ক্ষুদিরামের জন্মভিটা কোনটি?

প্রশাসন

জুলফিকার আলি

স্বয়ং মহাত্মা গান্ধি সমর্থন করেননি ক্ষুদিরামের সহিংস আন্দোলনকে। তিনি বিপ্লবী না সন্ত্রাসবাদী– তা নিয়েও মাঝেমধ্যে বিতর্ক মাথাচাড়া দেয়। জন্মস্থান নিয়েও বিতর্ক পিছু ছাড়েনি আজও।

ঠিক কোথায় ক্ষুদিরাম বসুর জন্ম! উইকিপিডিয়া জানাচ্ছে : মৌবনী (হাবিবপুর)।

কেউ বলেন পশ্চিম মেদিনীপুরের কেশপুরের মোহবনি গ্রামে।কেশপুরবাসীর অন্তত সেই ধারণা। তবে, ভিন্নমতও আছে। আর সেখানেই বিতর্কের সূচনা।

ক্ষুদিরাম বসুর জীবনীকার তথা ক্ষুদিরাম বসুর পড়াশোনা যে স্কুলে, সেই কলিজিয়েট হাইস্কুলের প্রাক্তন শিক্ষক হরিপদ মণ্ডলের গবেষণামূলক সিদ্ধান্ত : ক্ষুদিরামের দিদি অপরূপা দেবী স্বয়ং মেদিনীপুর শহরের হবিবপুরকেই ক্ষুদিরামের জন্মভিটে হিসাবে চিহ্নিত করেছেন। তাই হরিপদবাবুর বক্তব্য, “এ নিয়ে আমি দীর্ঘ গবেষণা করে বইও লিখেছি। হবিবপুরই হল ক্ষুদিরামের জন্মস্থান। এ নিয়ে দ্বিমত আসার কথাই নয়।”
যাই হোক, রবিবার ছিল ক্ষুদিরামের আত্মবলিদানের দিন। মেদিনীপুর শহরের হবিবপুরে রয়েছে ক্ষুদিরামের আবক্ষ মূর্তি। মূর্তিতে মালা দিয়ে, শ্রদ্ধা জানায় একাধিক স্থানীয় শিক্ষা ও স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা। স্থানীয় হবিবপুর সরস্বতী বিদ্যামন্দির হাইস্কুলের শিক্ষক শিক্ষিকা ও ছাত্রছাত্রীরাও শ্রদ্ধা জানাতে উপস্থিত হন। স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা মালা মজুমদার জানান, “ক্ষুদিরাম বসুর আত্মদান আমাদের সবাইকে অনুপ্রাণিত করে দেশের জন্য, দশের জন্য কিছু করার। ” স্কুলের সভাপতি অশোক পালধি জানান, “জন্মভিটে নিয়ে বিতর্ক থাকতে পারে, ইতিহাসবিদরাই সঠিক কোনটি তা জানাবেন। তবে,আমরা ক্ষুদিরাম বসুর কীর্তিকে স্মরণ করলাম শ্রদ্ধার সঙ্গে। এদিন হবিবপুর সরস্বতী বিদ্যামন্দির হাইস্কুলেও পালিত হল গুরুত্ব সহকারে এদিনটি। ক্ষুদিরামের প্রতিকৃতিতে মালা দিয়ে শ্রদ্ধা জানান শিক্ষক প্রদীপ কুমার দাস। ক্ষুদিরামের জীবন ও দর্শন ছাত্রছাত্রীদের কাছে তুলে ধরেন ইতিহাসের শিক্ষক ভূপেন্দ্রনাথ সিং সর্দার।

Leave a Reply

Your email address will not be published.