রুমি ও একটি দড়ি – জয়া গুহ

সাহিত্য বার্তা

রুমি ও একটি দড়ি
জয়া গুহ

মুখোমুখি জানলায় চোখ পাতা থাকে রুমির
জানলা বরাবর ও-বাড়ির উঠোন জামা কাপড় শুকোনোর দড়ি খাটানো
বাবার লুঙ্গি মায়ের শাড়ী দু ফেত্তা করা,পাশে বাবুর হাফ-প্যান্ট,কখনো স্কুল ইউনিফর্ম
রঙ বদল হয়, পোষাক ও
হাফ-প্যান্ট এখন ফুল প্যান্টে
বাবুর অফিসের পোষাক বোধহয় লন্ড্রিতে যায় ধোপদুরস্ত হতে

আজ সাদা লালপাড় শাড়ি আর বিশ্বাস জ্যেঠুর লুঙ্গির পাশে টানটান লাল-হলুদ শাড়ি,পাশে বাবুর কুর্তা পাজামা।
বাড়িতে নতুন বউ টুকটুকে ঘরকন্নায়।

ভোর হলে কচি গলার আওয়াজ আসে
সক্কাল সক্কাল উঠোন জোড়া কাঁথা,কানি,ছোট ছোট জামা প্যান্ট দড়ি উপচানো,নিঁখুত ক্লিপ হাওয়ার থেকে বাঁচিয়ে রাখে সবগুলোকেই।

দড়ির ভার কমেছে কদিন হল,
বিশ্বাস জ্যেঠিমার সাদা শাড়ীর পাশে লুঙ্গিটা আর মেলা হয় না সপ্তাহখানেক,
ছোট জামা বড় হচ্ছে শুকনো দেওয়ার দড়ি বরাবর।

আজ!ও বাড়ির ছেলের পরনে কোরা ধুতি, বউ কোরা লালপেড়ে ছোট শাড়িতে
বিশ্বাস জ্যেঠিমার শাড়িটাও আর থাকবেনা কাল থেকে…

বছর দুয়েক বাদে বিশ্বাস বাড়ির মুখোমুখি বাড়ি থেকে বেরোয় “শেষের খেয়া” লেখা কাচের গাড়ি
থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত রুমির তিরিশ পেরিয়েছে সবেই,আর সাথে সাথেই..

বিশ্বাস বাড়ির কাপড় শুকতে দেওয়ার গল্প লেখার কেউ থাকলো না আজ থেকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.