বিশ্বকবির শহরে ফ্ল্যাট ঢুকবার মুখে সশস্ত্র দুস্কৃতিদের হাতে আক্রান্ত স্বর্ণব্যবসায়ী

পুলিশ

কৌশিক গাঙ্গুলি,

গুলি চালিয়ে স্বর্ণ ব্যবসায়ীর টাকার ব্যাগ ছিনিয়ে চম্পট দুষ্কৃতীদের

থানা থেকে ঢিল ছোঁড়া দুরুত্বে, বোলপুর শহরে স্বর্ন ব্যবসায়ীর টাকার ব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে চম্পট দিলো জনা তিনেক দুষ্কৃতী। পালানোর আগে এলাকায় সন্ত্রাসের সৃষ্টি করতে দু রাউন্ড গুলিও চালিয়ে যায় দুস্কৃতীরা।

বোলপুর থানা থেকে ঢিল ছোঁড়া দূরত্বে এমন ঘটনা। যেখানে বোলপুরের মত শহরে মানুষের আনাগোনা সেখানেই গুলি চালিয়ে ছিনতাই! ত্রিশূলাপট্টির দিশারি অ্যাপার্টমেন্টে বাস করেন স্বর্ণ ব্যবসায়ী চন্দন সেন। তাঁর দোকান বোলপুরের নিচ্চুপট্টিতে। আজ রাত্রি ৯ টা নাগাদ চন্দন সেন দোকান থেকে তাঁর ফ্ল্যাটের নিচে গাড়ি রাখার সময় ২ জন দুষ্কৃতি মুখ ঢাকা অবস্থায় এসে তাঁকে আক্রমন করে। চন্দন সেনের কাছে থাকা টাকার ব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে পালানোর সময় দুই রাউন্ড গুলি চালানোর অভিযোগ। ফ্ল্যাটের সিকিউরিটি কর্মীরা দুষ্কৃতীদের পিছু ধাওয়া করার চেষ্টা করলেও তারা ধরতে পারেননি।

আক্রান্ত স্বর্ণ ব্যবসায়ী চন্দন সেন বলেন, “আমি দোকান বন্ধ করি টাকার ব্যাগ নিয়ে ফ্ল্যাটে ফিরছিলাম। এমনকি ফ্লাটে এসেও গেছি। গাড়ি পার্কিং করার সময় দু’জন দুষ্কৃতী আমার মাথায় মোটা লাঠি দিয়ে আঘাত করে। তারপর আমার হাতে থাকা টাকার ব্যাগটি ছিনিয়ে নেওয়ার জন্য চেষ্টা করে। আমি বাঁধা দিলে তারা আমার হাতে ওই লাঠি দিয়ে আবার আঘাত করে। আমি ব্যাগ ছেড়ে ফেলি, তারপর সেই ব্যাগ নিয়ে চম্পট দেয়। দুষ্কৃতী পিছন ধাওয়া করেও ধরতে পারিনি।”

ফ্ল্যাটের সিকিউরিটি স্বাধীন কুমার রায় বলেন, “ওই ভদ্রলোক আমাদের এই ফ্ল্যাটেই থাকেন এবং গাড়ি পার্কিং করার সময় তার উপর আক্রমণ চালায় কয়েক জন দুষ্কৃতী। উনি চিৎকার করতে থাকেন চোর চোর করে। আমি দৌঁড়ে গিয়ে দেখি, তারা একটি দেখছি নিয়ে পালাচ্ছে। দু হাজার চেষ্টা করেও তাদের ধরতে পারিনি। ওরা জন্য তিনেক ছিল এবং যাওয়ার আগে গুলি চালিয়ে যায়।”

নিরাপত্তারক্ষী এবং স্থানীয়রা বাধা দিতে গুলি চালানোয় প্রাণের ভয়ে তাদের কেউ ধরতে পারেনি। ঘটনায় আহত স্বর্ণ ব্যবসায়ী চন্দন সেন। বোলপুরের মত শান্ত এলাকায় দুষ্কৃতীদের এমন দৌরাত্ম্য দেখে স্বাভাবিক ভাবেই আতঙ্কিত বোলপুরবাসিরা। বীরভূম তথা রাজ্যের দাপুটে নেতা অনুব্রত মণ্ডলের বাড়ি বোলপুরে, যেখানে স্বয়ং কবিগুরুর স্বপ্নের বিশ্ববিদ্যালয় বিশ্বভারতী, সেখানেই এমন ঘটনা তাও আবার থানা থেকে ঢিল ছোঁড়া দূরত্বে! নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কায় স্থানীয় বাসিন্দারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published.