ভিক্টোরিয়া ইনস্টিটিউট কে হেরিটেজ স্বীকৃতির দাবি

প্রশাসন

দেড়শো বছরের পুরাতন ঐতিহাসিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কে হেরিটেজ করার দাবি পূর্বস্থলীতে        

দীপঙ্কর চক্রবর্তী,

 প্রায় দেড়শো বছর আগে পূর্বস্থলীতে   গড়া হয়েছিল ভিক্টোরিয়া ইনস্টিটিউশন, এলাকার একমাত্র ইংরাজী মাধ্যম স্কুল হিসেবে ।পূর্বস্থলীর বড় এলাকা তখন ব্রিটিশের উপর  ক্ষুদ্ধ।তারা এই এলকার চাষীদের অন্যান্য চাষ বন্ধ করে নীলচাষে বাধ্য করাতো।  ইংল্যন্ড থেকে প্রাত্যহিক মানুষের প্রয়োজনীয় দ্রব্য সামগ্রী এনে এখানকার মানিষকে কিনতে ও ব্যবহার করতে বাধ্য করতে থাকলে এই স্কুলের কিছু ছাত্র ও কয়েকজন শিক্ষক ব্রিটিশের এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে আন্দ্রোলন সংগঠিত করে।এই স্কুলটি চলত ব্রিটিশের অর্থে।যথারিতি ইংরেজ শাসক স্কুলের অনুদান বন্ধ করে দেয়।স্কুলের ছাত্র,শিক্ষকরা বিপদে পরে যায় তখন।দশ কিলোমিটার দূরে শড়ডাঙ্গা গ্রামে কালাজ্বরের প্রতিষেধকের  আবিস্কারক বিজ্ঞানী উপেন্দ্রনাথ ব্রম্ভ্রচারীকে সব বলেন এলাকাবাসীরা  ।তিনি ভিক্টোরিয়া ইনস্টিটিউট নাম বাদ দিয়ে তাঁর বাবার নাম নীলমনি ব্রন্মচারী ইনস্টিটিউশন করে সকল আর্থিক অনুদান দিতে থাকেন।পূর্বস্থলীতে স্বাধীনতা সংগ্রামীর পীঠস্থান ছিল।রমনী মোহন চক্রবর্ত্তী,গোপেন কুন্ডু,নৃপেন ভট্টাচার্য সহ বহু সংগ্রামী ইংরেজদের  বিরুদ্ধে আন্দোলন করেন সেই সময় থেকে।নেতাজী সুভাস চন্দ্র বসুও পূর্বস্হলীতে এসেছিলেন স্বাধীনতা সংগ্রামীদের উদ্বুদ্ধ করতে। সেই স্কলের বর্তমান  প্রধান শিক্ষক মদন ঘোষ বলেন – ” এই স্কুলের একটি বিল্ডিং অতি প্রাচীন,অনেক ঘটনার সাক্ষী বহন করে ভগ্নপ্রায় হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।গত ২০১১ সালের ২৮ শে জানুয়ারী এই অংশকে হেরিটেজ ঘোষনা করার জন্য হেরিটেজ কমিশনে ছবি সহ যবতীয় তথ্য দিয়ে আবেদন করি।তারা সব দেখে গেলেও আজ পর্যন্ত কেন অর্থ মঞ্জুর হয় নি।কিছুদিন আগে পূর্ব বর্ধমানের জেলা দফতরেও সব কিছু জানানো হয়”।গত বৃহস্পতিবার এই স্কুলে আয়োজিত হয় কালনা মহকুমা তথ্য সংস্কৃতি দপ্তরের কবিগুরুর  প্রয়ান দিবস পালনের অনুষ্ঠান।সেখানে মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ মহাশয় গাছ লাগান,রবীন্দ্রনাথ ও গান্ধীজীর ছবি প্রদর্শনী দেখেন ও স্কুলের হেরিটেজ বিল্ডিং সহ অন্যান্য বিল্ডিং ঘুরে দেখেন।মন্ত্রীকে কাছে পেয়ে স্কুলের শিক্ষকরা সব বলেন।মন্ত্রী মহোদয় আশ্বাস দেন – আমি এবিষটা গুরুত্ব দিয়ে দেখবো।

Leave a Reply

Your email address will not be published.