ল্যান্ড ট্রাইবুনাল আদালতে বিচারকদের অবসরের মেয়াদ বাড়ালো রাজ্য সরকার

প্রশাসন


 মোল্লা জসিমউদ্দিন , 

কলকাতা হাইকোর্টের অধীনস্তে থাকা রাজ্যের একমাত্র ভূমি সংক্রান্ত ল্যান্ড ট্রাইবুনাল আদালতে বিচারকদের অবসরসীমা বাড়ালো রাজ্য সরকার। আগে এই আদালতে বিচারকদের অবসরসীমা ছিল ৬২ বছর পর্যন্ত। গত বুধবার রাজ্য মন্ত্রীসভায় মুখ্যমন্ত্রী তাঁর ক্যাবিনেটে এই আদালতের বিচারকদের অবসরের বয়স ৬৫ বছর অবধি বাড়ালেন। সেই সাথে ল্যান্ড ট্রাইবুনাল আদালতে ‘চেয়ারম্যান’ বিচারকের অবসরসীমা ৬৮ বছর পর্যন্ত করা হয়েছে৷ রাজ্য সরকারের এহেন সির্দ্দ্বান্তে খুব খুশি বিধাননগরের করুনাময়ী বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকায় থাকা ল্যান্ড ট্রাইবুনাল আদালতের বার এসোসিয়েশনের সম্পাদক বিশ্বপ্রিয় রায় ওরফে ডালু বাবু৷ তিনি জানান – ” এই আদালতে বিচারক সংখ্যা শুন্যপদের তুলনায় কম, তাই পুরাতন বিচারকেরা অবসর পেলে আবার নিয়োগ নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি সময় চলে যেত। এক্ষেত্রে অবসরের সময়সীমা একদধাক্কায় তিন বছর এবং চেয়ারম্যান পদে বিচারকের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ছয় বছর বেড়ে যাওয়ায় সেই বিচারকের অভাববোধ আর তেমন রইলো না। আমরা বার এসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে রাজ্যের ভূমি তথা মুখ্যমন্ত্রী কে ধন্যবাদ জানাই “।  উল্লেখ্য ১৯৯৯ সালে রাজ্যের ভূমি বিষয়ক আইনী জটিলতা কাটাতে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু বিধাননগরে ল্যান্ড ট্রাইবুনাল আদালত চালু করেন৷ কলকাতা হাইকোর্টের রেজিস্ট্রার ( জেলা জজ এবং বিচারপতির মাঝামাঝি পদে থাকা বিচারক)   পদতুল্য  বিচারকেরা অবসর গ্রহণের পর ল্যান্ড ট্রাইবুনাল আদালতে যোগ দেন। প্রথম পর্যায়ে ৬ জন বিচারক ছিলেন৷ যার মধ্যে ৩ জন ভূমি সংস্কার আধিকারিকদের প্রশাসনিক বিষয় টি দেখেন। বাকি ৩ জন বিচারবিষয়ক বেঞ্চে মামলার তদারকি চালান। বর্তমানে এটি ৮ টি পদ হয়েছে।যারমধ্যে বিচারবিষয়ক ২ জন এবং প্রশাসনিক ৩ জন বিচারক রয়েছেন৷ এদের মধ্যে কেউ কেউ অবসরের কাছাকাছি চলে এসেছিলেন। মুখ্যমন্ত্রীর ল্যান্ড ট্রাইবুনাল আদালতে    বিচারকদের  অবসরের মেয়াদ বাড়ানোয় খুশি আইনজীবী সহ বিচার প্রার্থীরা৷ উল্লেখ্য দৈনিক স্টেটসম্যান   কাগজে  বিচারক কম থাকায় মামলার গতি কমছে বিষয়ে খবর প্রকাশিত হয়। এক্ষেত্রে শুন্যপদে নুতন করে নিয়োগ  না   হলেও বর্তমান বিচারকদের  মেয়াদ বেড়ে যাওয়ায় মামলার নিস্পত্তির গতি অটুট থাকলো তা বলা যায়।  এই আদালতে প্রতিবছর ৫ হাজারের বেশি মামলা দাখিল হয়। উত্তরবঙ্গে কলকাতা হাইকোর্টের সার্কিট বেঞ্চ হওয়ায় ৫ টি জেলার মামলার চাপ কম কলকাতা হাইকোর্টে। তবে গোটা রাজ্যের ভূমি বিষয়ক মামলা গুলি ল্যান্ড ট্রাইবুনাল আদালতে    রুজু হয়   । এমনকি কলকাতা হাইকোর্টে ভূমি নিয়ে মামলা হলে নিদিষ্ট ফোরাম অর্থাৎ ল্যান্ড ট্রাইবুনাল আদালতে দাখিলের নির্দেশিকাও দেওয়া হয়৷ প্রতিদিন গড়ে এই আদালতে ৪ টি বেঞ্চে ১২০ টি মামলা হলেও ৬০ টির মত শুনানি হয় এবং বাকি মামলা গুলি পরবর্তী তারিখ পড়ে। ৪ টি বেঞ্চের মধ্যে ২ টি বেঞ্চে বিচারক থাকায় প্রথম পর্যায়ে নিজের এজলাস এবং শেষ দফায় অন্য বেঞ্চে দায়িত্বপ্রাপ্ত বিচারক হিসাবে মামলার তদারকি চালান বিচারকরা৷ তাই মামলার নিস্পত্তি ঘিরে দীর্ঘমেয়াদি সময় লাগতো। বর্তমানে   ৫ জনের মধ্যে অনেকেই অবসর পেতেন৷ তাই আবার সমস্যা আসতো বিচারপ্রক্রিয়ায়। তাই রাজ্য সরকারের বিচারকদের মেয়াদের সময়সীমা বাড়ানোয় খুশি আইনজীবীমহল।                                                                                                                     

Leave a Reply

Your email address will not be published.