সিবিআই বাণে বিদ্ধ আইপিএস রাজীব কুমার কি বিজেপির বশ্যতা মানবেন?

রাজনীতি

মোল্লা জসিমউদ্দিন

সিবিআই বাণে কি বিদ্ধ আইপিএস রাজীব কুমার? গত সপ্তাহে আলিপুর আদালতে আগাম জামিন স্থায়ী করাতে এসে রাজীবের বডিলাঙ্গুয়েজে স্পষ্ট, তিনি খুবই চাপে। রুগ্নশুকনো মুখ, কালারহীন চুল বিষন্ন আইপিএস কে অন্যরকম লাগছিল সেদিন। সিবিআই বাণ টা আসলে কি? এই প্রশ্ন আসাটা স্বাভাবিক। গত বছর বিজেপির দুই হেভিওয়েট নেতার মোবাইলে গোপন কথপোকথন মিডিয়ায় প্রকাশ্যে আসাতেই হইচই পরে যায় সর্বভারতীয় রাজনীতিতে। মুকুল শিবিরের অভিযোগ ছিল – রাজ্য সরকারের তরফে আইপিএস রাজীব কুমার এই মোবাইল ট্যাপিং কর্মকান্ডে মূল হোতা। ওই বহু চর্চিত মুকুল রায় – কৈলাশ বিজয়বির্গীর স্পেশাল কথপোকথনে বারবার সিবিআই – ইডিদের দিয়ে বাংলার কয়েকজন আইপিএস কে চমকিয়ে বশ্যতা স্বীকারের ফন্দিফিকির চলছিল। মূলত আইপিএস রাজীব কুমার কে টার্গেট করা হয়েছিল বলে দাবি। সেসময় সবে সিবিআই সারদা রিয়ালিটি মামলায় নোটিশ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করে রাজীবের উপর। এরপরেই নোটিশ দিতে গিয়ে সিবিআইয়ের কলকাতা টিম বনাম কলকাতা পুলিশের হাতাহাতি শুরু হয়। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী সপার্ষদ রাজীবের বাসভবনের সামনে মঞ্চ বেঁধে ধর্নায় বসেন। কলকাতা হাইকোর্টে সিবিআইয়ের সমন খারিজ নিয়ে মামলা রুজু করা হয়। সুপ্রিম কোর্টে সাময়িক রক্ষাকবচ মেলে রাজীবের। কলকাতা হাইকোর্টেও সাময়িক স্বস্তি পান রাজীব। এরপর সারদা রিয়ালিটি মামলায় সাক্ষী থেকে অভিযুক্ত হিসাবে সমন ইস্যু করে সিবিআই। সিবিআইয়ের আইনজীবী আইপিএস রাজীব কুমারের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ইস্যু চেয়ে আলিপুর আদালতে দারস্থ হয়। রাজীবও আগাম জামিনের আবেদন রাখে নিম্ন আদালতে। রাজীবের আগাম জামিনের আবেদন খারিজ হয় এখানে। এরপর কলকাতা হাইকোর্টের দারস্থ হন রাজীব। এরপর জামিন মেলে আইপিএস রাজীব কুমারে।প্রায় একমাস নিজেকে জনমানসে অন্তরালে রেখে আলিপুর আদালতে জামিন স্থায়ী করাতে এসে দেখা দেন রাজীব। সিবিআই অবশ্য মাঝখানে দক্ষিণবঙ্গের কুড়ির বেশি জায়গায় তল্লাশি চালায়। ভবানিভবন থেকে নবান্ন সবেতেই চিঠি চালাচালি করে সিবিআই। আবার কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চের রায় কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করেছে সিবিআই। অর্থাৎ সবস্তরে আইপিএস রাজীব কুমারের উপর চাপ রেখেছে সিবিআই। এটি কি সারদা মামলায় তদন্তে স্বচ্ছতা না কি কেন্দ্রীয় সরকারের তোতাপাখি হয়ে সিবিআই এর এহেন কৌশল। যাতে বাংলার রাজনীতিতে তৃনমূল কে বধ করতে আইপিএসদের যেখানে যেমন সেখানে তেমন ওষুধ প্রয়োগ করা যায়? দেশের সর্বোচ্চ আদালত জানিয়েছে – ‘সিবিআই ভগবান নয়’।যে সিবিআই কবিগুরুর নোবেল পদক আনতে পারেনি, সেই সিবিআই সারদা – রোজভ্যালি মামলায় পাঁচ হাজার কোটি টাকা উদ্ধার করে আনবে, তা বিরোধী দল তো বটেই দেশের সাধারণ মানুষও বিশ্বাস করেনা। গত বছর মুকুল রায় – কৈলাশ বিজয়বর্গীর গোপন মোবাইল কথপোকথনে আইপিএসদের সিবিআই – ইডির চমকানি টি যে কতটা সত্য, তার জলন্ত প্রমাণ আইপিএস রাজীব কুমার.

Leave a Reply

Your email address will not be published.