মঙ্গলকোটে বিজেপি কে ঠেকাতে বামেদের অক্সিজেন দিচ্ছে তৃণমূল?

বিধানসভা ভোট ২০২১

  মোল্লা জসিমউদ্দিন, 

মঙ্গলকোট কেন্দ্রে ২০১১ সালের রাজ্যে পালাবদল আনা বিধানসভা ভোটে মাত্র দেড়শো ভোটে জিতেছিল সিপিএম। এরপরে ২০১৩ সালে পঞ্চায়েত নির্বাচনে হাতেগোনা পঞ্চায়েত সমিতি সহ কিছু  গ্রাম পঞ্চায়েত আসনে বিজয়ী হয়েছিল কংগ্রেস সহ সিপিএম। পরে বিরোধী জনপ্রতিনিধিরা অবশ্য উন্নয়নে অনুপ্রাণিত হয়ে জোড়াফুল শিবিরে নাম লেখান। ২০১৪ সালে লোকসভায় নিকটবর্তী বাম প্রার্থী থেকে তৃনমূল প্রার্থী ২৪ হাজারের বেশি  ভোটে এগিয়ে ছিলেন এই মঙ্গলকোট বিধানসভা এলাকা থেকে। ২০১৬ এর নির্বাচন টা অবশ্য তৃনমূল কে তীব্র অন্তদ্বন্ধের মধ্যে  পড়তে হয়। ২০১১ এর পরাজিত প্রার্থী অপূর্ব চৌধুরী বনাম ২০১৬ এর তৃনমুল  প্রার্থী সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী শিবিরে বিবাদ শুরু হয়ে যায়। এমন পরিস্থিতি হয় যে, ২৪ হাজারের লিড কমে সেটা ১২ হাজারে দাড়িয়ে যায় গত বিধানসভা নির্বাচনে  । আশাতীত ভাবে বিজেপি তাদের ভোটব্যাংক দ্বিগুন করে নেয়। ওয়াকিবহাল মহল মনে করে – তৃনমূলের ক্ষমতাসীন গোস্টীর অন্তর্ঘাত ছাড়া গেরুয়া ভোটের শক্তিবৃদ্ধি সম্ভব নয়। ঠিক এই জায়গা থেকেই  আসন্ন লোকসভায় দুশ্চিন্তার কালো মেঘ তৃনমূলের অভ্যন্তরে দেখা দিয়েছে ।  তার উপর একদা তৃণমূলের সেকেন্ডম্যান মুকুল রায় বিজেপিতে এসে দলবদল খেলা আরও জমিয়ে দিয়েছেন। বিগত বাম জমানায় মঙ্গলকোটে আলাউদ্দিন সেখ, পূর্নিমা মাঝী, সাইফুল মুন্সি, দিলীপ ঘোষ, সেখ হাসমত প্রমুখ তৃনমুল কর্মী খুনে সর্বদা শহীদ পরিবার গুলির পাশে দেখা গেছে মুকুল রায় কে। তাই মঙ্গলকোটের শহীদ পরিবার সহ জোড়াফুলের অনেক নেতা বিশেষত ক্ষুব্ধ নেতা কর্মীদের যোগাযোগ রয়েছে মুকুল বাবুর সাথে। আর এখান থেকেই ভোটব্যাংকে বিপদের অশনি সংকেত পাচ্ছে স্থানীয় তৃনমূলের নেতারা। যদিও গত পঞ্চায়েত ভোটে বিরোধীশুন্য হয়েছে মঙ্গলকোট। কেউ মনোনয়ন জমা তো দূর অস্ত ফর্ম পর্যন্ত তুলতে পারেনি। এমনকি রাজ্যের জনশিক্ষা প্রসার মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী তাঁর নির্বাচনী এলাকায় অনুগামীদের দলীয় প্রতীক পেলেও ব্লক কিংবা মহকুমা শাসকের অফিসে মনোনয়নপত্র তুলতে পারেনি। যার জেরে তিনি সরকারি নিরাপত্তারক্ষী ছেড়ে পর্যন্ত দিয়েছিলেন। দপ্তরেও গোঁসা করে যাননি। এহেন মঙ্গলকোটে অবশ্য গত সপ্তাহে কৈচরে এক সভায় অনুব্রত মন্ডল ৫০ হাজারের লিড চেয়েছেন ব্লক নেতৃত্বের কাছে। যদিও নেতারা ৪০ হাজারের লিড দেবেন বলে কথা দিয়েছেন। তাই স্বভাবতই প্রশ্ন উঠছে বিরোধী শুন্য মঙ্গলকোটে মাত্র ৪০ হাজারের লিড কেন হবে তা নিয়েও? তাহলে কি বিরোধীশুন্য রাখার জের কি লোকসভায় কুফল পেতে পারে তৃনমূল। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্লক তৃণমূল নেতা বলেন – “পুলিশ কে দিয়ে গাঁজা /অস্ত্র মামলায় জড়িয়ে যে ঘটনাগুলি গত আড়াই বছরে শতাধিক ব্যক্তির উপর চালানো হয়েছে। তাতে আমরাও দুশ্চিন্তার মধ্যে আছি,  ভোট টা কোন ফুলে পড়বে  তা নিয়ে”। দিন কয়েক আগে মঙ্গলকোটের জয়পুরে এক মিস্টির দোকানে বিজেপির পতাকা টাঙানো নিয়ে বিজেপি কর্মী  দোকানদারের ভাগ্নে কে রক্তাক্ত করার অভিযোগ উঠে তৃনমূল আশ্রিত দুস্কৃতিদের বিরুদ্ধে। হাসপাতালের কাগজপত্র করেও স্থানীয় থানায় লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করা কঠিন কাজ হয়ে দাঁড়ায় আক্রান্ত পরিবারের কাছে। তবে নির্বাচনী সেলে অনলাইনে বিষয়টি জানানোর পর অভিযোগপত্র জমা নেওয়া হয়। মঙ্গলকোটে  যখন এইরুপ বিজেপির প্রতি মারমুখী মনোভাবের প্রতিফলন ঘটেছে।সেখানে আবার ওই এলাকা সহ মঙ্গলকোটের বিস্তৃত এলাকায় দেওয়াল লিখনে জোড়াফুলের পাশাপাশি কাস্তে হাতুড়ি তারার দেখা মিলছে অনবরত । গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে ব্লক অফিস থেকে সর্বদলীয় সভা সেরে নিগন এলাকায় সিপিএম নেতারা তৃনমূলের হাতে মার খেয়েছিল অবশ্য।       রাজনীতি কারবারিরা বলছেন – রাম কে ভয় পেয়ে বামেদের অক্সিজেন দিচ্ছে তৃনমূল। রাজ্য বিজেপি নেতা চন্দ্রনাথ মুখার্জি ওরফে বাবলু জানান – “২০১১ সালের বিধানসভায় সিপিএমের সন্ত্রাস রুখতে তৃনমূল কে যেমন বেছে নিয়েছিল রাজ্যবাসী। ঠিক তেমনি পুলিশ নির্ভর তৃনমূল কে হঠাতে এই লোকসভায় বিজেপি কে ভোট দেবেন অনেকেই “। গত  মঙ্গলবার বিকেলে মঙ্গলকোটের কৈচর এলাকায় বিজেপির সভা হয়। এখানে উল্লেখযোগ্য বক্তা না এলেও সভার ভীড় ভালোয় হয়েছে বলে স্থানীয় সুত্রে প্রকাশ   । বিশেষত আদিবাসীদের  কাঁধে তীরন্দাজ অবস্থান গেরুয়া বলয় কে মুখোমুখি  প্রতিরোধের  দিকে আনছে বলে মনে করা হচ্ছে। মঙ্গলকোটের বিভিন্ন এলাকাজুড়ে রয়েছে আদিবাসী গ্রাম। অতীতে বামেদের দিকে ঝুঁকে থাকা এই আদিবাসীরা তৃনমূল নেতাদের রাতের ঘুম কেড়ে নিয়েছে বলে কেউ কেউ বলছেন। তাই রাম কে ঠেকাতে বামেদের দেওয়াল লিখনে সহযোগিতার   হাত বাড়িয়ে দিয়েছে শাসক শিবির। তবে এই দাবি উড়িয়ে দিয়েছে তৃনমূলের ব্লক নেতারা।  যাইহোক মঙ্গলকোটে বিভিন্ন প্রান্তে জোড়াফুলের পাশাপাশি কাস্তে হাতুড়ি তারার  দেওয়াল লিখন তাও একই দেওয়ালে দেখে অনেকেই মুচকি হাসছেন। তাদের বক্তব্য এই ধরনের রাজনৈতিক সৌজন্যতা যদি গত পঞ্চায়েত ভোটে দেখাতো তাহলে অন্তত বিরোধীশুন্য হতনা এই মঙ্গলকোট।                                                                                                                                                                      

Leave a Reply

Your email address will not be published.