‘চেয়ারম্যান কে ফল ভুগতে হবে’ জানিয়ে বনগাঁ পুরমামলায় রায়দান স্থগিত

প্রশাসন

মোল্লা জসিমউদ্দিন,


বুধবার কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সমাপ্তি চট্টপাধ্যায় এর এজলাসে বনগাঁ পুরসভায় অনাস্থা ভোট বিষয়য়ক মামলার রায়দান ছিল। তবে এদিন রায়দান টি স্থগিত রেখেছেন বিচারপতি। তবে শুনানি পর্বে এদিন পরিস্কার ভাবে জানিয়ে দেন – ‘আদালতের নির্দেশে শান্তিপূর্ণ অনাস্থা ভোট বানচাল করার জন্য পুর চেয়ারম্যান কে  এর ফল ভুগতে হবে ‘। আজকের এজলাসে নজিরবিহীন ভাবে সংবাদমাধ্যমের ঢোকা নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। উল্লেখ্য বনগাঁ পুরসভার চেয়ারম্যান কে নিলর্জ থেকে ক্ষমতালোভী, সর্বোচ্চ আদালত কে উপেক্ষা করা থেকে  পুলিশ কে অসত কাজে ব্যবহার করে স্বার্থসিদ্ধি করা প্রভৃতি তকমায় কলকাতা হাইকোর্টে ভৎসনা করা হয়েছিল। এর আগের শুনানি গুলিতে রাজ্যের পক্ষে এডভোকেট জেনারেল কিশোর দত্তের মাধ্যমে এইরুপ বার্তার মাঝে বিচারপতি বনাম এডভোকেট জেনারেলের বাদানুবাদও ঘটে। কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সমাপ্তি চট্টপাধ্যায়ের এজলাসে দায়ের করা বনগাঁর পুরসভার একতরফা অনাস্থা প্রক্রিয়া মামলাটির শুনানি হয়েছিল । বনগাঁ পুরসভার অনাস্থায় পুর চেয়ারম্যানের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ছিলেন খোদ বিচারপতি। কেননা এই এজলাসেই নির্দেশ জারি হয়েছিল – তিন দিনের মধ্যে অনাস্থা প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে এবং তা সাতদিনের মধ্যে শেষও করতে হবে। সবটাই হবে গনতান্ত্রিক ভাবে আইন অনুযায়ী। দেখা যায়, যে তিনজন কাউন্সিলারের দায়ের করা মামলায় এই আদেশনামা। সেই তিনজনই অনাস্থায় ভোটাভুটিতে অংশগ্রহণ করতে পারেনি । এমনকি কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চে দুজন বিজেপি  কাউন্সিলারের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারী পরোয়ানায় এক সপ্তাহের অন্তবর্তী স্থগিতাদেশ থাকলেও পুলিশ তাদের পুরসভার ভেতরে সেদিন ঢুকতে দেয়নি। ৯ জন বিজেপির কাউন্সিলার কে একটি ঘরে তালা মেরে আটক রাখা এবং ২ জন কাউন্সিলার কে পুলিশ দিয়ে ঢুকতে না দেওয়াতে ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন হাইকোর্ট এর বিচারপতি । সমগ্র ঘটনাগুলিতে আদালতের পর্যবেক্ষণ ছিল -‘ বনগাঁ পুরসভার চেয়ারম্যান একজন নির্লজ্জ , যে চেয়ার আঁকড়ে থাকতে চায় । অথচ সিংহভাগ কাউন্সিলারের সমর্থন নেই। চেয়ারম্যান এতই ক্ষমতালোভী যে আদালতও এখানে অসহায়।পুলিশ এবং অনুগামীদের দিয়ে পুরো অনাস্থা প্রক্রিয়া কে বাধা দেওয়া হয়েছে   ‘।   এই পর্যবেক্ষণ চলাকালীনই রাজ্যের উকিল তথা এডভোকেট জেনারেল কিশোর দত্ত এর সাথে তীব্র বাদানুবাদ ঘটে বিচারপতির। এডভোকেট জেনারেল বলে ছিলেন – “আপনার কথা শুনলে আমার কথাও আপনাকে শুনতে হবে। আর আমার কথা না শুনলে আমি আপনার কথা শুনতে বাধ্য নই”। কলকাতা হাইকোর্ট বনগাঁ পুরসভার অনাস্থা প্রক্রিয়া টি ঠিকঠাক হয়নি তা মনে করে। কেননা আগে নির্দেশ ছিল পুলিশি নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করে সংখ্যাগরিষ্ঠ কাউন্সিলাররা যাতে ভোটাভুটিতে অংশগ্রহণ করতে পারেন   ।বাস্তবিকপক্ষে তা হয়নি। তাই পুনরায় অনাস্থা ভোট হওয়ার ইংগিত মিলেছে।বিচারপতি বলেন – সরকার ভূল করলে তা সংশোধন করার দায়িত্ব আদালতের । এবার বনগাঁ পুরসভার অনাস্থা হলে সেটি মহকুমাশাসক কিংবা জেলাশাসকের অফিসে হবে। সেইসাথে পুলিশি নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করবেন পুলিশসুপার। অনাস্থাপ্রস্তাব ডাকার পর দ্রুত ভোটাভুটি না হলে জনস্বার্থ পরিষেবা ব্যহত হবে। তাই দ্রুত অনাস্থা হোক এবং সেটা অবাধ ও শান্তিপূর্ণ। আর সেটাই চায় আদালত। উল্লেখ্য  ২২ আসন বিশিষ্ট বনগাঁ পুরসভায় ২০ টি তে তৃণমূল এবং ১ টি করে সিপিএম – কংগ্রেস ছিল। গত লোকসভা নির্বাচনে ফলাফল ঘোষণার পর ২০ জনের মধ্যে ১৪ জন চলে আসেন বিজেপিতে  যদিও ৩ জন আবার ফিরে যায় সেই তৃণমূলে । কংগ্রেসের ১ জন কাউন্সিলার অনাস্থাপ্রস্তাবে তৃণমূল কে সমর্থন জানালেও সিপিএমের ১ জন কাউন্সিলার ভোটদানে বিরত থাকার সির্দ্ধান্ত নেয়। অর্থাৎ বিজেপি ১১ এবং তৃনমূল ১০ জনের ভোটাভুটির কথা। বিজেপির ১১ জনে মধ্যে ২ জনের বিরুদ্ধে অপহরণ মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়। সেটা অবশ্য কলকাতা হাইকোর্ট স্থগিতাদেশজারী করে এক সপ্তাহের জন্য। পরে জামিন মঞ্জুর হয় কলকাতা হাইকোর্টে। ভোটের দিন পুরসভার একটি ঘরে  ৯ জন বিজেপির কাউন্সিলার কে আটক রাখে এবং বাকি ২ জন কে পুলিশ দিয়ে ভেতরে ঢুকতে দেয়নি শাসক দল। এইরূপ অভিযোগ উঠে । এই অভিযোগের ভিক্তিতে মামলা দাখিল হয়। কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সমাপ্তি চট্টপাধ্যায় এর এজলাসে এই মামলায় বনগাঁ পুর চেয়ারম্যান কে নির্লজ্জ বলে তকমার পাশাপাশি পুনরায় ডিএম কিংবা এসডিও অফিসে অনাস্থা প্রক্রিয়া হওয়ার ইংগিত দেয় কলকাতা হাইকোর্ট। সেইসাথে পুলিশি নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে পুলিশ সুপার কে দায়িত্বে থাকার সম্ভাবনাও রেখেছিল আদালত।    এই মামলায় পরবর্তী শুনানিতে বিচারপতির পর্যবেক্ষণ ছিল – বনগা পুরসভার অনাস্থা ভোটে গনতন্ত্রের সাথে প্রতারণা করা হয়েছে। এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যেন মনে হচ্ছে গনতন্ত্র আজ ফুটপাতে দাঁড়িয়েছে। এইরূপ পর্যবেক্ষণের পরে বুধবার দুপুরে এই মামলার রায়দান ছিল। তাতে রায়দান স্থগিত রেখে বিচারপতি সমাপ্তি চট্টপাধ্যায় আজ এজলাসে জানিয়েছেন – ‘অনাস্থা ভোট কে বানচাল করার জন্য পুর চেয়ারম্যান এর ফল ভুগতে হবে ‘ । গোটা রাজ্য রাজনীতি এই মামলার দিকে তাকিয়ে আছে। যদিও এর আগে বিচারপতি এই মামলায় দ্রুত নিস্পত্তি নিয়ে জানিয়েছিলেন – ‘দ্রুত নিস্পত্তি না হলে ওই এলাকার পুর পরিষেবায় অচলাবস্থা চলবে । আর পুর পরিষেবা টি জনস্বার্থ বিষয়’। কলকাতা হাইকোর্টের সিংহভাগ আইনজীবীরা মনে করছেন – চলতি সপ্তাহে রায়দান হতে পারে।                                                                                                                                                                                                                   

Leave a Reply

Your email address will not be published.