সুন্দরবনে বাঘের হানায় মৃত মৎসজীবি

পুলিশ

বাঘের আক্রমণে মৃত্যু হল এক মৎস্যজীবীর

সৃজনশীল দক্ষিণ ২৪ পরগনা।

আজ সকালে কাঁকড়া ধরার সময় হঠাৎই জঙ্গল থেকে বাঘ বেরিয়ে আক্রমণ করলে মৃত্যু হয় এক মৎস্যজীবী।মৃত মৎস্যজীবীর নাম কার্ত্তিক মন্ডল(৫৬)।ঘটনাটি ঘটে দক্ষিণ ২৪ পরগনার গোসাবা ব্লকের পীরখালি ২ নম্বর জোড়াবঙ্কীতলা খাল এলাকায়।স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে সত্যনারায়ণপুর এলাকার বাসিন্দা মৎস্যজীবী কার্ত্তিক মন্ডল সহ আরও ২ জন মৎস্যজীবী একটি নৌকা করে গত ৯ অক্টোবর নদীতে কাঁকড়া ধরার উদ্দেশ্যে​ রওনা দেয়।তারা কাঁকড়া ধরতে ধরতে কাঁকড়া ধরার নেশায় পরের দিন সকালে কাঁকড়া ধরতে ঢুকে পড়ে জোড়াবঙ্কীতলা খালে।সেখানে নৌকা নোঙ্গর করে যখন কাঁকড়া ধরার দোন তুলছিলেন সেই সময় হঠাৎই পীরখালি ২ নম্বর জঙ্গল থেকে বাঘ বেরিয়ে এসে ঝাঁপিয়ে পড়ে মৎস্যজীবী কার্ত্তিক মন্ডলের উপর।নৌকা থেকে মুহূর্তের মধ্যে তাকে নিয়ে খালের জলের মধ্যে পড়ে বাঘটি।বেশ কিছুক্ষণ ধরে লড়াই চলে বাঘের সঙ্গে মৎস্যজীবী কার্ত্তিক মন্ডলের।বাঘটি কার্ত্তিক মন্ডলের ঘাড়ে কামড় বসিয়ে দেয়।এরপর বাঘটি শিকারকে ধরে টানতে টানতে জঙ্গলের দিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করতে থাকে।আর এই দৃশ্য দেখে বাকী ২ জন মৎস্যজীবী তারা নৌকার হাল এবং কাঁকড়া ধরার লোহার শিক নিয়ে বাঘের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে।দীর্ঘক্ষণ লড়াইয়ে বেগতিক বুঝে বাঘ শিকার কে নদীর জলে ফেলে জঙ্গলে পালিয়ে যায়।দুই সঙ্গী কার্ত্তিক মন্ডলকে জল থেকে উদ্ধার করলেও ততক্ষণে তার মৃত্যু হয়।অবশেষে তারা সঙ্গীকে উদ্ধার করে নৌকায় করে নিয়ে আসে গোসাবা ব্লক গ্রামীণ হাসপাতালে।সেখানে চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করে।খবর পেয়ে গোসাবা থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে দেহটি উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।এদিকে কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে মৃতের স্ত্রী মেনকা মন্ডল সহ পরিবারের সদস্যরা।মৎস্যজীবী ও বিভাগীয় দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে সুন্দরবনের নদীতে মাছ,কাঁকড়া ধরতে গিয়ে প্রায় ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ মৎস্যজীবীর মৃত্যু হয়েছে কাঁকড়া ধরার সময় বাঘের আক্রমণে এবং কুমিরের আক্রমণে।বর্তমানে সুন্দরবনের কাঁকড়ার চাহিদা শুধু দেশ জুড়ে নয়,বিদেশেও চাহিদা বাড়ছে।ফলে সুন্দরবনের কাঁকড়ার দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে।বর্তমানে এফ-১ এক কেজি কাঁকড়ার দাম বাজারে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা চলছে এবং এম-১ এক কেজি কাঁকড়ার দাম ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা।বিভিন্ন কোম্পানির এজেন্টরা এই কাঁকড়া সংগ্রহ করে বিদেশ আমদানি রপ্তানি করছে।বিশেষ করে সিঙ্গাপুর ও চীনে সুন্দরবনের কাঁকড়ার বিশাল চাহিদা।যার ফলে সুন্দরবনে নদীতে কাঁকড়া ধরার চাহিদাও বেড়েছে মৎস্যজীনবীদের মধ্যে।আর এই কাঁকড়া ধরতে গিয়ে বাঘ কুমিরের আক্রমণে মৃত্যুর কোলে ঢোলে পড়ছে মৎস্যজীরা।রাজ্যের সুন্দরবন উন্নয়ন মন্ত্রী মন্টুরাম পাখিরা বলেন বাঘের আক্রমণে এক মৎস্যজীবীর মৃত্যু হয়েছে এমন খবর পাওয়া গেছে।যেকোন মৃত্যু দুঃখজনক।মৃতের পরিবারের সদস্যরা যাতে সব ধরনের সুযোগ সুবিধা পায় সেটি দেখা হচ্ছে।তিনি আরও বলেন নিষিদ্ধ এলাকায় মৎস্যজীবীরা যাতে মাছ কাঁকড়া না ধরতে যায় সে বিষয়ে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সচেতন করা হচ্ছে।পাশাপাশি মৎস্যজীবীরা যাতে পুকুরে কাঁকড়া চাষ করে সে বিষয়েও সচেতন করা হচ্ছে।সুন্দরবন ব্যাঘ্র প্রকল্প জানান বাঘের আক্রমণে এক মৎস্যজীবীর মৃত্যু হয়।মৎস্যজীবীদের কাছে বৈধ কাগজপত্র ছিল।তবে তারা নিষিদ্ধ এলাকায় কাঁকড়া ধরছিল।কিভাবে নিষিদ্ধ এলাকায় কাঁকড়া ধরছিল এবং কিভাবে এমন ধরনের ঘটনা ঘটলো সে বিষয়ে গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.