আজ কলকাতা রাজপথে লাখো সংখ্যালঘু মানুষের ভীড়ে অবরুদ্ধ হতে পারে মহানগর

পুলিশ

পুলকেশ ভট্টাচার্য,

কলকাতার রানি রাসমণিতে ৬ ডিসেম্বর দলিত মুসলিমদের যৌথ উদ্যোগে মহামিছিল ও জনসভা সফল করতে ৩ ডিসেম্বর, ২০১৮ সোমবার কলকাতা প্রেস ক্লাবে এক প্রেস কনফারেন্সের আহ্বান করেছিলেন সংবিধান বাঁচাও সমিতির পক্ষে দলিত নেতা সমীর কুমার দাস, উদার আকাশ পত্রিকার সম্পাদক ফারুক আহমেদ ও কঙ্কন কুমার গুঁড়ি।

৬ ডিসেম্বর সংহতি দিবসে কলকাতার রাজপথে দলিত মুসলিমদের যৌথ উদ্যোগে মহামিছিল ও জনসভার ডাক দিয়েছেন বাংলার দলিত ও সংখ্যালঘু সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
মেগা সমাবেশ সফল করতে উপস্থিত হবেন পশ্চিমবঙ্গের বহু আদিবাসী ও সংখ্যালঘু সংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে হাজার হাজার সমর্থনকারী সদস্যরা। প্রেস কনফারেন্সে এদিন বক্তব্য রেখে জানালেন রেল কর্মচারী ও আয়োজক সমীর কুমার দাস, উদার আকাশ পত্রিকার সম্পাদক ফারুক আহমেদ, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নেতা মোহাম্মদ কামরুজ্জামান, আদিবাসী ও দলিত নেতা কঙ্কন কুমার গুঁড়ি, সুচেতা গোলদার, বীরেন মাহাতো, জিতেন্দ্রনাথ বাল্মিকী সহ অন্যান্য নেতৃত্ব।

লাখো মানুষের ঢল নামবে ৬ ডিসেম্বর।

দলিত মুসলিমদেরই যৌথ উদ্যোগেই ঐতিহ্যময় ভারত গড়তে তাঁরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছেন। আদি ভারতবাসীদের নিজেদের মধ্যে লড়িয়ে দিয়ে কারা ক্ষমতায় আছেন এতো বছর? ভাবুন একবার আর জেগে উঠুন। ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করবেন না। ভাবুন একবার ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান বাবরী মসজিদ ভেগেছে বিভেদকামী শক্তি কি কারণে? স্রেফ বিভাজনের মাধ্যমে রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের ফায়দা তুলবে বলে। বহুজন সমাজের মানুষ ও মুসলিমদের সজাগ থাকতে হবে ধর্মীয় আবেগের জন্য কোনো ভুল পথে পরিচালিত হলে বিভেদকামী শক্তির উত্থান রোখা যাবে না। কোথায় কখনও উস্কানিমূলক বক্তব্য শুনে প্রভাবিত হলে চলবে না বরং বিভেদকামী শক্তির বিরুদ্ধে জোটবদ্ধ হয়ে বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্যের দেশ ভারতকে বিপদে চালিত করাদের হাত থেকে রক্ষা করতে হবে। মনে রাখতে হবে দলিত ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নাগরিকদের ওপর যে চরম বৈষম্য ও বঞ্চিত করার চক্রান্ত চলছে তার প্রতিকার করতে হলে জোটবদ্ধ হাতে হবে।

৭২ বছর পেরিয়ে গেছে দেশ স্বাধীন হয়েছে তবুও আদি ভারতবাসীর প্রকৃত কল্যাণে কোনো রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা তেমন ভালো কাজ করতে পারেননি।  নিজেদের মধ্যে আর মারামারি নয় কোনো বিবাদ থাকলে তা এড়িয়ে চলুন একটুখানি বিশ্লেষণ করুন কে বা কারা নিজেদের স্বার্থ চরিতার্থ করতে এই বিবাদ ও বিভাজনের রাজনীতির উত্থান ঘটিয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলো ফায়দা লুটতে চাইছে কোন কৌশল অবলম্বন করে তা বুঝতে হবে। প্রতি নির্বাচনে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকাতে কাদের নাম উঠে আসে? দেখা যায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মুসলিম ও বহুজন সমাজের দলিত মানুষদের নাম। দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে যেন প্রতিযোগিতা চলছে কে কতটা বেশি দলিত ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নাগরিকদের ব্যবহার করতে পারবে এবং নিজেদের স্বার্থ চরিতার্থ করতে সক্ষম হবে।

ভারতীয় ঐতিহ্যময় ইতিহাসকে পুনরুজ্জীবিত করতে হলে জোটবদ্ধ হয়ে বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্যের বন্ধন সুদৃঢ় করতে হবে এবং হিন্দু ও মুসলিমদের মধ্যে ঐক্যের বন্ধন সুদৃঢ় করতে হবে।

সকলেই অবগত আছেন বিভেদকামী শক্তি ভারতকে বিপদে চালিত করছে তাই এখন আর কোনো বিভাজনের রাজনীতির উত্থানের পেছনে থাকলে চলবে না। এদিন মূল্যবান বক্তব্য রেখে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন মানব কল্যাণে নিবেদিত প্রাণ সর্বভারতীয় নবচেতনার সাধারন সম্পাদক ফারুক আহমেদ।

Leave a Reply

Your email address will not be published.