ফস্তিনস্তি নাচে গ্রেপ্তার তৃণমূলের উপপ্রধান সহ ৩

পুলিশ

ভাঙড়ে তৃণমূল নেতার উদ্যোগে গ্রামে অশ্লীল নৃত্য, বার ডান্সারদের সঙ্গে প্রকাশ্য মঞ্চে উপপ্রধান গ্রেপ্তার ৩।

সৃজন শীল দক্ষিণ ২৪ পরগনা।

রাতের অন্ধকার চিরে মঞ্চের ফ্লাড লাইটে দুলে উঠছে নারী শরীর। মঞ্চের উপর তখন যুগল নাচ দেখাতে ব্যস্ত। ‘নাচ’ বললে বোধহয় ভুল হবে। নাচের মতো করে ‘অন্য কিছু’ দেখাতেই ব্যস্ত যুবক-যুবতী। সামনে লোলুপ দৃষ্টি নিয়ে চিক চিক করে উঠছে কয়েকশো জোড়া চোখ। কখনও হিন্দি গানের তালে কখনও চটুল বাংলা গানের সঙ্গে। নাচের আঙ্গিকেই যুবতীর শরীরের বিভিন্ন গোপনাঙ্গ ছুঁয়ে যাচ্ছে যুবকের হাত, ঠোঁট। নাচের মুদ্রার আদলে মঞ্চের উপরে যেন বসেছে যৌন সঙ্গমের আসর।
লোকসভা নির্বাচনে ভাল ফল পাওয়ার আনন্দে কলকাতা থেকে বার ডান্সার আনা হয় ভাঙড়ে।সোমবার রাতে ভাঙড়ের নিমকুড়িয়া গ্রামে চটুল গানের তালে নাচ পরিবেশণ করেন কয়েকজন বার ড্যান্সার।যদিও পুলিশের বিনা অনুমতিতে এলাকায় অশ্লীল নাচ গানের পরিবেশ তৈরি হয়েছে এমন অভিযোগ পেয়ে রাতেই সেই অনুষ্ঠান বন্ধ করে কাশীপুর থানার পুলিশ। এমন ঘটনায় স্বভাবতই মুখ পুড়েছে ভাঙড়ের তৃনমূল নেতৃত্বের। এ ব্যপারে কোন মন্তব্য করতে চাননি ব্লক সভাপতি ওহিদুল ইসলাম।আরেক নেতা আরাবুল ইসলাম বলেন, ‘এই ঘটনা অত্যন্ত নিন্দাজনক, তবে এর সঙ্গে দলের কোন সম্পর্ক নেই। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ করছি।‘
স্থানীয় সূত্রে খবর, এবারের লোকসভা নির্বাচনে নিমকুড়িয়া গ্রাম থেকে ভাল মার্জিন পেয়েছে তৃনমূল। তাই দলের নির্দেশে যখন বিজয় মিছিল করা বারণ তখন আনসার অনুগামীরা দাবি তোলেন একটা বিচিত্রানুষ্ঠানের জন্য। অনুগামীদের দাবি মেনে আনসার প্রথমে কাবালির আসর করবেন বলে রাজি হয়েও পরে বার ড্যান্সার আনার সির্দ্ধান্ত নেন। আর তাতেই অপসংস্কৃতির অভিযোগ ওঠে তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে।এর আগে ভাঙড়ের প্রাপ্তন জেলা পরিষদের এক সদস্যের বিরুদ্ধে ভাঙড় থানার সামনে স্বল্প বসনা নর্তকীদের নিয়ে চটুল নাচ গান এবং টাকা ওড়ানোর অভিযোগ উঠেছিল ।সেই সময় বিতর্ক এড়াতে তৎক্ষণাৎ ওই নেতা কে বহিষ্কার করে দলীয় শৃঙ্খলায় চরম বার্ত দিয়েছিল দল। সেই ঘটনার পর আবার অশ্লীল নৃত্যের ঘটনায় নাম জড়ালো তৃণমূল নেতার।
এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, ‘মেয়ে গুলো উলঙ্গ হয়ে এত বিশ্রী অঙ্গ ভঙ্গি করে নাচছিল মনে হচ্ছিল যেন চোখের সামনে নীল ছবি দেখছি। ছোট বাচ্ছা, স্কুল পড়ুয়া সবাই লজ্জায় মুখ ঢাকে।‘ অনুষ্ঠানের খবর পৌঁছায় কাশীপুর থানার কাছে। রাতেই কাশীপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অনুষ্ঠান বন্ধ করে দেয়। অভিযুক্ত উপ প্রধান আনসার মোল্লার ফোন বন্ধ থাকায় তাঁর কোন প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। প্রতিক্রিয়া মেলেনি তৃনমূলের জেলা সভাপতি শুভাশিস চক্রবর্তীরও। তবে এলাকা থেকে আজ তিন জনকে গ্রেপ্তার করেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.