ঘাসের দানা দিয়ে চৌদ্দ মাদল মেলা

ভিডিও

সৃজনশীল,

এই মেলা ২৪তম বর্ষে পদার্পণ করল । এই মেলা শুরু করা হয় ৩৫ ফুট শ্রীকৃষ্ণের বিশ্বরূপ মূর্তি পূজার মাধ্যমে। এই ঠাকুর গুলো তৈরি হয়েছে পরিবেশের সঙ্গে মানানসই ধান, ঘাসের দানা, পাখির খাবার দিয়ে। এই মেলা জাতি ধর্ম বর্ণ বিদ্বেষ ভুলে সবাইকে একত্রিত করে। তবে এই মেলা শুরু হবার আগে গঙ্গা, মনসা, সরস্বতী দেবীর পূজা করা হয়। আজ এই মেলার উদ্বোধন করেন বৈষ্ণব সম্প্রদায়ের মানুষ। ২৫শে জানুয়ারি সন্ধ্যায় আমন্ত্রিত গৌরাঙ্গ ঠাকুর গুলিকে মেলার পশ্চিম পাশের নদীর ঘাটে থেকে ৭১ জন খোল কর্তাল বাদকসহ স্থানীয় কয়েক হাজার মানুষ শাঁখ, ঘণ্টা, বাজিয়ে মূল মঞ্চে নিয়ে আসে তিন কিলোমিটার রাস্তা শোভাযাত্রা সহকারে। ওইদিনই রাত্রি নটার দিকে দু কিলো মিটার পূর্ব নদীতে ঘট উত্তোলনের জন্য যাওয়া হয় শোভাযাত্রা সহকারে। সেখানেও থাকে ৭১জন খোল,কর্তাল বাদক এবং কয়েক হাজার মানুষ। পরের দিন ভোর পাঁচটা থেকেই শুরু হয় ৯৬ ঘণ্টাব্যাপী বিরামহীন খোল করতাল বাজনা সহ হরিনাম সংকীর্তন।এই চার দিনব্যাপী দুটি মঞ্চে চলে লাগাতার অনুষ্ঠান। একটি মঞ্চে চলে ভাগবত গীতা পাঠ এবং পালা কীর্তন। অন্যদিকে ৭১ খোল করতাল সহযোগে অবিরাম তারকব্রহ্ম নাম। এই অনুষ্ঠানটি শেষ হয় দধিমঙ্গল অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে। যেখানে হাজার হাজার ভক্ত মন্ডলী জল কাদায় মাখামাখি করে গড়াগড়ি খায়। চার দিন ধরে চলে নগর কীর্তন গ্রাম পরিক্রমা। এই মেলার একটি বৈশিষ্ট্য সাগরদ্বীপ মেলা শেষ করে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দোকানদারের আসেন বিভিন্ন বাহারি জিনিসপত্র নিয়ে। প্রায় তিন শতাধিক দোকান বসে এখানে। এই মেলা কমিটির পক্ষ থেকে চার দিনব্যাপী হাজার হাজার মানুষের জন্য পঞ্চ ব্যঞ্জন সহ দুপুরের আহারের ব্যবস্থা করা হয়। এই মেলা ভুলিয়ে দেয় জাতিবিদ্বেষ বজ বল্লভপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের সমস্ত মানুষজন স্বতঃস্ফূর্তভাবে এই মেলায় অংশগ্রহণ করে যদিও বিভিন্ন এলাকা থেকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন অনেক দরদী মানুষ।

Leave a Reply

Your email address will not be published.