ক্রীড়া সংস্কৃতি

‘স্বাস্থ্য আগে, শাস্ত্র পরে’ ভাবনায় বর্ধমানের সর্বমঙ্গলা মন্দিরের পুজো

সুরজ প্রসাদ ,

বর্ধমানে পুজোর ঢাকে কাঠি পড়লো।রাজ- আমল থেক চলে আসা প্রথা অনুসারে রাজাদের খনন করা গহীন জলের দিঘি কৃষ্ণসায়রে থেকে ঘটোত্তলন করা হল। বিধি মেনে কিন্তু স্বাস্থ্যবিধি মেনে মর্যাদার সঙ্গে পালিত হলো এই লোকাচার। বর্ধমানের রাজারা ছিলেন পাঞ্জাবী। পরে বধু হিসেবে নানা রাজ্যের মেয়েরা এসেছেন পরিবারে। তাই রাঢ়-জননী সর্বমঙ্গলার পুজো শুরু হয় প্রতিবার প্রতিপদে। কৃষ্ণসায়র থেকে আচার মেনে জল ভরা হয়।এরপর ঘটস্থাপন হবে। পুজো চলবে নবমী অর্থাৎ নবরাত্রি অবধি।ঘোড়ার গাড়ি ঢাক ঢোল বাদ্যি সবই ছিল।গোটা প্রকরণে রামকৃষ্ণ মিশনের মহারাজ; মায়ের প্রধান পুরোহিত থেকে সব পুরোহিতেরা শহরের কিছু বিশিষ্ট মানুষ এবারেও অংশ নেন এই রিচ্যুয়ালে। শুধু সবই হয়েছে স্বাস্থ্যবিধি মেনে।নিউ নর্মাল দুনিয়ায় এবারে নন-ফর্মাল পুজো। তাবলে রাজার আমল থেকে চলে আসা প্রথার কোনো ব্যত্যয় হবেনা বর্ধমানের অধিষ্ঠাত্রী দেবী সর্বমঙ্গলার পুজোয়।কেবল “স্বাস্থ্য আগে; শাস্ত্র পরে” এই এবারের মূলমন্ত্র। সবার আগে তাই স্বাস্থ্যবিধি মেনেই পুজো হবে বর্ধমানের মঙ্গলাবাড়িতে।পূর্ব বর্ধমানের সবচেয়ে প্রাচীন আর জনপ্রিয় মন্দির দেবী সর্বমঙ্গলার। রাজা তেজচন্দের আমলে এই মন্দির নির্মাণ হয়েছিল। মন্দির ঘিরে অনেক উপকথা।চুনুরী বাড়ির মেয়েরা মায়ের পাষাণপ্রতিমায় গুগলী থেতো করতেন স্বপ্নাদেশ পেয়ে মাকে এই প্রাচীন মন্দিরে প্রতিষ্ঠা করা হয়। যা পেয়েছে হেরিটেজের মর্যাদা। মন্দির সংস্কার হয়েছে।।দেবী দুর্গা এখানে সর্বমঙ্গলা রূপে পুজিতা। সারাবছর বিরাজ করেন তিনি।সব কটি উৎসব রাজ-আমল থেকেই মহাসমারোহে পালিত হয়ে আসছে।পুজোর চারদিন ষোড়শোপচারে দেবী আরাধানা হয়। আগে মহিষ ও পাঠা বলি হত। পূর্বতন জেলাশাসক এর উদ্যোগে এখন বলি বন্ধ। আগে কামান ফাটানো হতো সন্ধিপুজোর মহালগ্নে। ১৯৯৭ এ কামান বিস্ফোরণের পর থেকে তাও বন্ধ। তবু পুজোর পাঁচদিন এখানে তিলধারণের জায়গা থাকেনা। হাজারে হাজারে ভক্ত সমবেত হন। মাছের টক সহ নানা উপাচারে মায়ের ভোগ হয়। মালসাভোগ নিতে ভক্তরা ভিড় করেন।নবমীতে কয়েকহাজার মানুষকে বিনাশুল্কে ভোগ বিতরণ করা হয়।এবারে বেশ কয়েকমাস বন্ধ থাকার পর মন্দির খুলেছে। জনসমাগম খুব কম। পুজোর আগে মন্দিরের রক্ষণাবেক্ষণের জন্য মাকে পাশের ঘরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।ভক্তরা সঙ্কটে।মায়ের অর্থাগম কম। তাই ভাড়ারে টান পড়েছে মায়েরও।প্রধান পুরোহিত অরুণ ভট্টাচার্য জানান; ১৭;ই অক্টোবর থেকে বিধি অনুসারে ঘটোত্তলন হয় রাজার প্রতিষ্ঠিত কৃষ্ণসায়রে। শুরু হয়ে গেলো মহাপুজোর নির্ঘন্ট। ঘোড়ার গাড়ি এবারেও ছিলো। মাকে রাজবেশ পড়ানো হবে।তিনি জানান এবারে ঘটস্থাপন হবে।এর মধ্য দিয়েই শুরু হল রাঢ়ের অধিষ্ঠাত্রী দেবীর আরাধান।দেবীপক্ষের আজ সূচনা মলমাস কাটিয়ে।পিতৃপক্ষ অতিক্রান্ত। জানা গেছে; পায়েস; পোলাও মাছের টকে ভোগ নিবেদন হবে মায়ের। সবই হবে।কেবল ভিড় করা যাবেনা। ভাড়ারে টান পড়লেও রাজ-আমলের থেকে চলে আসা কোনকিছুর ব্যতিক্রম হবেনা। শুধু শাস্ত্রের বিধানের আগে স্বাস্থবিধির নিদান মেনে চলতে চান তাঁরা। গোল দাগের মধ্য থেকে দুরত্ব মেনে পুজো দেওয়া যাবে। নির্দিষ্ট স্থানে পুরোহিতের হাতে ডালা দিতে হবে। স্যানিটাইজেশন করা হবে। ভোগ সীমিত সংখ্যায় বিতরণ হবে আর মাস্ক কিন্তু মাস্ট।এই বিধিনিষেধ এর জেরে অখুশি নন ভক্তরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *