মহিষাদলের রুপনারায়ণ নদীতে নৌকাডুবিতে বিস্তর প্রশ্ন

পুলিশ

জুলফিকার আলি

সোমবার সকালে ভয়াবহ নৌকোডুবির ঘটনা ঘটল পূর্ব মেদিনীপুরের মহিষাদল থানা এলাকায় রূপনারায়ণ নদীর মাঝখানে। একটি যাত্রী বোঝাই নৌকো মায়াচর ছেড়ে মহিষাদলের অমৃতবেড়িয়ার ঘাটের উদ্দেশ্যে আসছিল।
নৌকোটি যখন মাঝ নদীতে ছিল সেই সময় জোয়ারের তোড়ে আচমকাই সেটি ডুবে যায়। এর ফলে নৌকোয় থাকা সমস্ত যাত্রীই জলের তোড়ে ভেসে যায়। অনেকেই মহিষাদলের অমৃতবেড়িয়া ও হাওড়া জেলার বিভিন্ন এলাকায় ভেসে উঠলেও বেশ কিছু মহিলা ও শিশুর কোনও হদিশ মেলেনি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, এদিন সকাল ৯টা নাগাদ প্রায় ৫০ জন যাত্রী নিয়ে মায়াচরের ঘাট থেকে ছেড়েছিল নৌকোটি। এই নৌকোয় প্রায় জনা দশেক মহিলা সহ বেশ কয়েকটি শিশুও ছিল। এই ঘাটের মালিক লক্ষণচন্দ্র পাল বলে জানা গেছে।এদিন সপ্তাহের প্রথম অফিস টাইমে নৌকোয় ব্যাপক ভীড় ছিল। এই যাত্রীদের প্রতিনিয়ত প্রাণ হাতে করে নৌকোয় চড়ে রুপনারায়ণ নদী পারাপার করতে হয়। মায়াচর ঘাটে থাকা ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, নৌকোটি মাঝ নদীতে যাওয়ার পরেই জলের তোড়ে আচমকা উল্টে গিয়েছে।ঘটনার খবর পেয়েই ছুটে গিয়েছে মহিষাদল থানার পুলিশ। তবে ঠিক কতজন এখন পর্যন্ত উঠতে পেরেছে বা কতজন নিখোঁজ সেই হিসেব কেউই দিতে পারছেন না। এর জেরে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। এলাকার মানুষদের দীর্ঘদিনের দাবী ছিল জেটি ঘাট ও লঞ্চ পরিষেবা চালু করারতার পরিবর্তে বিপুল টাকার বিনিময়ে বিপজ্জনক নৌকোকেই লিজ দেওয়া হয়েছে বলে এলাকাবাসীদের অভিযোগ। এই ঘটনার পর ক্ষোভে ফুঁসছেন এলাকাবাসীরা। কতদিন এভাবে নিরীহ মানুষদের জীবন দিতে হবে সেই প্রশ্নই ঘোরাফেরা করছে সবার মুখে মুখে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.