এইসময়ের রোমান্টিক কবি শ্যামল রায়ের ৫ টি কবিতা

সাহিত্য বার্তা

সাম্প্রতিককালে রোমান্টিকতায় ভরা কবি শ্যামল রায়ের একগুচ্ছ কবিতা।

আনমনা
শ্যামল রায়

নবদ্বীপ নদীয়া


আজকাল গাছ-গাছালির ফাঁক দিয়ে
চাঁদটা খুব কম দেখা যায়
তাই চাঁদের দিকে হাঁটতে হাঁটতে
লেপ্টে যেতে চাইছি
আনমনা এক সুন্দরীর সাথে
যে কিনা আকাশী রঙের শাড়িতে
আমাকে ছোঁয়াছুঁয়ির আদরে
হোয়াটসঅ্যাপে নতুন ডিপি
করে রেখেছে শুধুই আমাকে
বুকের মধ্যে মনে রাখার জন্য।
সোনাঝুরির প্রাঙ্গণে
কখনো নিরিবিলি বসি
চোখে চোখ মনে মনে শরীরে শরীরে
দুপুর গড়িয়ে কোপাই এর একান্তে
আশ্বিনের ঘ্রাণে
নতুন আলাপ
তাই কোলাজে একে দিয়েছি বুকের ভেতরে তার মুখ।

দ্বিতীয় কবিতা


চোখ বুজি বারবার


শুধুই রাতে নয় দিনের বেলাতেও
উড়ে বেড়ায়
ভালোবাসার নামে যৌনসুখ ঘুড়ি
টাপুর টুপুর বৃষ্টি তেও
এধার-ওধার।
যেখানেই রাত কাটাই
টিনের ফুটো দেখা যায়
তবুও চুমুকের চমকে
চোখ বুজি বারবার——
ভালো না বাসার অজান্তে
বেঁচে থাকাটা কিন্তু অস্থির
তবুও কাঁটাতার পেরিয়ে
নতুন ঠিকানা চাই
যেখানে সবার ঠাই হবে
ভালোবাসার নামে যৌনসুখ ঘুড়ি
উড়ে বেড়াচ্ছে সারাটা আকাশ ধরে
আমরা অনেকেই দুহাত তুলে উপভোগ করছি
শুধু লাটাই যার হাতে
সে তো দিব্যি ভালো আছে নিজেকে সবকিছুই করে নিয়ে।

তৃতীয় কবিতা


উপবাস ভাঙবে


আমার উপবাস ভাঙবে
মনজুরে আদর পেলে
তাই শব্দের পিঠে শব্দ সাজাই
আর বলি ভারী দুষ্টু তুমি
গোপন খামে আদর পাঠিয়ে দিও
খোয়াই হাটে হারিয়ে যাবো দুজনা
খুঁজে নেব শরৎ হাওয়ায় কাশবন
তোমার আঁচল উঠবে
ডিঙ্গি নৌকায় ভেসে বেড়াবো
ডেকে বলব এসো না একটু দুষ্টুমি
কবিতার কোলাজ হয়ে যাব
আর গেয়ে উঠব
আমার আপনহারা প্রাণ
আমার বাঁধন ছেঁড়া প্রাণ।

চতুর্থ কবিতা


গোলাপ নিয়ে

তুমি যদি ভালবাসতে
পক্ষীরাজ হয়ে
নেমে এসে বলতে
তোমার উষ্ণতার কাছে
আমি ঠান্ডা বাতাস হয়ে গেছি।
তুমি যদি ভালবাসতে
তোমার সব শর্ত ভুলে
বলতে পারতে?
আমি বেশ ভাল আছি।
তোমার দুঃখের কাছে
আমি পাড় ভাঙ্গা নদী নই
আঙ্গুল ধরে বলব
আমার হাতের মুঠো তুমি ধরো
গোলাপের বিস্তীর্ণ সৌন্দর্য আছে
গোলাপ হয়ে
শুধু একটু সাহসী হতে হবে।

পঞ্চম কবিতা


হলদে শাড়ি


তুমি যদি আমার জন্য
হলদে শাড়িতে হালকা বাতাস হতে
আমি হতাম তুলি আর রং
সুন্দর মুখ একে দিতাম
তুমি সদ্য প্রস্ফুটিত ফুল হতে
বিকেলের সবুজ ঘাস খুঁজে নিয়ে বলতাম
মেঘ হোক বৃষ্টি নামুক
আনন্দ বাতাস হবো
তা তা থৈ থৈ—–
তুলির হাতটা ছুঁয়ে
সুন্দর মুখে এঁকে দেব।
সদ্য কেনা শাড়ির ভাঁজে
আমার মুখ হয়ে থাকবে
শুধুই তোমার জন্য
একটা গল্প হয়ে উঠবো
কোলবালিশে সারারাত।

শ্যামল রায়

এই সময়কালের একজন অতি পরিচিত সকলের মুখ কবি সাংবাদিক শ্যামল রায়। ছোটবেলা থেকে লড়াই সংগ্রামের মধ্যে দিয়ে লেখালেখিকে ভালবেসে আজও পর্যন্ত প্রবাহমান স্রোতের মতো নিজেকে ধরে রাখার চেষ্টা করছে। কখনো ভালবাসায় প্রেমে পড়ে গিয়েছেন আবার কখনো ভালোবাসার বিপক্ষে নিজেকে অনেক সময় হাবুডুবু খেতে হচ্ছে। তবুও সাহিত্যকে ভালোবেসে স্বপ্ন দেখে বেঁচে থাকা শ্যামল রায়ের ব্রত।
দীর্ঘদিন ধরে পেশায় একজন সাংবাদিক হয়েও কবিতাকে দূরে সরিয়ে রাখেন নি। বাংলার কবিদের সংগঠিত করার লড়াই এখনো চলছে।
শুধু বাংলা নয় বাংলাদেশ আসাম দিল্লি ত্রিপুরা প্রভৃতি রাজ্যের বহু লিটিল মাগাজিনে তার কবিতা দেখতে পাই।
প্রেমিকা এবং রুমা রায় ।দুই সন্তান অনিকেত ও শ্রেয়ান।
এদের সকলকে আঁকড়ে ধরেই নদীতে সাঁতার কেটে যাচ্ছেন এখনো।
শ্যামল রায় মনে করেন মানুষের ভালোবাসাটাই হচ্ছে ঈশ্বরের আশীর্বাদ। যারা বন্ধু ভেবে শত্রুতা করেন তারাই হচ্ছে শ্যামল রায়ের পথের দিশারী।
সংবাদ ভোরের খবর লেখালেখি সাহিত্য পত্রিকার সম্পাদক বাংলা রাইটার্স ফোরাম এর রাজ্য সম্পাদক।
টেলিভিশনে সাতকাহন অনুষ্ঠান এর সঞ্চালক হিসেবে ইতিমধ্যে সকলের মন কেড়ে নিয়েছেন শ্যামল রায়।
সকলের ভালোবাসা নিয়েই বেঁচে থাকা তার ইচ্ছের কাছে ইচ্ছে পূরণ। চৈতন্য ভূমি নবদ্বীপ ধাম এ বসবাস।

Leave a Reply

Your email address will not be published.