বনগাঁ পুরসভায় ৭২ ঘন্টায় অনাস্থা শুরু করার নির্দেশ কলকাতা হাইকোর্টের

প্রশাসন

বনগাঁ পুরসভায় ৭২ ঘন্টায় অনাস্থা শুরু করার নির্দেশ কলকাতা হাইকোর্টের


মোল্লা জসিমউদ্দিন, 


বৃহস্পতিবার দুপুরে কলকাতা হাইকোর্ট বনগাঁ পুরসভার দলত্যাগী তিন কাউন্সিলারের অনাস্থাপ্রস্তাব বিষয়ক মামলায় পরিস্কারভাবে জানিয়ে দিল – আগামী ৭২ ঘন্টার মধ্যে বনগাঁ পুরসভায় অনাস্থা প্রক্রিয়া শুরু করে দিতে হবে এবং সেইসাথে সাতদিনের মধ্যে পুরো প্রক্রিয়াটা শেষ করে ফেলতে হবে। কলকাতা হাইকোর্টের এহেন নির্দেশে শাসকদলের ‘প্রশাসক’ বসানোর উদ্যোগ কে  কার্যত মাটি ফেলে দিলো বলা যায়।প্রসঙ্গত, ২২ আসন বিশিষ্ট বনগাঁ পুরসভায় গত পুরভোটে ২১ টি তে তৃনমূল জিতে এবং সিপিএম পায় ১ টি আসন। সাম্প্রতিক লোকসভা নির্বাচনে ফলাফল অনুযায়ী  বনগাঁ পুরসভা এলাকায় কুড়ি হাজারের বেশি ভোটে এগিয়ে যায় গেরুয়া শিবির। এমনকি সংশ্লিষ্ট লোকসভা আসনে জিতেন বিজেপি প্রার্থী শান্তন ঠাকুর৷ দিল্লীর বিজেপি দপ্তরে ২১ জন তৃণমূলী কাউন্সিলারের মধ্যে ১৪ জন নাম লেখান বিজেপিতে। গত ৭ জুন বনগাঁ পুরসভার চেয়ারম্যান শঙ্কর আঢ এর বিরুদ্ধে অনাস্থাপ্রস্তাব জমা পড়ে। অনাস্থাপ্রস্তাব জমা নিয়েও হয় বিস্তার নাটক৷ এমনকি স্থানীয় পুর চেয়ারম্যান দলত্যাগী ১১ জন কাউন্সিলারের বিরুদ্ধে মিসিং ডাইরি পর্যন্ত করেন!  বিজেপির ১৪ জনের মধ্যে আবার ২ জন পুরাতন দলেই ফিরে। তবে এই পুরসভার সংখ্যাগরিস্টতার আসন ধরলে তা ১২ তে দাঁড়ায়। যা বর্তমানে আপাতত বিজেপির দখলে। ঠিক এইরকম পরিস্থিতিতে রাজ্য সরকারের তরফে বনগাঁ পুরসভায় ‘প্রশাসক’ বসানোর ভাবনা চলছিল বলে প্রকাশ। ইতিমধ্যেই রাজ্যের ১৭ টি মেয়াদ উর্ত্তীণ পুরসভায় রাজ্য সরকার প্রশাসক নিয়োগ করেছে। সাধারণত ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট পদমর্যাদা পূর্ন প্রশাসনিক আধিকারিকরা পুরসভায় প্রশাসক হিসাবে থাকেন। গত ৭ জুন এই পুরসভায় অনাস্থাপ্রস্তাব জমা পড়ে। স্থানীয় প্রশাসন থেকে বারবার অনাস্থা টি এড়িয়ে যাওয়া হচ্ছিল। চলতি সপ্তাহে কলকাতা হাইকোর্টে তিন বিজেপির কাউন্সিলার অনাস্থাপ্রস্তাব শুরু করার জন্য মামলা রুজু করেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে কলকাতা হাইকোর্ট বনগাঁ পুরসভার অনাস্থাপ্রস্তাব বিষয়ক মামলাটি তে জানিয়ে দেয় – আগামী ৭২ ঘন্টার মধ্যে বনগাঁ পুরসভায় অনাস্থা প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে এবং তা সাতদিনের মধ্যেই শেষ অর্থাৎ অনাস্থায় বিজয়ী কে চেয়ারম্যান পদে    আসীন করতে হবে। এহেন নির্দেশে শাসকদলের প্রশাসক নিয়োগ করার পরিকল্পনা বিশবাঁও জলে গেল বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। সেইসাথে গত লোকসভা নির্বাচনে ফলাফল ঘোষণার পর যেসব পুরসভায় অচলাবস্থা শুরু হয়েছে অনাস্থাপ্রস্তাব ঘিরে তাতে বিরোধী বিশেষত বিজেপি অক্সিজেন পেল বলে বলা যায়।                                                                                                                                                             

Leave a Reply

Your email address will not be published.