বর্ধমান ব্লাইন্ড একাডেমিতে বস্ত্রবিলিতে এরা

ক্রীড়া সংস্কৃতি

জ্যোতিপ্রকাশ মুখার্জি


কেউ একাদশ বা দ্বাদশ শ্রেনীতে কেউবা বি.এ প্রথম বর্ষে পড়াশোনা করে।বয়স ১৫-১৮ কোঠায়।পুজোয় নতুন জামা অথবা কোথায় কোথায় ঠাকুর দেখতে যাবে তা আলোচনার পরিবর্তে এই অল্প বয়সেই ওরা ঢুকে পড়ল এক বৃহৎ সামাজিক পরিমণ্ডলে। সৌম্যদ্বীপ,শবনম,পর্ণা,সৌমাল্য,সুদীপ্ত,তুষার প্রমুখরা হলো বর্ধমানের মহেন্দ্র সিং ধোনি ‘ফ্যানস ক্লাব’ এর সদস্য। এই ক্লাবের উদ্যোগে এবং গৃহ শিক্ষক প্রদীপ্ত মণ্ডলের সক্রিয় সহযোগিতায় ও উৎসাহে ‘বর্ধমান ব্লাইণ্ড একাডেমি’ র ৫০ জন দুস্থ ছাত্র-ছাত্রীকে জামা-প্যাণ্ট দেওয়া হলো।প্রসঙ্গত প্রদীপ্ত বাবুর এই ছাত্র-ছাত্রীরা শিক্ষক দিবসের দিন বর্ধমান স্টেশনে প্রায় ১০০ জন দুস্থের হাতে খাবারের প্যাকেট তুলে দেয়। পুজোর সময় নতুন জামা পেয়ে সবুজ, সুরোজ,পূজা,প্রিয়া, পূর্ণিমারা খুব খুশী।
ফ্যানস ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য তথা কর্ণধার একাদশ শ্রেণীর ছাত্র সৌম্যদীপ্ত জানাল -পুজোর সময় কিভাবে দুস্থদের নতুন জামা দিয়ে সাহায্য করা যায় সেটা নিয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে এবং প্রদীপ্ত বাবুকে জানালে তিনি নিজে কয়েকটি নতুন জামা কিনে দেন। সৌম্যদীপ্তরা আত্মীয়-স্বজন, পরিচিত শিক্ষক-শিক্ষিকা, প্রতিবেশীদের কাছ থেকে বেশ কিছু জামা সংগ্রহ করে।তারপর দেবীপক্ষের সূচনায় মহালয়ার দিন সেই জামা ব্লাইণ্ড একাডেমির ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে বিতরণ করে।শুধু তাই নয়, সেখানে একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বিজয়ীদের হাতে পুরষ্কারও তুলে দেওয়া হয়। ছাত্র-ছাত্রীদের উৎসাহিত করার জন্য প্রদীপ্ত বাবু সারাক্ষণ উপস্থিত ছিলেন।তিনি বললেন- পড়াশোনার সঙ্গে সঙ্গে এরা যদি সমাজসেবায় এগিয়ে আসে তাহলে সমাজের উন্নতি হবে। অন্যতম সদস্য শবনম জানাল – তারা এখানেই থেমে থাকতে চায় না।আসন্ন শীতে দুস্থদের মধ্যে শীতবস্ত্র বিতরণের পরিকল্পনা তাদের আছে। সেগুলি সংগ্রহের কাজও তারা শুরু করেছে। সাধারণ মানুষের কাছে তার আবেদন বিতরণের জন্য তাদের হাতে যেন একটি করে শীতবস্ত্র তুলে দেওয়া। সমাজসেবায় নিজেদের ছেলেমেয়েদের নিযুক্ত হতে দেখে গর্বে সৌম্যদীপ্ত, শবনমদের পিতা-মাতার বুক গর্বে ফুলে ওঠে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.