রাজীব মামলায় টানাপোড়েন অব্যাহত, আজই সম্ভবত রায়দান

পুলিশ

 মোল্লা জসিমউদ্দিন (টিপু)


নারদা মামলায় যখন ধৃত আইপিএস সৈয়দ হোসেন আলী মির্জা সিবিআই হেফাজত কাটিয়ে প্রেসিডেন্সি জেলে বিচারধিন বন্দি হিসাবে যাচ্ছেন। তখন সারদা মামলায় ‘মেঘনাদ ইন্দ্রজিতে’র মত আইনী লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন আরেক অভিযুক্ত আইপিএস রাজীব কুমার। সোমবার দুপুরে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি শহিদুল্লা মুন্সির ডিভিশন বেঞ্চে আইপিএস রাজীব কুমারের আগাম জামিনের মামলায় রায়দানের সম্ভাবনা ছিল। তবে আজ কে রায়দান টি স্থগিত রাখেন বিচারপতিরা। আইনজীবীমহলে ধারণা, মঙ্গলবারেই আগাম জামিনের মামলায় চুড়ান্ত নির্দেশ দিতে পারে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি শহিদুল্লা মুন্সির ডিভিশন বেঞ্চ। ইতিমধ্যেই সিবিআইয়ের স্পেশাল ১৪ এর বেশিরভাগ অফিসার ফেরত গেছে হেড কোয়ার্টারে। তবে সিআরপিএফের জোনাল কর্তাদের সাথে গত রবিবার একপ্রস্ত আলোচনা সেরে ফেলেছে কলকাতার সিবিআইয়ের টিম টি। সিবিআই গত দু সপ্তাহে কুড়ির বেশি অভিযান চালিয়ে আদৌও রাজীব গ্রেপ্তারে আগ্রহী ছিল?  না কি মামলার নোটিশ দিতে দিয়ে অতীতের পুরাতন সম্মানহানির বদলা নিল?  কেননা সিবিআইয়ের অফিসারেরা প্রথম পয্যায়ে সারদা মামলায় নোটিশ দিতে গিয়ে কলকাতা পুলিশের হাতে নিগৃহীত হয়েছিল। তাই  সিবিআইয়ের রাজীব পাকরাও  অভিযানে সংবাদমাধ্যম কে নিয়ে যা চলেছে। তাতে অনেক পুলিশ কর্তা প্রশ্ন তুলেছেন সিবিআইয়ের অভিযান ঘিরে। মঙ্গলবার কলকাতা হাইকোর্ট রাজীবের আগাম জামিনের মামলায় কি রায় দেয়। তার দিকে তাকিয়ে সিবিআই। যদি আইপিএস রাজীব কুমারের পক্ষে রায় যায়, তাহলে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ কিংবা সুপ্রিম কোর্টে আপিলে যাবে তারা। আর যদি গ্রেপ্তারিতে সম্মতি মেলে, সেক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ে সিবিআই ‘আসল’ অভিযানে নামতে পারে মঙ্গলবারে ই। তবে কলকাতা পুলিশের অন্দরমহলে ‘পরোপকারী’ ইমেজ রয়েছে আইপিএস রাজীবের। লালবাজারের এক আধিকারিক নাম গোপন রাখার শর্তে বলেন – ” হোমগার্ড থেকে ইন্সপেক্টর লেভেলের অফিসারদের বিপদেআপদে গভীর রাতেও এগিয়ে এসেছেন স্যার, তাহলে আমরা এখন  তাঁর বিপদে কেন পাশে থাকবনো?  ” গত সোমবার এই আগাম জামিনের মামলা দাখিল করেন ‘নিখোঁজ’ গোয়েন্দা প্রধানের স্ত্রী সঞ্চিতা কুমার। তাতে গত মঙ্গলবার শুনানি না হলেও বুধবার থেকে শুক্রবার ‘রুদ্ধদ্বার’ এজলাসে উভয় পক্ষের আইনজীবীরা সওয়াল-জবাব চালান। সারদা মামলায় যেভাবে আইপিএস রাজীব কুমার  সুপ্রিম কোর্ট থেকে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি মধুমতী মিত্রের এজলাসে  বিপক্ষে নির্দেশিকা পেয়েছেন। তাতে আইনী রক্ষাকবচ পুনরায় মিলবে কিনা, তা নিয়ে জোর চর্চা উঠেছে।বারাসাতের দুটি এজলাসে এই মামলা না শুনলেও আলিপুর আদালতে দুটি পৃথক এজলাসে যেভাবে বিচারকেরা ‘অর্ডার’ দিয়েছেন এই সারদা সম্পকিত মামলায়। তাও সিবিআইয়ের আইনজীবীর কাছে কলকাতা হাইকোর্টে চলতি সময়ে সওয়াল-জবাবে আরও শক্তপোক্ত ভাবে কেন রাজীব কে গ্রেপ্তার জরুরি, তা বোঝানো সহজ হয়েছে। সিবিআইয়ের আইনজীবী কখনো ওয়ারেন্ট ইস্যুতে দাউদ ইব্রাহীমের মামলার নথি পেশ করেছে। আবার কখনো বা  রাজীবের আগাম জামিনের শুনানিতে দেশের প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী পি চিদম্বরামের গ্রেপ্তারির উদাহরণ টেনেছে। সারদা যেভাবে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ২৫০০ কোটি টাকা তুলেছে বলে দাবি। সেসময়কার সারদার প্রধান অফিস এলাকার পুলিশ কমিশনার পদে ছিলেন আইপিএস রাজীব কুমার। তাই তাঁর অজ্ঞাতসারে  সারারাজ্য জুড়ে এত বিপুল পরিমাণ অর্থ তোলা নিয়ে পুলিশি ভূমিকা এড়ানো যায়না। এটি সিবিআইয়ের আইনজীবীরা বিভিন্ন সওয়ালে এজলাসে জানিয়েছেন। অর্থনৈতিক অপরাধের পাশাপাশি প্রভাবশালীদের বাঁচাতে তথ্য প্রমাণ লোপাট করার অভিযোগ রয়েছে আইপিএস রাজীব কুমারের বিরুদ্ধে। এহেন অভিযোগের সপক্ষে একদা সিটের তদন্তকারী পুলিশ অফিসাররা সিবিআইয়ের জেরায় রাজীবের তদন্তে নেতৃত্বদানের কথা জানিয়েছেন। সর্বপরি সারদা কোম্পানির সেকেন্ড ব্যক্তি দেবযানী মুখোপাধ্যায়ের বয়ান আইপিএস রাজীব কুমারের বিরুদ্ধে  তথ্য প্রমাণ লোপাট অভিযোগ কে আরও শক্তপোক্ত ভাবে প্রতিস্টা করেছে। সোমবার আইপিএস রাজীব কুমারের সরকারি ছুটি শেষ হয়েছে। যদিও এই ছুটি বাড়ানো পর্ব নিয়ে বিস্তর অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার কলকাতা হাইকোর্ট আইপিএস রাজীব কুমারের আগাম জামিনের মামলায় কি রায়দান দেয়। তার দিকে তাকিয়ে গোটা রাজ্য রাজনীতি।                                                                                                                                                                      

Leave a Reply

Your email address will not be published.