মুকুল সম্পর্কে বিস্ফোরণ ঘটালেন মির্জা, ” ফুটেছে দেখা যায়নি বলে এটা প্রমানিত নয় উনি টাকা নেননি”

পুলিশ

মোল্লা জসিমউদ্দিন (টিপু )


নারদা মামলায় ‘প্রথম’ গ্রেপ্তার আইপিএস সৈয়দ হোসেন আলী মির্জার বয়ানে তলব পাওয়ার পর থেকেই একদা তৃনমূলের চাণক্য তথা অধুনা বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতা মুকুল রায় সংবাদমাধ্যম বলে আসছেন ” নারদার কোন ফুটেজে তাঁকে টাকা নিতে দেখা যায়নি, ব্যবসায়িক কারনে  ম্যাথু স্যামুয়েল কে তৎকালীন পূর্ব বর্ধমানের পুলিশ সুপারের কাছে পাঠিয়েছিলাম।কেননা জমি জায়গা কেনাকাটা ব্যাপারে পুলিশের সহযোগীতা দরকার”। সেইসাথে মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে নারদা মামলায় তাঁকে ফাসানোর অভিযোগও তুলেন মুকুল বাবু।শনিবার সিবিআইয়ের নিজাম প্যালেস অফিসে মুখোমুখি জেরার সন্মুখীন হতে হয়েছে। সেইসাথে রবিবার মুকুল বাবুর ফ্লাটে টাকা লেনদেনের পূন নির্মাণ করেছেন সিবিআইয়ের তদন্তকারীরা। তাও মির্জা – মুকুলের উপস্থিতিতে। ঠিক এইরকম পরিস্থিতিতে হাটে হাঁড়ি ভাঙ্গলেন একদা মুকুল রায়ের খাস লোক সৈয়দ হোসেন আলী মির্জা। সোমবার ব্যাংকশাল আদালতে সিবিআই এজলাসে পেশ করার সময় নারদা মামলায় ধৃত আইপিএস সৈয়দ হোসেন আলী মির্জা জানান – ” ফুটেজে তাঁকে দেখা যায়নি বলে এটা প্রমানিত নয় যে, উনি ( মুকুল রায়)   টাকা নেননি। সিবিআই কে সব বলে অনেক হালকা লাগছে “।সোমবার দুপুরে ব্যাংকশাল আদালতে সিবিআই এজলাসে পেশ করা হয় নারদা আর্থিক দুর্নীতির মামলায় ধৃত আইপিএস সৈয়দ হোসেন আলী মির্জা কে।মির্জার আইনজীবী সায়ন দে জামিনের পক্ষে এজলাসে সওয়াল চালালেও সিবিআইয়ের আইনজীবী দীনেশ কুমার জামিনে কড়া বিরোধিতা করেন শুনানিতে। সিবিআই এজলাসের বিচারক অনুপম মুখোপাধ্যায় নারদা মামলায় তদন্তকারী সিবিআই অফিসার রঞ্জিত কুমারের কাছে কেস ডাইরি দেখে ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন। পুনরায় ১৫ অক্টোবর এই এজলাসে ধৃত আইপিএস কে  পেশ করার আদেশনামা রয়েছে।এদিন সিবিআইয়ের তরফে ধৃত আইপিএস সৈয়দ হোসেন আলী মির্জা কে ব্যাংকশাল আদালতে সিবিআই এজলাসে পেশ করা হয়। এদিনই সিবিআই হেফাজতের মেয়াদ শেষ হচ্ছে ধৃত আইপিএসের। তাই একদা পূর্ব বর্ধমান জেলার পুলিশসুপার সৈয়দ হোসেন আলী মির্জার আইনজীবী সায়ন দে জামিনের পক্ষে সওয়াল চালান। তাঁর যুক্তি – ‘নারদা মামলায় আইপিএস মির্জা বরাবরই তদন্তে সহযোগিতা করছেন। কলকাতা হাইকোর্টের আদেশে এই মামলায় সিবিআই তদন্তর নির্দেশের পর থেকে ৯ বার জেরার সম্মুখিন হয়েছেন। একজন আইপিএস কখনোই পালিয়ে যাবেন না। কেউ প্রমাণ করতে পারবে না মির্জা বর্তমানে প্রভাবশালী   ‘। অপরদিকে সিবিআইয়ের আইনজীবী দীনেশ কুমার জামিনের বিরোধিতা করে এজলাসে সওয়ালে জানান – ‘ ধৃত আইপিএস প্রভাবশালী, বড় বড় রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সাথে যোগাযোগ রয়েছে। জামিন পেলে তদন্তে ব্যাঘাত ঘটবে ‘। তখনি আইপিএস মির্জার আইনজীব পাল্টা জবাব দেন – ‘মির্জা প্রভাবশালী নন, ২০১৭ সালে নভেম্বর মাসে এক ঘটনায় রাজ্য সরকার তাঁকে সাসপেন্ড করেছে’। ব্যাংকশাল আদালতে সিবিআই এজলাসের বিচারক অনুপম মুখোপাধ্যায় তখন এই মামলায় সিবিআইয়ের তদন্তকারী অফিসারের কাছে কেস ডাইরি তলব করেন। পরবর্তীতে তা দেখে বিচারক আইপিএস সৈয়দ হোসেন আলী মির্জার জামিনের আবেদন খারিজ করে ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন। পেসিডেন্সি জেলের হাসপাতাল কিংবা অরবিন্দ ওয়ার্ডে মির্জা কে  রাখা  হবে। উল্লেখ্য, একসময় মালদার তৎকালীন জেলাশাসক কে  জেলের এই  ওয়ার্ডেই রাখা হয়েছিল। এদিন ব্যাংকশাল আদালতে সিবিআই এজলাসে শুনানির সময় ধৃত আইপিএসের আইনজীবী বারবার নারদা স্টিং অপারেশনের সাংবাদিক ম্যাথু স্যামুয়েলের জেরার প্রসঙ্গ টানেন। আইনজীবী এজলাসে জানিয়েছেন – নারদা স্টিং অপারেশন টি কার নির্দেশে হয়েছিল, টাকার জোগান কিভাবে হয়?  তা পুরোপুরি জানতে গেলে নারদা স্টিং অপারেশন এর সাংবাদিক ম্যাথু স্যামুয়েলের জেরার দরকার। যদিও গত ২৪ জুন সিবিআই দপ্তরে ম্যাথু স্যামুয়েল এসেছিলেন। মির্জার গ্রেপ্তারির পর সিবিআই পুনরায় তলব করলে এখনো পর্যন্ত সিবিআইয়ের সামনে হাজির হননি ম্যাথু স্যামুয়েল।উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে হওয়া নারদা স্টিং অপারেশন টি প্রকাশ্যে আসে গত বিধানসভা (২০১৬) নির্বাচনের আগে।এরপর ২০১৭ সালে এই ঘটনায় সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দেয় কলকাতা হাইকোর্ট। বারাসাত আদালতে ১৩ জনের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করে সিবিআই। এই মামলায় ১২ নং অভিযুক্ত আইপিএস সৈয়দ হোসেন আলী মির্জা কে গত বৃহস্পতিবার সিবিআই অফিসে জেরা চলাকালীন গ্রেপ্তার দেখানো হয়। সেদিনই ব্যাংকশাল আদালতে সিবিআই এজলাসে পেশ করা হলে ৫ দিনের সিবিআই হেফাজতের নির্দেশ দেন বিচারক।গত শুক্রবার জরুরি ভিক্তিতে তলব করা হয় বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতা মুকুল রায় কে। রাজনৈতিক ব্যস্ততার দোহাই দিয়ে শুক্রবারের জেরা এড়াতে পারলেও শনিবার দুপুরে মুখোমুখি জেরার আয়োজন ঘটে সিবিআইয়ের নিজাম প্যালেস অফিসে। এরপর রবিবার মুকুল রায়ের এলগিন রোডে ফ্লাটে সিবিআই মির্জা ও মুকুল রায়ের ভিডিওগ্রাফি তদন্ত চালায়। মুকুল রায় গত বৃহস্পতিবারের মির্জা গ্রেপ্তারের পর থেকেই সংবাদমাধ্যমে বলতে শুরু করেন – ” নারদা তদন্তে তিনি পূর্ন সহযোগিতা করবেন। তবে তাঁর বিরুদ্ধে মুখ্যমন্ত্রী ষড়যন্ত্র শুরু করেছেন। নারদা স্টিং অপারেশনে কোন ফুটেজেই তাঁকে টাকা নিতে দেখা যায়নি “। ঠিক এইরকম পরিস্থিতিতে আজ অর্থাৎ সোমবার দুপুরে সিবিআই হেফাজত থেকে ব্যাংকশাল আদালতে পেশ করার সময় পূর্ব বর্ধমানের একদা পুলিশসুপার সৈয়দ হোসেন আলী মির্জা জানান – ”  নারদার ফুটেজে তাঁকে দেখা যায়নি বলে এটা প্রমানিত নয়, উনি টাকা নেননি।  সিবিআই কে তদন্তে সহযোগিতা করে অনেক হাল্কাবোধ করছি। তিনবছরের ভেতরে থাকা নারদার জ্বালাযন্ত্রণার কথা সিবিআই কে জানিয়েছি”। উল্লেখ্য, নারদা মামলায় ১ কোটি ৭০ লক্ষ টাকা কালেকশন করে মুকুল রায়ের কাছে পৌছাবার অভিযোগে অভিযুক্ত এই বরখাস্ত আইপিএস।                                                                                                                                                                                                                                                     

Leave a Reply

Your email address will not be published.