সাহেবগঞ্জ লুপ লাইনে এই ‘রাখালিয়া’র গান শুনে মুগ্ধ যাত্রীরা

ক্রীড়া সংস্কৃতি

জ্যোতি প্রকাশ মুখার্জ্জী,


৩০-৪০ বছর আগে গ্রাম বাংলায় একটা জিনিস সবার চোখে পড়ত। মাঠে গরু চড়ছে। অন্যদিকে রাখাল- বালক গাছের ছায়ায় বসে আপন মনে বাঁশি বাজিয়ে চলেছে। কখনও দেখা যেত গরুর পাল বাড়ি ফিরে চলেছে, পিছনে আলপথ ধরে বাঁশি বাজাতে বাজাতে চলেছে রাখাল বালক।সেই রাখালিয়া বাঁশির সুরের জাদুতে মুগ্ধ হোত সাধারণ মানুষ। শহরের বাবুরাও চলার পথে দাঁড়িয়ে পড়েছে। মুগ্ধ হয়ে শুনেছে পাগল করা সেই সুর।
সেইসব আজ অতীত।মেলায় বিক্রি হয় না সেই দু’পয়সার বাঁশি। বে-সুরে বাজাতে বাজাতে ছুটে চলে না ছোট ছোট ছেলে-মেয়েরা।রাখাল বালকের হাতে শোভা পায় না বাঁশি । ডিজে বা স্মার্ট ফোনের দাপটে বাঁশির স্হান হয়েছে ইতিহাসের পাতায় ।
কিন্তু সেই বাঁশির সুর আজও পাগল করে তোলে বীরভূমের লাভপুরের দিলীপ দাসকে। স্ত্রী এবং একমাত্র সন্তান সুজন, দ্বাদশ শ্রেণীর ছাত্র, কে নিয়ে দিলীপের সংসার।গত ২৫-৩০ বছর ধরে সাহেবগঞ্জ লুপ লাইনের এক্সপ্রেস ট্রেনের বিভিন্ন কামরায় বাঁশি বাজিয়ে চলেছে সে।এটাই তার পেশা। এইভাবেই তার সংসার চলে। অবশ্য মাঝে মাঝে টিভি চ্যানেলেও সে বাঁশি বাজিয়েছে। অথবা বিভিন্ন এলাকায় অনুষ্ঠানে বাঁশি বাজিয়েছে। দিলীপের কোনো সরকারী স্বীকৃতি নাই ।
ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে অনুষ্ঠান করা দিলীপ বাবু জানালেন – প্রথম দিকে বাঁশির সুরের শ্রোতা প্রচুর থাকলেও আস্তে আস্তে কমতে থাকে। কিন্তু এক্সপ্রেস ট্রেনের কামরায় বিশেষ করে এসি-তে এই প্রজন্মের ছেলে মেয়েদের একাগ্রচিত্তে বাঁশির সুর শুনতে দেখে তিনি অবাক হয়েছেন। মালদহটাউন-ইণ্টারসিটি ট্রেনের যাত্রী বছর চব্বিশের সোমনাথ মণ্ডল জানালেন – প্রায়ই এই ট্রেনে তিনি যাতায়াত করেন। ইয়ার ফোন গুঁজে গান শোনেন। দিলীপ বাবুকে দেখলেই ইয়ার ফোন খুলে বাঁশির সুর শুনতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন।মাঝে মাঝে রেকর্ডিংও করে নেন। তার মতে – ‘জ্ঞানহারা ডিজে’র গান শুনতে পাওয়া যাবে কিন্তু এই বাঁশির সুর সহজে শোনা যাবে না। বাবাকে নিয়ে সুজনেরও খুব গর্ব।

Leave a Reply

Your email address will not be published.