মহানগরে ‘ব্যঞ্জনা’র সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে মুগ্ধ সবাই

ক্রীড়া সংস্কৃতি

বৃষ্টিমাখা সন্ধ্যায় ‘ব্যঞ্জনা’-র রঙ্গীন নিবেদনে আপ্লুত শ্রোতাদর্শকরা
শ‍্যামল রায়, কলকাতা

সম্প্রতি মহানগরী কলকাতার বুকে আষাঢ়ের বৃষ্টিভেজা সন্ধ্যায় এক মন ছুঁয়ে যাওয়া সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা উপহার দিল ‘ব্যঞ্জনা’। ঐতিহ্যবাহী কলামন্দিরের কলাকুঞ্জে ‘মনের মাধুরী’ শীর্ষক ঘন্টা তিনেকের অনুষ্ঠান ঘিরে ছিল রং-বেরঙের উপস্থাপনা। নাচ-গান-কবিতা-শায়রী-আবৃত্তি- শ্রুতিনাটক ও সুরের মূর্ছনা সব কিছুতেই ছিল অভিনবত্ব। হারিয়ে যাওয়া পুরনো দিনের গান নিয়ে ‘জলসাঘর’ কিম্বা শাস্ত্রীয় নৃত্যের ছন্দে ‘সাম-এ- সঙ্গীত’ নজর কাড়ে শ্রোতা দর্শকদের। কস্তুরি,অভিলিকা,রাজনন্দিনী, অনুষ্কার নৃত্যশৈলীতে আপ্লুত দর্শকরা। কথায় কবিতায় নজর কাড়ে সৌম্যরীত, সানন্দা, মধুরিমা ও তৃণা। কবিকণ্ঠে কবিতার আড্ডা ‘দু-কথায়’ অনুষ্ঠানটিও মনোগ্রাহী হয়ে ওঠে সুস্মিতা দাসের আলাপচারিতা ও এ সময়ের জনপ্রিয় দুই কবি জয়দীপ চট্টোপাধ্যায় ও ফুল্লরা মুখোপাধ্যায়ের কবিতায়। শৌভিক সুস্মিতার কণ্ঠে শ্রুতিনাটক পরিবেশন অন্য মাত্রা দিয়েছিল অনুষ্ঠানটিতে। ৯-এ পা রাখা ‘ব্যঞ্জনা’ সংস্কৃতি চর্চার একঘেয়ে গতানুগতিকতা ছেড়ে অভিনব ভাবনা নিয়েই পথ চলতে চায় এমনটাই জানালেন ‘ব্যঞ্জনা’-র কর্ণধার তথা বিশিষ্ট বাচিক শিল্পী ও নাট্যকার শর্মিষ্ঠা দত্তরায়। তিনি জানান ‘ব্যঞ্জনা’ একটা সাংস্কৃতিক সামাজিক বন্ধন। একটা পরিবার। নিয়মিত নানা ধরণের সামাজিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি সংস্কৃতির বিভিন্ন ধারা নিয়ে নিয়মিত কাজ করে চলেছে এই সংস্থা তথা এই পরিবারটি। বিভিন্ন জেলার সঙ্গে কলকাতার সংস্কৃতি চর্চার প্রসার ও মেলবন্ধনের কাজটিও নিরলসভাবে করে চলেছে ‘ব্যঞ্জনা’। নাচ-গান-কবিতা-সংলাপ সহ বিভিন্ন বিষয় ভিত্তিক কাজও নিরন্তর করে চলেছে ‘ব্যঞ্জনা’। এদিনের উপস্থাপনাতেও ছিল রকমারি স্বাদ। ‘ব্যঞ্জনা’ প্রযোজিত কথানাটক ঘিরে ছিল শ্রোতাদের মধ্যে চরম উৎকণ্ঠা। শর্মিষ্ঠা দত্তরায় ও দেবাশিস মৌলিক তাঁদের কণ্ঠের যাদুতে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে নিবেদন করেন রোমাঞ্চকর কথানাটকটি ও শ্রোতাদের মন জয় করেন। ইন্দ্রানী রায় ও সায়ন্তন চক্রবর্তীর গানে ছিল মাদকতা। ‘মনের মাধুরী’ শীর্ষক সমগ্র অনুষ্ঠানে মন ছুঁয়ে যায় আশীষ হাজরার সুললিত কণ্ঠের সঞ্চালনা। শুরু থেকেই এক ভালোবাসায় বুঁদ হয়ে ছিল আসনে বসে থাকা গুণীজনেরা। অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত শিল্পীদের হাতে ফুলের গাছ তুলে দিয়ে বার্তা দেওয়া হয় বন্ধুতা ও সবুজায়নের। কবি জয়দীপ চট্টোপাধ্যায়,কবি ফুল্লরা মুখোপাধ্যায়, সুস্মিতা দাস, শৌভিক সেন ও সুস্মিতা রায় কে সম্মানিত করা হয় ‘ব্যঞ্জনা’ পরিবারের পক্ষ থেকে। বাঁকুড়া থেকে আসা বিশিষ্ট গল্পকার শক্তি চট্টোপাধ্যায়কেও সম্মাানিত করা হয়। সম্মান জানান বিশিষ্ট কবি জয়দীপ চট্টোপাধ্যায়। কলকাতার নাগরিক কর্মব্যস্ত একঘেয়ে জীবনে কিছুটা শান্তির বারি এনে দেওয়ায় ‘ব্যঞ্জনা’কে কৃতজ্ঞতা জানান দর্শকাসনে থাকা গুণীজনেরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published.