মামলার নিস্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত মামলাকারীর পদটি ফাঁকা রাখতে বললো হাইকোর্ট

প্রশাসন

  মোল্লা জসিমউদ্দিন, 


আপডেট জাতিগত শংসাপত্র চায়, এই মর্মে কলকাতার শিয়ালদহ সংলগ্ন বঙ্গবাসী কলেজের মর্নিং বিভাগে ইতিহাসের সহকারী অধ্যাপিকা পদে ডঃ সালেহা বেগম কে নিয়োগ করেনি কলেজ সার্ভিস কমিশন কর্তৃপক্ষ । কাউন্সিলিং চলছে, খুব তাড়াতাড়ি শুন্যপদ গুলি পূরণও হয়ে যাবে। তাই ‘আপডেট শংসাপত্র’ নুতন করে আনার ফরমানে কয়েক সপ্তাহ কেটে যেতে পারে। আর তাতে ওই পদে নিয়োগ হতে পারেন অন্য কেউ। তাই দ্রুত শুনানি চেয়ে আইনজীবী আশীষ চৌধুরীর মাধ্যমে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করেছিলেন আবেদনকারী শিক্ষিকা ডঃ সালেহা বেগম।  গত বুধবার দুপুরে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তীর এজলাসে এই মামলাটি উঠে। বিচারপতি কলেজ সার্ভিস কমিশনের নুতন করে আপডেট জাতিগত শংসাপত্র চাওয়ার প্রকৃত কারণ জানতে চেয়ে রিপোর্ট তলব করেছেন এবং সেইসাথে ওই পদটি মামলা নিস্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত কোন নিয়োগ যাতে না হয় সেই নির্দেশিকা অর্থাৎ অন্তবর্তী স্থগিতাদেশ জারী করেছেন। এই মামলার পরবর্তী শুনানি ৩০ জুলাই রয়েছে। এই মামলার শুনানিতে মামলাকারী ডক্টর সালেহা বেগম এর আইনজীবী আশীষ কুমার চৌধুরী বলেন  – “জন্ম এবং জাতিগত শংসাপত্র একবারই জারি করা হয়, কিন্তু কলেজ সার্ভিস কমিশন কর্তৃপক্ষ ওই আবেদনকারী কে আপডেটেড জাতিগত শংসাপত্র পেশ করতে বলেছে।কলেজ সার্ভিস  কমিশনের নিয়োগ সংক্রান্ত নিয়মে নবম ধারায় বলা রয়েছে জাতিগত, মার্কশীট  শংসাপত্র গুলির প্রতিলিপি জমা দিতে পারবেন আবেদনকারী। সন্দেহ হলে  সেটিকে যাচাই করে দেখবেন নিয়োগকারী সংস্থা। তবে নতুন ভাবে কোনো শংসাপত্র জারি করার কথা বলতে পারে না নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ”। আবেদনকারীর আইনজীবী এই সওয়াল করার পর   তখন কলেজ সার্ভিস কমিশন এর পক্ষের আইনজীবী দীপক মন্ডল বলেন – “আমার কাছে কোন অবস্থান জানা নেই এই বিষয়ে”।   উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে কলেজ সার্ভিস কমিশন কর্তৃপক্ষকে এই সংক্রান্ত রিপোর্ট জমার নির্দেশ দেয় কলকাতা হাইকোর্ট।   পাশাপাশি নির্দেশ দেয় মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এই পদে কোন নিয়োগ করা যাবে না। মামলার বয়ান অনুযায়ী জানা গিয়েছে, ডক্টর সালেহা বেগম দক্ষিণ ২৪ পরগণার  ফকিরচাঁদ কলেজের চুক্তিভিত্তিক শিক্ষিকা পদে কর্মরত ছিলেন। ২০১৭ সালে কলেজ সার্ভিস কমিশনের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন।তিনি জাতিগত বিষয়ে  ‘ওবিসি এ’ ক্যাটাগরিতে আবেদন করেছিলেন। ২১ শে ডিসেম্বর তিনি বাছাইপর্বে উত্তীর্ণ হন। এরপর    ২০১৯ সালের ১৩ ই জুন সহ অধ্যাপিকা  পদের কাউন্সেলিং প্রক্রিয়া শুরু হয়। সেখানেও তিনি উত্তীর্ণ হন। খিদিরপুরের বাসিন্দা হওয়ার কারণে বঙ্গবাসী কলেজের প্রাতঃ বিভাগের ইতিহাসের সহ অধ্যাপিকা পদের জন্য তিনি ওই কলেজে আবেদন করেন। কলেজ সার্ভিস কমিশন কর্তৃপক্ষ তাকে সমস্ত নথিপত্র যাচাই করার জন্য প্রস্তুত করতে নির্দেশ দেয়। সেই অনুযায়ী সমস্ত নথিপত্র জমা দিলে, কমিশনের তরফ থেকে বলা হয় যে জাতিগত আপডেটেড শংসাপত্র জমা দিতে হবে ওই প্রার্থীকে। কলেজ সার্ভিস কমিশন কে ওই প্রার্থী তার সমস্ত নথিপত্র যাচাই করার আবেদন রাখেন। এতেও সাড়া দেয়নি কলেজ সার্ভিস কমিশন।   যে আপডেট জাতিগত শংসাপত্র চাওয়ার কথা বলা হয়েছে, তা যথাযথ কারণ দেখিয়ে পেতে সময় সাপেক্ষ ব্যাপার। আর এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে গিয়ে কলেজ সার্ভিস কমিশনের নিয়োগও শেষ হয়ে যাবে। তাই এই বিষয়টি চ্যালেঞ্জ করে গত ৮ জুলাই হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন ওই শিক্ষিকা।গত বুধবার কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তীর এজলাসে এই মামলাটি উঠে। তখন আপডেট জাতিগত শংসাপত্র চাওয়ার প্রকৃত কারণ জানতে চেয়ে রিপোর্ট তলব এবং এই মামলার নিস্পত্তি না হওয়া অবধি ওই পদে কোন নিয়োগ নয় বলে জানিয়েদেন বিচারপতি। এই মামলার পরবর্তী শুনানির তারিখ ৩০ জুলাই বলে জানিয়েছেন মামলাকারীর আইনজীবী   আশীষ চৌধুরী।                                   

Leave a Reply

Your email address will not be published.