রাজনীতি করতে গিয়ে সিঁথির সিঁদুর মুছে গেল, আক্ষেপ নিহত তৃনমূল কর্মীর স্ত্রীর

রাজনীতি

জ্যোতি প্রকাশ মুখার্জ্জী,


তৃণমূল -বিজেপি সংঘর্ষে অশান্ত হয়ে উঠল পূর্ব বর্ধমানের গলসী ২ নং ব্লকের শান্ত গ্রাম সাটিনন্দী। পরিণতিতে মৃত্যু ঘটল জয়দেব রায় (৫০)নামে এক তৃণমূল কর্মী। স্হানীয় সূত্রে জানা যাচ্ছে লোকসভা ভোটের ফল ঘোষণার পরেই এই এলাকায় তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে সংঘর্ষ হয়। তবে ব্যপক কিছু ঘটেনি। গতকাল(১০/৬/১৯) কয়েকজন বিজেপি কর্মী তৃণমূল কর্মীদের উদ্দেশ্যে কটু কথা বলে। রাত্রি ১০ টা নাগাদ পুনরায় একই ঘটনা ঘটলে জয়দেব রায়, মোহন পুইলে, বলরাম মালিক ও অনিল মালিক নামে চার তৃণমূল কর্মী তীব্র প্রতিবাদ জানালে বিজেপি কর্মীরা তাদের বেধড়ক মারধর করে। ঘটনা স্থলে জয়দেব রায়ের মৃত্যু ঘটে। বাকি তিন জনকে বর্ধমান হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। জয়দেব রায়ের স্ত্রী , পুত্র ও কন্যা বর্তমান।
আজ বিকালে বর্ধমান হাসপাতালে মৃতদেহের সুরতহাল করা হয় ।তারপর দলীয় পতাকায় মোড়া মৃতদেহ গলসী হয়ে সাটিনন্দী গ্রামে এসে পৌঁছায় ।উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস, স্বপন দেবনাথ, শ্যামল সাঁতরা , সহ-সভাধিপতি দেবু টুডু, শম্পা ধাড়া সহ স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব ও অসংখ্য সাধারণ মানুষ। মৃতদেহের গলায় মালা দিয়ে মন্ত্রীরা শেষ শ্রদ্ধা জানান এবং বিজেপির খুনের রাজনীতির তীব্র নিন্দা করেন এবং সাধারণ মানুষের কাছে এলাকায় শান্তি বজায় রাখার আবেদন করেন। প্রসঙ্গত বিষ্ণুপুর লোকসভার তৃণমূল প্রার্থী অধ্যাপক শ্যামল সাঁতরা বহুবার এই এলাকায় এসেছেন।ফলে এলাকার মানুষের সঙ্গে তাঁর একটা আত্মিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তিনি দলমত নির্বিশেষে প্রত্যেক মানুষের কাছে এলাকায় শান্তি বজায় রাখার আবেদন জানান ।
মৃত জয়দেব রায়ের স্ত্রী চম্পা রায় কাঁদতে কাঁদতে বলেন – রাজনীতি করতে গিয়ে আর কারো যেন সিঁথির সিঁদুর মুছে না যায়। এলাকায় পুলিশ পিকেট বসেছে ।অভিযুক্ত বিজেপি কর্মীরা গ্রাম ছাড়া হয়ে গেছে ।

Leave a Reply

Your email address will not be published.