বেনোজল বাড়ছে বঙ্গ বিজেপি তে

রাজনীতি

সোমনাথ ভট্টাচার্য,

ভারতবর্ষের ইতিহাসে বেশ কয়েক দশক ধরে রাজনৈতিক সমাচারের শীর্ষে থাকা পশ্চিমবঙ্গ।লেখাপড়া জানুক বা না জানুক রাজনীতির রঙ গায়ে লাগালে সে গ্ল্যামার বয়,আর তা যদি হয় শাসকদলের তো কথাই নেই। দুটো কথা আজ খুব ভেসে আসছে, ক্লাব কালচার আর রেজিমেন্টেশন।
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান শাসক দলের অবস্থা শোচনীয়’ হওয়ার একটাই কারণ শুধুমাত্র ক্লাব কালচার ও ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ এর অভাব। সমস্ত ক্ষমতা এক কেন্দ্রীকরণ করে শাসন চালানোর যে পদ্ধতি তাতেই বেঁকে বসেছে মানুষ। দলের নেতৃত্ব চেয়ে আমলা নির্ভরতা দিদির সাম্রাজ্যে টলোমলো অবস্থার কারন। বিগত আট বছরে একেবারে পশ্চিমবঙ্গের উন্নয়ন হয়নি একথা ভুল, কিন্তু সরকারের সাফল্য দলীয়স্তর এর মাধ্যমে মানুষের কাছে যাওয়ার পদ্ধতি তা ছিলনা।ওই যে পাড়ার মোড়ে বসে দশটি ছেলেকে জোগাড় করে দিদির ছবি লাগিয়ে কোন রকম একটি অফিস করে ফেলা, তারপর সেই অফিস থেকে শুরু সেই দশটা ছেলের চাহিদা পূরণ , নেতা কর্মীদের চাহিদা পূরণ করবে সেটাই স্বাভাবিক। অভিযোগ সেই চাহিদা পূরণের পদ্ধতি কে নিয়ে ।এইরকমই তাদের উপর নিয়ন্ত্রণ না করতে পারাটাই তৃণমূলের ব্যর্থতা,আর তার ফলেই আজ লোকসভা নির্বাচনের ফল।
একটা রাজনৈতিক দলের উচ্চ নেতৃত্ব দলের কাজ কর্ম সম্পর্কে অবগত হয় নিচুতলার কর্মী নেতাদের রিপোর্টিং এর উপর। প্রথমত দলীয় শৃঙ্খলা আদর্শ এগুলোর উপর ভিত্তি করে রাজনৈতিক দল পরিচালিত হয়। মাত্র আট বছরেই ঘাসফুলের সাম্রাজ্য টলমল হওয়ার অন্যতম কারণ,নেতাকর্মীদের মধ্যে শৃঙ্খলার অভাব।নিচু তলার কর্মীদের ভূল রিপোর্টিংয়ে খুশি থাকতেন উচ্চ নেতৃত্ব, নির্বাচনের ফলে তার প্রমাণ পাওয়া গেল।
যাইহোক,দলীয় নেতৃত্বের দূরদর্শিতার অভাব,অযোগ্যতার কারনে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মেয়াদ এক অনিশ্চয়তার দিকে।। ভোট আসে ভোট যায়, রাজনৈতিক দল ক্ষমতা দখল করে , সেই দলের নেতারা ফুলে-ফেঁপে ওঠে।বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বঞ্চিত থাকে জনগণ। নির্বাচনের পর থেকে মোদি ঝড়ে কাঁপছে গোটা দেশ। স্বাভাবিকভাবেই কাঁপছে দেশের সঙ্গে রাজ্য পশ্চিমবঙ্গ।দলে দলে সাধারণ মানুষ থেকে রাজনৈতিক কর্মী যুক্ত হচ্ছে গেরুয়া শিবিরে।ভারতীয় জনতা পার্টি একটি সাংগঠনিক দল,শোনা যায় এই দলে নীতি এবং আদর্শের মাধ্যমে নেতা নির্বাচিত হয়, বেশিরভাগ সিস্টেমটাই কন্ট্রোল করে আর এস এস বা রাস্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘ। পশ্চিমবঙ্গের জনগণ দীর্ঘ 34 বছরের বাম আমলে সিপিএমের যে সাংগঠনিক সিস্টেম দেখেছিল, তা বিগত তৃণমূল আমলে ভুলে যেতে বসেছে। অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে ক্লাব কালচারে, 10 জন মানুষ সঙ্গে থাকলেই সে নেতা এমন ভাবে। একটি মঞ্চতে কে উঠবে তা নিয়ে মারামারি ,টাকার বখরা নিয়ে নিজের দলীয় কার্য্যালয় ভাঙচুর। সাম্প্রতিক নির্বাচনের ফলাফলের পর পদ হারানোর ভয়ে ..এক কথায় ক্ষমতা হারানোর ভয়ে রাতারাতি গেরুয়া শিবিরে যোগদানের হিড়িক খুব বিপদজনক।
আর চিন্তার বিষয় এখানেই,বাম ডান সব পক্ষ থেকে রাজনৈতিক কর্মী থেকে শুরু করে অন্ধকার জগতের জীব, প্রত্যহ দলে দলে ভিড় করছে গেরুয়া শিবিরে। প্রত্যেকের চাহিদা ভিন্ন, পরিমাণে বিপুল। এই চাহিদা কতটা পূরণ করতে পারবে গেরুয়া শিবির তার ওপর নির্ভর করছে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ।বিধানসভা নির্বাচন এখনও দু বছর দেরি, এত বিপুল সংখ্যক মানুষের প্রত্যাশা পূরণ দলীয় আদর্শকে বজায় রেখে এটা এক কথায় চ্যালেঞ্জ বিজেপির কাছে।এর মধ্যেই উঠছে নানা অভিযোগ ,কোথাও উড়ছে সদ্য দলে নেওয়া তৃণমূল কর্মীর উপর কাটমানি নেওয়ার অভিযোগ আবার কোথাও পুরনো আরএসএস কর্মী তথা বর্তমানে বিজেপির নেতা গাঁজা কারবারির সঙ্গে যোগসাজশের অভিযোগ।
দলের উচ্চস্তরের মিটিংয়ে হওয়া সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হওয়ার ক্ষেত্রে লক্ষ্য হচ্ছে গাফিলতি,কোথাও দলে নির্দেশ না মেনে মিছিল মিটিং! আবার দলীয় নেতৃত্ব কে সম্মান না দেওয়ার ঘটনা ।দেশের বিপুল সংখ্যক মানুষ ভরসা করে যে রাজনৈতিক দলকে এই নির্বাচনে ক্ষমতায় এনেছে, তাদের আস্থা অর্জনের জন্য প্রয়োজন স্থায়ী সরকার দেওয়া ।সেটা তখনই সম্ভব যখন একটি সাংগঠনিক সুশৃংখল আদর্শবাদী দল ক্ষমতায় আসবে। সেটার বাস্তবায়নে প্রয়োজন নেতৃত্বে কঠোর মনোভাব যেকোনো মূল্যে দলীয় শৃঙ্খলার বাস্তবায়নে থাকতে হবে অবিচল।।
শুধু হাতে পতাকা ধরিয়ে রাজনৈতিক সমর্থনের আশ্বাস নেওয়াটাই সন্তুষ্ট থাকলে চলবে না ,প্রয়োজন দলের নীতি আদর্শ সম্বন্ধে সম্যক জ্ঞান দেওয়া ।এক কথায় রাজনীতিকরন না ঘটালে এই বিপুল জনসমর্থন কে টিকিয়ে রাখা মুশকিল, দলীয় কর্মীদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যোগ দানের পাশাপাশি তাদের রাজনীতি সম্বন্ধে সম্যক জ্ঞানের জন্য শিবিরের প্রয়োজন। আর দল সংঘটিত হলে সাফল্য আসবেই এটাই স্বাভাবিক, তবেই প্রকৃত সম্মান জানানো হবে ,সেই সব মানুষদের যারা নির্বাচনে সমর্থন করেছিলেন।বিলম্বে প্রয়োজন দলীয় শৃঙ্খলা,নচেৎ একুশে বিধানসভা দখল দিবাস্বপ্ন গেরুয়া শিবিরের

Leave a Reply

Your email address will not be published.