পথশিশুদের চোখে শারদ সম্মান জানাবে ‘সুসম্পর্ক’

ক্রীড়া সংস্কৃতি

পথশিশুদের চোখে ‘শারদ সম্মান’ জানাবে  সুসম্পর্ক

পারিজাত মোল্লা    


‘ওরা পুজোয় নুতন জামাকাপড় পেতনা, মুখে জুটতো না ভালোমন্দ খাবারদাবার। বড় বড় পুজোর মন্ডপে গাড়ী নিয়ে বেড়াতে যাওয়াটা তো দিবাস্বপ্নের সামিল!’ হ্যা  এইসবের ব্যবস্থা রেখেছে কলকাতার এক সমাজসেবী সংস্থা ‘সুসম্পর্ক’। শুধু তাই নয় বিভিন্ন পুজোমন্ডপ ঘুরে এরাই শারদ সম্মান প্রতিযোগিতায় বিচারক থাকছে। মহাপঞ্চমীর দিন সারাটা দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত বেহালা – আলিপুর সহ দক্ষিণ কলকাতার বিভিন্ন পুজো মন্ডপে  দেখা যাবে ‘পথশিশু’ বিচারকদের। তার আগে মহালয়ার দিন ঠাকুরপুকুরের জেমস লং সরনীর নবপল্লী এলাকায় ৫০ এর বেশি দুস্থ শিশু এবং কুড়ির বেশি অসহায় মহিলাদের শারদীয়া উপলক্ষে পুজোর উপহার তুলে দিল আয়োজক সংস্থা।       নিজেদের ব্যক্তিগত পরিকল্পনার কথা বাদ দিয়ে এবারে অন্যরকম উদ্যোগ নিয়েছেন বড়িশা সখেরবাজার এলাকার অরবিন্দ সিংহ ও তার টিম। নিজের ছোটো ব্যবসা চালানোর পাশাপাশি তিনি একটি সরকার স্বীকৃত এনজিও-এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন, যার নাম ‘সু-সম্পর্ক’। সেখানে থেকে সেবা করছেন দুস্থ বাচ্চা ও বয়স্কদের।শনিবার মহালয়ার সকালে সু-সম্পর্কের তরফে আয়োজন করা হয় এক বস্ত্র বিতরণী অনুষ্ঠানের।‘আমাদের আর নেই যে মানা পড়বো মোরা নতুন জামা’ যেখানে প্রায় ৫০ জন দুস্থ বাচ্চাদের পুজোয় নতুন জামা দেওয়া হয়। সেই সঙ্গে কিছু দুস্থ মহিলাদের নতুন শাড়িও দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সু-সম্পর্কের প্রধান সম্পাদক অরবিন্দ সিংহ, শোভন ভট্টাচার্য, হাইকোর্টের আইনজীবি শ্রী ভিসাক ভট্টাচার্য ও রুচিরা চ্যাটার্জি এবং ‘সংবেদন’- এনজিও-এর সম্পাদক শ্রী সমিত সাহা।ছিলেন প্রেসিডেন্ট অঞ্জনা কুমির, সহ-সম্পাদক সৌরভ মন্ডল এবং আরও অনেক শুভাকাঙ্ক্ষীরা।
অনুষ্ঠান শেষে শোভন বাবু জানিয়েছেন –  বাচ্চাদের আনন্দই বড়ো প্রাপ্তি তাদের। তিনি বলছেন, “আজকে বাচ্চাদের পাওয়া এই আনন্দের কোনো তুলনা হয় না, ভবিষ্যতে এদের নিয়েই আরও এগিয়ে যেতে চাই।”ওইসব দুস্থ মানুষদের কাছে অরবিন্দ বাবু বেঁচে থাকার ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছেন। গত ১৮ এপ্রিল ২০১৯ ‘সুসম্পর্ক’-এর যাত্রা শুরু হয়। লক্ষ্য ছিল একটাই কিভাবে এইসব দুস্থ মানুষদের মুখে হাসি ফোটানো যায়, তাদেরকে সুস্থ-রোগ মুক্ত রাখা যায়।শিক্ষিত সমাজে বাচ্চাদেরকে কিভাবে এগিয়ে রাখা যায়। ছোটো ছোটো বাচ্চাদের শুধু পুঁথিগত শিক্ষাই নয়, কিভাবে সুষ্ঠু আচার ব্যবহার করতে হয় এবং মনুষ্যত্ব শেখাচ্ছেন তারা। সঠিক শিক্ষার পাশাপাশি তাদেরকে সঠিক আচার-ব্যবহার শেখানোও হয়।বয়স্ক মানুষদের শিক্ষার থেকে বেশি জরুরি তাদেরকে সুস্থ রাখা। সেই জন্য শারীরিক দিক থেকে অসুস্থ কিছু বৃদ্ধ-বৃদ্ধা যারা নিজেদের জন্য ওষুধের খরচ চালাতে অক্ষম, তাদেরকে সম্পূর্ণ বিনা মূল্যে ওষুধের যোগান দিয়ে আসছে সুসম্পর্ক। তার সঙ্গে তারা আয়োজন করেন বিনামূল্যে হেলথ ক্যাম্পের।এছাড়াও ‘সু-সম্পর্ক’-এর তরফে আয়োজন করা হবে ‘ওদের চোখে সেরার সেরা শারদ সম্মান ২০১৯’। যেখানে তারা বাচ্চাদের নিয়ে বেহালা এলাকার ১০ টি পুজো প্যান্ডেল পরিক্রমায় বেরোবেন। এই পুজোগুলির মধ্যে রয়েছে ঠাকুর পুকুর স্টেট ব্যাঙ্ক পার্ক, বাসুদেবপুর সার্ব্বজনীন, জয় রামপুর সার্ব্বজনীন, বড়িশা ক্লাব, বেহালা দেবদারু ফটক, বেহালা শ্রী সংঘ, বেহালা নতুন দল, বড় বাগান কালচার, বুড়ো শিবতলা জনকল্যান সংঘ এবং বড়িশা সার্ব্বজনীন। সেই বাচ্চাদের চোখে এই ক্লাব গুলির মধ্যে শ্রেষ্ঠ পূজোকে সু-সম্পর্কের তরফে দেওয়া হবে ‘সেরার সেরা শারদ সম্মান’।

Leave a Reply

Your email address will not be published.