রুপনারায়ন – মহানন্দা থেকে শিক্ষা নেয়নি শ্রীরামপুর

পুলিশ

মোল্লা জসিমউদ্দিন

বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব শারদীয়া দুর্গাপুজোয় সপরিবারে ঠাকুর দেখতে গিয়েছিলাম হুগলির শ্রীরামপুর শহরে। এই শহর আমায় আলাদাভাবে টানে কারণ, এই আদালতে আমার প্রয়াত বাবা মহম্মদ নুরুল হুদা মোল্লা বিচারক হিসাবে তাঁর কর্মজীবনে অবসর নিয়েছিলেন ২০১৩ সালে মার্চ মাসে। তাই ঠাকুর দেখার পাশাপাশি স্মৃতিরোমন্থনের আবেগে ছিলাম। রাজবাড়ীর পুজো থেকে বিভিন্ন ওয়ার্ডের পুজো গুলি অপরুপ ছিল বা আছে। মহাসপ্তমীর বিকেল তখন সাড়ে পাঁচটা, এলাম কোর্ট সংলগ্ন ফেরীঘাটে। এত বড় গঙ্গা, তাও থইথই জল। তাই লঞ্চে ব্যারাকপুর যাব বলে প্রস্তুত। টিকিট কেটে ঘাটে দেখি লঞ্চ না এসে এলো যন্ত্রচালিত নৌকা। বারবার ঘোষণা হচ্ছে – আপনারা লাইফ জ্যাকেট পরে নিন, ইত্যাদি ইত্যাদি। নৌকার মাঝী কে জিজ্ঞেস করলাম – “‘ভাই লাইফ জ্যাকেট কই? পরাবে না! ” মাঝী মুচকি হেসে বললো – ও কথার কথা। গঙ্গার দৈঘ্য প্রস্ত এখানে বেশি, তাই লঞ্চ না পেয়ে নৌকায় চেপে খুব ভয় লাগছিল। এরপর দেখি একের পর এক মোটরসাইকেল চাপছে। ভয় টা আরও বেড়ে গেল। শ্রীরামপুর পুলিশের প্রতিটি মন্ডপে বলা যায় সহযোগিতা করবার ফেস্টুন – ব্যানার। তবে শ্রীরামপুর ফেরীঘাটে নজরদারির জন্য কোন পুলিশ কর্মীর দেখা পেলাম না। চন্দননগর পুলিশ কমিশনারেটের অধীনে পড়ে এই থানা। পুজোর সময় বছরের অন্যান্য দিনের তুলনায় শ্রীরামপুর – ব্যারাকপুর ফেরীরুটে ভীড় হয় বেশি। সম্প্রতি পূর্ব মেদনীপুর জেলার রুপনারায়ন নদীতে নৌকাডুবি হয়। একজনের লাশ উদ্ধার করা হয়। এরপর উত্তরবঙ্গের মহানন্দা নদীতে নৌকাডুবিতে বেশ কয়েকজন মারা গেছে। শ্রীরামপুর থেকে কাছাকাছি কালনা – শান্তিপুরে বেশ কয়েক বছর আগে ২০ এর বেশি যাত্রী নৌকাডুবিতে মারা যায়। এতেও শিক্ষা নেয়নি শ্রীরামপুর? আসলে চোর পালালে বুদ্ধি বাড়ে। দুর্ঘটনা ঘটলে তখন তৎপরতা শুরু হবে। তার আগে কি নয়? ?

ছবি – সম্প্রতি রুপনারায়ন নদীর নৌকাডুবিতে মৃত এক যাত্রীর

Leave a Reply

Your email address will not be published.