তদন্ত চলছে এহেন আশ্বাসে ভরসা না রেখে বৃদ্ধার নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে বললো কলকাতা হাইকোর্ট

পুলিশ

মোল্লা জসিমউদ্দিন,     

কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি দেবাংশ বসাকের এজলাসে এক বৃদ্ধার ছেলের জালিয়াতিতে বে-ঘর হওয়ার মামলা উঠে। সেখানে স্থানীয় থানার পুলিশ রিপোর্ট দেয় – ঘটনার তদন্ত চলছে। এই রিপোর্ট দেখে অসন্তুষ্ট হয়ে বিচারপতি জানান – ‘শুধু তদন্ত চলছে বললে হবেনা, ওই বৃদ্ধার নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে হবে। সেইসাথে আগামীদিনে যাতে অভিযুক্ত দুই ছেলের হাতে আক্রান্ত না হন, সেটাও দেখতে হবে ‘। চলতি সপ্তাহে এই মামলাটি উঠে বিচারপতি দেবাংশ বসাকের এজলাসে। জীবনমুখী গায়ক নচিকেতা’র বৃদ্ধাশ্রম  গান টি সবাই কমবেশি শুনেছেন। সেখানে নিজ বাড়ী থেকে পরবাস অর্থাৎ ‘বৃদ্ধাশ্রমে’ যাওয়ার করুন কাহিনি রয়েছে। এই কাহিনি কতটা বাস্তব, তা আমরা প্রতিমুহূর্তে জানতে পারি। ঠিক এইরূপ ঘটনা তাও আপন ছেলের জালিয়াতিতে ঘরছাড়া আক্রান্ত এক বৃদ্ধার শারীরিক ও মানসিক নিগ্রহের ঘটনার মামলা দাখিল হয় কলকাতা হাইকোর্ট।হাওড়ার ডোমজুড়ের বাসিন্দা বন্দনা শীটের মামলার শুনানি হয়। তাঁর অভিযোগ, ‘পাওয়ার অফ এটোনি’ করে জালিয়াতির মাধ্যমে শেষসম্বল ভিটে দোকানবাড়ি থেকে বিতাড়িত করেছে বড় ছেলে। সাথে আবার শাসকদলের এক প্রভাবশালী প্রমোটারের কুনজর রয়েছে এই সম্পত্তি। মারধোর খেয়ে বারবার স্থানীয় থানাতে লিখিত অভিযোগ জানিয়েও কোন সূরাহা মিলেনি। তাই পুলিশি নিস্ক্রিয়তার অভিযোগ তুলে আইনজীবী ইন্দ্রজিৎ রায় চৌধুরীর মাধ্যমে গত সপ্তাহে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি দেবাংশ বসাকের এজলাসে মামলা দাখিল করেন। দুই ছেলের মারধরে হাতের আঙুল ভেঙেছে, সেই যন্ত্রণা শারীরিকভাবে থাকলেও পুত্রের ধারাবাহিক অত্যাচার মানসিক যন্ত্রণার গতিতে কে নিত্যদিন বাড়িয়ে চলেছে।  আদালত সুত্রে প্রকাশ, হাওড়ার ডোমজুড় এলাকার বাসিন্দা বন্দনা শীট তাঁর স্বামী মারা যাওয়ার পর ২০০৫ সালে তিন নাবালক ছেলে কে নিয়ে এক জায়গা কিনেন। সেখানে ভিটেবাড়ীর পাশাপাশি এক ভ্যারাইটি স্টোর দোকান থাকে। এই দোকানের বিক্রি-বাট্টায় সংসার চালানোর মূল আয়। ২০১১ সালে বড় ছেলে মনোজ শীট মা কে পুরোপুরি অজ্ঞাত রেখে এক ‘পাওয়ার  অফ এটোনি’ করে বলে অভিযোগ। এটি একপ্রকার এভিডেভিড। সাধারণত সাব রেজেস্ট্রি অফিসে দাতার সম্মতি এবং আঙুল এর ছাপ নিয়ে পাওয়ার অফ এটোনির দলিল হয়। পরবর্তী ক্ষেত্রে দেখা যায়, ওই এভিডেভিড করা পাওয়ার অফ এটোনির কাগজ দেখিয়ে শিবপুরের ইউকো ব্যাংকের শাখায় বড় ছেলে বন্ধকী ঋণ নেয়। কয়েকটি ঋণ পরিশোধের কিস্তি দেওয়ার পর ঋণের মাসিক কিস্তি জমা না পড়ায়    এই জালিয়াতির মাধ্যমে বন্ধকী ঋণের বিষয় টি প্রকাশ্যে আসে। তখন শাসক দলের প্রভাবশালী এক প্রমোটারের দারস্থ হয় ওই বৃদ্ধার বড় ছেলে মনোজ শীট। মা কে সম্পত্তি টি লিখে দেওয়ার জন্য শুরু হয় শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার। খাবার খেতে না দেওয়া থেকে মারধর কোন কিছুই বাদ যায়নি। এই মা পীড়ন ঘটনায় বড়ছেলের সাথে মেজছেলেও যুক্ত নির্যাতিতা বৃদ্ধার দাবি। স্থানীয়  শিবপুর    থানা কে বারবার লিখিত অভিযোগ জানালেও পুলিশ জিডি নাম্বার দেওয়া ছাড়া কিছুই করেনি। এইরূপ পরিস্থিতিতে গত ২৫/০৫/১৯ তারিখে দুই ছেলের মারধরের ঘটনায় বৃদ্ধার আঙুল ভাঙে। যার মেডিকেল রিপোর্ট রয়েছে। এইসব বক্তব্য জানিয়ে আইনজীবি  ইন্দ্রজিৎ রায় চৌধুরীর মাধ্যমে গত সপ্তাহে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা রুজু হয়। আবেদনকারীর আইনজীবি জানিয়েছেন – বিচারপতি কড়া নির্দেশ দিয়েছেন পুলিশ কে। যাতে ওই বৃদ্ধার কোনরকম শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার না হয় সেই বিষয়ে ।                                                                                                                                                                             

Leave a Reply

Your email address will not be published.