নদীয়ার পলশুন্ডায় ‘নব চেতনা’র মহতি উদ্যোগ

ক্রীড়া সংস্কৃতি

পুলকেশ ভট্টাচার্য,

সবর্ভারতীয় নবচেতনার উদ্যোগে পলশুন্ডায় সেচ্ছায় ৮০ জন রক্তদান করেন, দুস্থদের কম্বল বিতরণ ও কৃতি ছাত্র-ছাত্র-গুণীজন সংবর্ধনা দেওয়া হয় এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজনের মধ্য দিয়ে।

সবর্ভারতীয় নবচেতনার উদ্যোগে ২৫ নভেম্বর রবিবার সকালে পলশুনডার তরুণ সংঘ প্রাঙ্গণে এক মহতি স্বেচ্ছায় রক্তদান শিবির ও শিক্ষা-পেশা-সমাজসেবায় সফল ও বিশেষ কৃতিত্বের অধিকারীদের সংবর্ধনা, দুঃস্থ মানুষদের কম্বল ও বস্ত্র বিতরণ সহ বিনামূল্যে শ্রবণ-বাক-সমস্যার পরীক্ষা ও পরামর্শদান এবং ধর্ম যার যার দেশ সবার বিষয়ক আলোচনা চক্র অনুষঠিত হলো।

উক্ত অনুষঠানের উদ্বোধন করলেন সবর্ভারতীয় নবচেতনার সভাপতি ড. হুমায়ুন কবীর, আইপিএস, ডি আই জি, রাজ্য ট্রাফিক পুলিশ ও প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন সবর্ভারতীয় নবচেতনার কেন্দ্রীয় কমিটির আহ্বায়ক ও সাধারণ সম্পাদক ফারুক আহমেদ, সহ-অধিকর্তা দূরশিক্ষা বিভাগ, কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়, নবচেতনার কেন্দ্র কমিটির সদস্য অধ্যাপক মফিকুল ইসলাম, ফিরোজ হোসেন, মাসাদুর রহমান, ফিরদৌস রহমান, সামিউল হক, আবদুর রউফ।

এছাড়াও নবচেতনার নদীয়া জেলা কমিটির কর্মকর্তা
সফিকুল ইসলাম, ডাঃ সাবিকুল ইসলাম, মহঃ আসিফ ইকবাল, নবচেতনার তেহট্ট বল্ক কমিটির আহ্বায়ক, মোহাম্মদ সামি, হাসিবুর রহমান, ব্লক সম্পাদক, তেহট্ট, মোস্তফা কামাল, নবচেতনার মুর্শিদাবাদ জেলার সহ সভাপতি, আজিজ হক, সহ সম্পাদক, মুর্শিদাবাদ জেলা।

নদীয়া জেলার বিশিষ্ট অতিথিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন নাসির উদ্দিন আহমেদ, পি পি নদীয়া ও প্রাক্তন বিধায়ক, জুলফিকার আলী খান, অ্যাডিশনাল পি পি, ছন্দা বিবি খান, সভাপতি তেহট্ট-১ পঞ্চায়েত সমিতি, অসীম সাহা, বিশিষ্ট আইনজীবী, সুব্রত ঘোষ, সদস্য নদীয়া জেলা পরিষদ, মোঃ ইনাস উদ্দিন, যুগ্ম নিবন্ধক, সমবায় দপ্তর, রামনারায়ণ মুখার্জী, প্রাক্তন অধ্যক্ষ, জেসমিন হক, কৃষি সহ অধিকর্তা, জাফরুল্লা মোল্লা, বিশিষ্ট আইনজীবী, সাধন বিশ্বাস, সম্পাদক রেড ক্রস সোসাইটি, নজরুল হক, বিশিষ্ট আইনজীবী, আজিজ মল্লিক, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, ইসলামই শেখ, প্রধান শিক্ষক।

সর্বভারতীয় নবচেতনার নদীয়া জেলা কমিটির ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী সমাজসেবী ও প্রশাসনিক আধিকারিকের গৌরবময় উপস্থিতিতে এই মহত অনুষ্ঠানটি সাফল্য মন্ডিত হলো জানালেন নদীয়া জেলার সর্বস্তরের মানুষের কল্যাণে নিবেদিত প্রাণ তথা সর্বভারতীয় নবচেতনার নদীয়া জেলার সভাপতি ড. আবুল হোসেন বিশ্বাস।

সকল সচেতন মানুষ সর্বভারতীয় নবচেতনাতে যুক্ত হতে পারেন। ড. হুমায়ুন কবীর আইপিএস সাহেব “সর্বভারতীয় নবচেতনা” প্লাটফর্ম সৃষ্টির উদ্দেশ্যগুলি তুলে ধরেছেন।

১. মুসলিম ও অনগ্রসর যুব সম্প্রদায়ের সার্বিকভাবে মুসলিম ও অনগ্রসর সমাজের মধ্যে শিক্ষার উন্নয়ন ঘটানো। আমরা ধর্মীয় শিক্ষার বিরুদ্ধে নই, বরং যুব সমাজের মধ্যে শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য এর অপরিহার্যতা আমরা স্বীকার করি। কিন্তু মুসলিমদের সামাজিক ক্ষেত্রে ও ব্যক্তিজীবনে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার ব্যাপারে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থা। আমাদের এই প্লাটফর্মের উদ্দেশ্য হল মুসলিম ও অনগ্রসর ছাত্র/যুব সম্প্রদায়কে সেই লক্ষ্য অর্জনে সহায়তা ও উদ্বুদ্ধ করা।
২. লক্ষ্য করা গেছে যে পশ্চিমবঙ্গের মুসলিম সমাজের একাংশ ও অনগ্রসরদের বিভিন্ন ধরনের সামাজিক, রাজনৈতিক অপরাধ, বিভিন্ন বে আইনি কাজের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে। তাদের এই সব মন্দ ক্ষেত্র থেকে বিরত রাখার আপ্রাণ প্রচেষ্টা করা।

৩. আরো দেখা যাচ্ছে যে, মুসলিমরা ও অনগ্রসরা ভবিষ্যত বিষময় ফলাফলের কথা চিন্তা না করেই ব্যাপকভাবে বিভিন্ন রাজনৈতিক ক্রিয়াকলাপ, রাজনৈতিক হানাহানি এবং অন্য অনেক অবৈধ কাজে নিজেদের জড়িয়ে ফেলছে। মুসলিম সমাজে এর ফল হচ্ছে মারাত্মক। অনেক মুসলিম ও অনগ্রসরা এতে প্রাণ হারাচ্ছে, অনেকে আহত হচ্ছে, আবার অনেকেই মামলা-মোকদ্দমায় জড়িয়ে যাচ্ছে, যার প্রত্যক্ষ কুফল সেই মুসলিম ও অনগ্রসর পরিবারগুলিকে এবং সার্বিকভাবে মুসলিম সমাজকে ভুগতে হচ্ছে। আমরা চেষ্টা করবো তাদের এই খারাপ পথ ও পন্থাগুলির কুফল সম্পর্কে বুঝিয়ে সুপথে ফিরিয়ে আনতে।

৪. আমরা আন্তরিকভাবে মুসলিম যুবসমাজের জীবনের মানোন্নয়নের প্রচেষ্টা চালাবো।

৫.আমরা কঠোরভাবে নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রেখে এবং অন্য সমস্ত জাতি,ধর্ম, বর্ণের সব মানুষের প্রতি শ্রদ্ধা বজায় রেখে সহনশীলতার মহান আদর্শ বজায় রাখবো।

৬. আমরা কখনো কারো প্রতি ধর্মীয় বা সাম্প্রদায়িক একদেশদর্শীতা দেখাবো না।

৭. এককথায়, আমরা কখনোই সমাজের কারো প্রতি খারাপ মনোভাব পোষণ করবো না।

৮. আমাদের লক্ষ্য হবে প্রতিদ্বন্দ্বিতাময় সমাজে টিকে থাকার পথ অনুসন্ধান,অনুসরণ এবং সরকারি ক্ষেত্রে যে সব সুযোগ সুবিধা আছে সেগুলি সম্বন্ধে কওমের সকলকে সচেতন করা।

৯. আমরা চেষ্টা করবো ক্রমবর্ধমান অসহিষ্ণুতা ও সাম্প্রদায়িক আগ্রাসন থেকে নিজেদের সুরক্ষিত রাখার।

১০. আমাদের এই প্লাটফর্ম আমাদের সম্প্রদায়ের মানুষকে সময় সময় দেশের উন্নয়নের ও অগ্রগতির হালহকিকত সম্পর্কে অবগত করে এবং এ বিষয়ে আলোচনার মাধ্যমে নিজেদের এগিয়ে যাবার পন্থা অনুসন্ধান করবে।

১১. সমস্ত ধরণের মুসলিম সংগঠন, সে শিক্ষা, সমাজ, ধর্মীয় বা ধর্মনিরপেক্ষ যে কোনো ধরণের ই হোক না কেন, তাদের সঙ্গে যোগসুত্র গড়ে তোলা।

আমাদের লক্ষ্য হবে বেশি সংখ্যক মুসলিম ও অনগ্রসর সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছানো।

যদি আমরা সকলে ঐক্যমত হই এবং কাজ করি, তাহলে ভবিষ্যতে সমাজের এই দুর্বল শ্রেণীর কাছে পৌঁছে তাদের তুলে আনতে পারবো।

মুসলিমদের ও অনগ্রসরদের বঞ্চনার বিরুদ্ধে এবং মুসলিম সমাজের উন্নয়নের জন্য আমরা এমন একটি প্লাটফর্মের প্রয়োজনীতা অনুভব করেছি যাতে আমরা এই সমাজের উন্নয়নের জন্য আমাদের দাবী-দাওয়া সমন্বিত জোরালো আওয়াজ তুলতে পারি।

কিন্তু আমাদের সদস্যদের সদা সতর্ক ও সাবধান থাকতে হবে যে আমরা অন্য সম্প্রদায়ের মানুষের প্রতি যেন কোনোরূপ ঘৃণা বা বিদ্বেষ পোষণ না করে ফেলি।

সকলের প্রতি আমাদের বিনম্র ও শ্রদ্ধাশীল হতে হবে। আর অন্য যে বিষয়টি আমাদের বিশেষভাবে মনে রাখতে হবে তা হল, আমরা দেশের আইন কে মর্যাদা ও সতর্কতার সঙ্গে মেনে চলবো।আমাদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য পূরণে আমরা বিনীত ও বিনম্রভাবে এগিয়ে যাবো। এই বিনীত-বিনম্র কিন্তু দৃঢ় পদক্ষেপই আমাদের সাফল্য লাভের পথ হয়ে উঠবে।

“সর্বভারতীয় নবচেতনা”র আহ্বায়ক ফারুক আহমেদ সংযোজন করে বললেন এই মুহূর্তে বাংলার ২৩ টি জেলায় “সর্বভারতীয় নবচেতনা” মানুষের কল্যাণে যে সব বিষয় নিয়ে কাজ করছে।

১. ল সেল (আইনি সহায়তা দান)।

২. মেডিক্যাল সেল (চিকিৎসা সহায়তা দান)।

৩. শিক্ষা সেল (আধুনিক শিক্ষার প্রসার ঘটাতে সহায়তা)।

৪. কেরিয়ার কাউনসেলিং সেল (চাকরি পাওয়ার জন্য বা জীবিকায় প্রতিষ্ঠিত হওয়ার জন্য সুপরামর্শ দিয়ে সহায়তা)।

৫. সোশাল জাস্টিস সেল (সামাজিক ন্যায়বিচার পেতে সহায়তা)।

৬. মিডিয়া সেল (মত ও নীতি প্রচার সেল) ইত্যাদি।

সর্বভারতীয় নবচেতনাতে যুক্ত হতে চাইলে হটস্ অ্যাপ করুন এই নম্বরে 7003821298

Leave a Reply

Your email address will not be published.