মূলত তৃনমুল বনাম বিজেপির। আর বিজেপির তরফে মুকুল রায় রয়েছেন নির্বাচনে দলগত পরিচালনায়। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন ফৌজদারি মামলায় বিজেপি নেতা মুকুল রায় সাময়িক স্বস্তি পেলেও বেহালার সরশুনা প্রতারণা মামলায় আইনী জটে ক্রমশ পড়ছিলেন। ইতিমধ্যেই দিল্লিতে কলকাতা পুলিশের তদন্তকারী এক দল মুকুল রায় কে জেরা চালিয়েছে। আবার সম্প্রতি বেহালায় কলকাতা পুলিশের এক অফিসে ডেকে মুকুল রায় কে জেরা চালিয়েছেন তদন্তকারীরা। কলকাতা হাইকোর্টে এই আর্থিক প্রতারণা মামলায় আইনী রক্ষাকবচের মেয়াদ ছিল ৮ নভেম্বর পর্যন্ত। এরেই মধ্যে আজ অর্থাৎ মঙ্গলবার দুপুরে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি শহিদুল্লা মুন্সির ডিভিশন বেঞ্চে এই মামলাটি পুনরায় উঠে। সেখানে ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে – ‘তদন্তে পূর্ন সহযোগিতার শর্তে আগামী ৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত কলকাতা পুলিশ মুকুল রায় কে গ্রেপ্তার করতে পারবে না’। আগেকার শর্তাবলি গুলি এবারেও প্রযোজ্য। অর্থাৎ পুলিশের তরফে মুকুল রায় কে জেরা করতে গেলে তিনদিন আগে মুকুল রায় কে আগাম নোটিশ করে জানাতে হবে। এই মামলায় পরবর্তী শুনানি আগামী ৩ ডিসেম্বর। অর্থাৎ বলা যায় আসন্ন বিধানসভার উপনির্বাচনে আইনী স্বস্তি পেলেন বিজেপির এই কেন্দ্রীয় নেতা। গত শুনানিতে ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছিল – ‘আগামী ৮ নভেম্বর অবধি এই মামলায় অভিযুক্ত মুকুল রায় আইনী রক্ষাকবচ পাবেন। সেইসাথে তদন্তকারী পুলিশ অফিসারদের তদন্তে পূর্ন সহযোগিতা করতে হবে মুকুল রায় কে। তবে জিজ্ঞাসাবাদের তিনদিন আগে নোটিশ করে অবগত করতে হবে পুলিশ কে’। ইতিপূর্বে ডিভিশন বেঞ্চ প্রশ্ন তুলেছিল পুলিশের তদন্তপ্রক্রিয়ার উপর – জানুয়ারি তে অভিযোগগ্রহণ হওয়ার পর কেন এতদিন পর সক্রিয়তা নিয়ে ?  অভিযোগগ্রহণের প্রায় সাত মাস পর পুলিশ এই মামলায় তৎপরতা দেখায়। সেখানে তদন্তে পূর্ন সহযোগিতার শর্তে আগামী ৪ ডিসেম্বর অবধি রক্ষাকবচের মেয়াদ বাড়ানো হয়। তবে এই মামলার তদন্তকারী পুলিশ অফিসার কে অভিযুক্ত মুকুল রায় কে নির্ধারিত জিজ্ঞাসাবাদের তিনদিন আগে নোটিশ জারী করে অবগত করতে হবে। আগামী ৩ ডিসেম্বর এই মামলার পরবর্তী শুনানি আছে।  এই মামলায় অভিযুক্ত   বাবান ঘোষ কে গত ২১ শে আগস্ট গ্রেপ্তারের পর কলকাতার বাবুঘাট এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতা মুকুল রায়ের আরেক ঘনিষ্ঠ বলয়ে থাকা সাদ্দাম আলী কে।একসময় ধৃত বাবান ঘোষ কে জেরা করে নাম উঠে আসে সাদ্দাম আলীর নাম। তাই সাদ্দাম আলী কে পুলিশ গ্রেপ্তার করে থাকে বাবুঘাট এলাকা থেকে। সরশুনা ঘুষকান্ডে দুজন পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হওয়ায় ক্রমশ চাপে ছিলেন বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতা মুকুল রায়। পুলিশি সুত্রে প্রকাশ, এই মামলায় বাবান ঘোষের পাশাপাশি নাম রয়েছে বিজেপি নেতা মুকুল রায়ের। তাই গ্রেপ্তারির আশংকা নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দারস্থ হয়েছেন মুকুল রায়। জানা গেছে, আর্থিক প্রতারণা (৪২০ ধারা) , এবং অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র (১২০ বি)  এর জামিন অযোগ্য ধারা গুলি রয়েছে এফআইআর কপিতে।বেহালার সরশুনার বাসিন্দা সন্তু গঙ্গোপাধ্যায়ের তার অভিযোগপত্রে লিখেছেন – গড়িয়াহাটের বাসিন্দা তথা বিজেপির মজদুর ইউনিয়নের নেতা বাবান ঘোষ ২০১৫ সালে রেলের স্থায়ী কমিটির পদ পাইয়ে দেওয়ার নামে ৪৬ লক্ষ টাকা নিয়েছেন। সেসময় কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী ছিলেন সুরেশ প্রভু। কেন্দ্রীয় ক্যাবিনেটে যোগাযোগ ভালো আছে বোঝানোর জন্য সংসদ ভবনে এই বাবান ঘোষ বেহালার সন্তু গঙ্গোপাধ্যায় কে নিয়ে গিয়েছিল বলে দাবি। রেলমন্ত্রকের নানা কাগজপত্র নাকি দিয়েছিল অভিযুক্ত বাবান ঘোষ। এই কাগজপত্রের সততা জানতে পূর্ব রেলের সদর দপ্তর কলকাতার ফেয়ারলি প্লেসে গিয়েছিলেন অভিযোগকারী। আর সেখানেই জানতে পারেন তিনি প্রতারিত হয়েছেন। যদিও বাবান ঘোষ শিবিরের দাবি – ‘সম্প্রতি টালিগঞ্জের একঝাঁক শিল্পীদের তৃনমূল থেকে বিজেপিতে নাম লেখানোর কাজে মুখ্য ভূমিকা নিয়ে ছিলেন বাবান ঘোষ। এই রাজনৈতিক শত্রুতা থেকেই জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা রুজু এবং গ্রেপ্তার সে’।প্রশ্ন উঠে ২০১৫ সালের বিষয়টি কেন প্রায় চার বছরের মাথায় তুললেন অভিযোগকারী এবং রেলের স্থায়ী কমিটিতে পদ পেতে কেন এত টাকা দিতেও গেলেন সেই বিষয়েও উঠেছে বিস্তর প্রশ্নচিহ্ন ?  এই মামলায় আজ ৪ ডিসেম্বর অবধি মুকুল রায়ের রক্ষাকবচ বাড়লো। ৩ ডিসেম্বর এই মামলার পরবর্তী শুনানির তারিখ। মুকুল রায় সংবাদমাধ্যম কে জানিয়েছেন – ‘দলবদল করার পর মমতার সরকার তাঁর বিরুদ্ধে ত্রিশটির মত ফৌজদারী মামলা রুজু করেছে। বেশিরভাগ মামলায় অভিযোগকারীরা হলফনামায় মামলা প্রতাহার করে নিয়েছে’ । এইসব করে আগামী বিধানসভায় তৃনমূল তাদের ভরাডুবি রুখতে পারবেনা বলেও হুশিয়ারি দিয়েছেন মুকুল রায়।                                                                                                                                                                                                                                                                                                       

Leave a Reply

Your email address will not be published.